1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বিশ্ব

অভ্যুত্থান প্রয়াসে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড হতে পারে

সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ করার পর তুরস্কে ব্যাপক দমনাভিযান চলছে৷ প্রায় ৬ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে৷ মৃতের সংখ্যা প্রায় তিনশ’৷ প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান বলেছেন, অভ্যুত্থানের চেষ্টায় জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে৷

ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনায় তুরস্কে এ পর্যন্ত ২৯৪ জন মারা গেছে৷ আটক করা হয়েছে ৬ হাজার জনকে৷ তবে বিচারমন্ত্রী বেকির বোজদাগ জানিয়েছেন, আটকের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে৷আটকদের মধ্যে উচ্চপদস্থ সেনা সদস্য ও ২ হাজার ৭৪৫ বিচারক রয়েছে৷ ৫০ জনেরও বেশি সেনাকে রোববার পশ্চিমাঞ্চলীয় দেনিজি প্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়৷

বর্তমান পরিস্থিতি

সোমবার সকালেও তুরস্কের আকাশে যুদ্ধবিমান টহল দিয়েছে৷ এর্দোয়ান সরকারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা এপিকে জানান, সরকারের বিরুদ্ধে আবারও হুমকি আসতে পারে আর এ কারণেই এই সতর্কতা৷

বিদ্রোহীদের মৃত্যুদণ্ড

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এর্দোয়ান রবিবার বলেছেন, যারা এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত ছিল অবিলম্বে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে৷ তুরস্ক সেই ১৯৮৪ সাল থেকে কারো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেনি৷ তাছাড়া, ২০০৪ সালে তুরস্কের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেওয়ার চেষ্টার অংশ হিসাবে আইনগতভাবে মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করা হয়৷ সে বছরই মৃত্যুদণ্ড বাতিলও করা হয়৷

তবে এর্দোয়ান বলেছেন, ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে চরম মূল্য দিতে হবে এবং সেই মূল্যটা মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে৷ এদিকে, এর্দোয়ানের এই ঘোষণার পর অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সেবাস্টিয়ান কুর্জ বলেছেন, ‘‘তুরস্কে আবার নতুন করে মৃত্যুদণ্ড বহালের বিষয়টি মেনে নেয়া যায় না৷''

এর ফলে তুরস্কের ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়ার বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে৷ সোমবার অনুষ্ঠানরত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠকের পর এ বিষয়ে কিছুটা আভাস পাওয়া যেতে পারে৷

অভিযোগের আঙুল যার দিকে

সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ করার পর ব্যাপক দমনাভিযান শুরু করেছে তুরস্কের সরকার৷ রয়টার্স জানায়, রবিবার গণ সমাবেশে কিছু এর্দোয়ান সমর্থক অভ্যুত্থান-চেষ্টাকারীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি তোলে৷ ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার জন্য স্বেচ্ছা-নির্বাসনে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করেছেন এর্দোয়ান৷ তাঁর জোরালো দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আশ্রয়ে থাকা গুলেনই সেনা বিদ্রোহের হোতা৷ গুলেন দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় থাকলেও, তুরস্কে তাঁর প্রভাব আছে৷ ‘হিজমেত মুভমেন্ট' নামের একটি জনপ্রিয় আন্দোলনের প্রধান তিনি৷

অভ্যুত্থানবিরোধী সমাবেশ

রবিবার তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ‘গণতন্ত্র রক্ষায়' কর্তৃপক্ষের ডাকা সমাবেশগুলোতে ব্যাপক লোক সমাগম হয়৷ কর্তৃপক্ষের ডাকে অভ্যুত্থান পরিকল্পনা প্রতিহত করতে হাজার হাজার মানুষ তুরস্কের রাজপথে নেমে এসেছিল৷ প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান ইস্তাম্বুলের সমাবেশে যোগ দেন৷

স্মার্টফোনে এর্দোয়ানের ভাষণ

উপকূলীয় শহর মারমারিসে অবকাশ যাপন করছিলেন প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ান৷ সে অবস্থাতেই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার খবর পেয়ে স্মার্টফোনে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন তিনি৷ ভাষণে জনগণকে অভ্যুত্থান প্রতিরোধে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান৷ আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁর বিপুল সংখ্যক সমর্থক রাস্তায় নেমে আসে এবং অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়৷

শনিবার ভোরে বিদ্রোহী সেনারা আত্মসমর্পণ করে৷ অভ্যুত্থানের পরই ইস্তাম্বুল পৌঁছে এক ভাষণে এর্দোয়ান বলেন, ‘‘সেনাবাহিনীর ক্ষুদ্র একটি দল অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিল, তারা রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ করেছে৷''

শুক্রবার যা ঘটেছিল

শুক্রবার রাতে তুরস্কের সেনাবাহিনীর একটি অংশ অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে৷ স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেনাবাহিনী রাজপথে অবস্থান নেয়৷ তারা ইস্তাম্বুলের বসফরাস ও সুলতান মেহমুত সেতুর উপর অবস্থান নিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়৷ এরপর তারা সিএনএন-তুর্ক টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমেরও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়৷ প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ানের দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি)-র ইস্তাম্বুলের দপ্তরেও হানা দেয় বিদ্রোহী সেনা সদস্যরা৷ তবে গণপ্রতিরোধের মুখে তাদের সব প্রয়াসই ব্যর্থ হয়েছে৷

এপিবি/এসিবি (এপি, এএফপি, রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়