1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

ইরান চুক্তি: ঐতিহাসিক মুহূর্ত, ঐতিহাসিক ভুল

অবশেষে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করলো নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্য সহ জার্মানি৷ ১৮ দিন ধরে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মঙ্গলবার সকালে চুক্তি সই হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত খবর পাওয়া গেছে৷

চুক্তির আওতায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি জাতিসংঘের কড়া নজরের মধ্যে আসবে৷ বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেবে পশ্চিমা বিশ্ব৷

জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে টুইট করেছে৷

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত' বলে অভিহিত করেছেন৷ অবশ্য চুক্তিটি কোনো পক্ষের জন্যই ‘পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়' বলেও মন্তব্য করেন তিনি৷

এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি চুক্তি সইয়ের ফলে ‘নতুন দিগন্ত'-এর সূচনা হয়েছে বলে টুইট করেছেন৷

তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক ভুল' বলে মন্তব্য করেছেন৷ শুধু তাই নয়, চুক্তির আওতায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার ফলে ইরান যে অর্থ পাবে তা দিয়ে তারা মধ্যপ্রাচ্য সহ সারা বিশ্বে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করবে বলেও মন্তব্য করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী৷

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লোরঁ ফাবিউস মনে করছেন ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি অন্তত ১০ বছর পর্যন্ত ঠিক থাকবে৷

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ-র প্রধান ইউকিয়া আমানো বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে একটি ‘রোডম্যাপ' স্বাক্ষর করেছেন৷ এর আওতায় ইরানের সম্ভাব্য পরমাণু অস্ত্র তৈরির পদক্ষেপগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে৷ এরপর চলতি বছরের ১৫ই ডিসেম্বরের মধ্যে আইএইএ-র পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে৷

আগের কথা

ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ ছিল, ইরান তার পরমাণু কর্মসূচির আড়ালে আসলে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চাইছে৷ কিন্তু ইরান সবসময় সেটা অস্বীকার করে বলেছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচির উদ্দেশ্য চিকিৎসা সেবা ও গবেষণা৷

ইরান যেন পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সেজন্য তাদের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করতে পশ্চিমা বিশ্ব অনেকদিন ধরে আলোচনা চালিয়ে আসছিল৷ কিন্তু তাতে কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছিল না৷ ২০১৩ সালে ইরানের উদারপন্থি প্রেসিডেন্ট রুহানি ক্ষমতায় যাওয়ার পর থেকেই মূলত চুক্তির বিষয়ে সম্ভাবনা তৈরি হয়৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও তাঁর পররাষ্ট্র নীতিতে ইরান চুক্তিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন৷ ফলে দুই দেশের আগ্রহে ২০১৩ সালের নভেম্বরে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি সই হয়েছিল৷ পরে যেটা চূড়ান্ত চুক্তিতে পরিণত হওয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু ২০১৪ সালে দু'বার সময় নির্ধারণ করার পরও সেটা সম্ভব হয়নি৷ এরপর আবার চলতি বছর জুনের ৩০ তারিখের মধ্যে একটি চুক্তি সইয়ের ব্যাপারে দু’পক্ষই উদ্যোগ নেয়৷ পরে সেই সময়সীমাও দুবার পিছিয়ে অবশেষে একটি চুক্তি সই হলো৷

জেডএইচ/এসবি (এএফপি, রয়টার্স, ডিপিএ)

নির্বাচিত প্রতিবেদন