1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

ইউরোপ

‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানুষকে চাঁদ-সূর্য দিতে পারে না’

‘ব্রেক্সিট’ বা ব্রিটেনের বিদায়ের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন কি আদৌ টিকে থাকতে পারবে? থাকলে কেমন রূপ হবে সেই কাঠামোর? রাষ্ট্রজোটের ৬০ বছরের জন্মদিনে মোট পাঁচটি মডেল নিয়ে আলোচনা শুরু হচ্ছে৷

ইইউ থেকে ব্রিটেনের বিদায় নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনার প্রক্রিয়ায় হয়তো কিছুটা বিলম্ব হবে৷ তবে ‘ব্রেক্সিট'-এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ থেমে যাবে না

কিন্তু এতকাল যেমনটা চলে আসছিল, সেভাবেই সব চলবে – এমনটা আশা করা কঠিন৷ কারণ বাকি ২৭টি দেশের মধ্যেও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে৷ একাধিক সংকটের ফলে রাষ্ট্রজোট হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিয়ে ঐকমত্য বার বার ধাক্কা খাচ্ছে৷ চলতি বছর ৬০ বছর পূর্ণ করছে ইউরোপীয় সমন্বয় প্রক্রিয়া৷ এই অবস্থায় ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জঁ ক্লোদ ইয়ুঙ্কার সদস্য দেশগুলির শীর্ষ নেতাদের জন্য পাঁচটি মডেলের খসড়া তৈরি করেছেন৷

এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কের পর আগামী বছরের শেষে শীর্ষ নেতারা মিলিত হয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন – এমনটাই তাঁর প্রস্তাব৷

অনেকটা কোণঠাসা অবস্থায় মরিয়া হয়ে এই পদক্ষেপ নিলেন ইয়ুঙ্কার৷ ইইউ-র ভাবমূর্তি প্রায় তলানিতে ঠেকেছে৷ ব্রাসেলসের ঘাড়ে সব দোষ চাপানোর প্রবণতা বন্ধ করা যাচ্ছে না৷ তবে ইয়ুঙ্কারের মডেল প্রস্তাবগুলি নিয়েও তর্ক-বিতর্ক কম হবে না, তা একপ্রকার নিশ্চিত, কারণ:

‘যেমন চলছে চলুক’ নীতি আঁকড়ে ধরে থাকা সবচেয়ে সহজ বিকল্প হলেও এমন অবস্থান নিলে মৌলিক সমস্যাগুলির সমাধান করা কঠিন হবে৷

‘একক সাধারণ বাজার’ মডেলে ফিরে গেলে এতকালের অনেক অর্জন বিফল হয়ে যাবে৷ সে সব বিষয় আবার জাতীয় সরকারগুলির এক্তিয়ারে চলে যাবে৷ কিন্তু তার ফলে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবার আনন্দ থাকলেও অনেক সমস্যারই একক সমাধান সম্ভব নয়৷

‘বিভিন্ন গতির ইউরোপ’ মডেল বর্তমান অনেক সংকটের সহজ সমাধান হতে পারে৷ কিছু সদস্য রাষ্ট্র মিলে নির্দিষ্ট বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে যাবে, বাকিরা সেই কাঠামোর বাইরে থাকবে৷ এর ফলে অবশ্য স্বচ্ছতার অভাব দেখা দেবে, ইইউ-র মধ্যে সাম্য বিনষ্ট হবে৷

‘মৌলিক ক্ষমতাগুলিত্যাগ’ করলে ইইউ আরও দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারবে বটে, কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে ইইউ ক্ষমতা ধরে রাখবে, তা নিয়ে ঐকমত্য অর্জন করা সহজ হবে না৷

‘সহযোগিতা কমানোরবদলে আরও সম্প্রসারণ’ করলে ইইউ প্রায় এক ফেডারেল রাষ্ট্রে পরিণত হবে৷ কিন্তু বর্তমানে এই ভাবমূর্তিই ইইউ-র বড় সমস্যা৷ অনেকেই মনে করে যে গণতান্ত্রিক বৈধতা ছাড়াই ব্রাসেলসের হাতে বড় বেশি ক্ষমতা চলে গেছে৷

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিতে চান৷ তাঁর মতে, ইউরোপের মানুষকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে হবে, ইইউ কী করতে পারে এবং কী পারে না৷ তিনি বলেন, ‘‘তাদের হাতে চাঁদ ও সূর্য তুলে দেওয়া সম্ভব নয়, আমরা শুধু টেলিস্কোপ দিতে পারি৷’’ অর্থাৎ বাস্তবের ভিত্তিতে প্রত্যাশার মাত্রা বেঁধে দিয়ে ইইউ-র ভাবমূর্তির উন্নতি করতে চান তিনি৷

আগামী ২৫শে মার্চ ইটালির রাজধানী রোমে ইইউ-র ৬০তম জন্মদিন পালনের সময়ে শীর্ষ নেতারা এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে চলেছেন৷

এসবি/ডিজি (রয়টার্স, এএফপি)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়