1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

বাংলাদেশ সীমান্তে ২৪ ঘণ্টায় ১০টি ‘পুশ-ইন' ঠেকানোর দাবি

৪ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ‘অবৈধভাবে' মানুষ পাঠানোর (পুশ-ইন) ১০টি পৃথক চেষ্টা ঠেকানোর কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)৷

https://p.dw.com/p/5Epkm
প্রতীকী ছবি
২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ‘অবৈধভাবে’ মানুষ পাঠানোর (পুশইন) ১০টি পৃথক চেষ্টা ঠেকানোর কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)৷ছবি: Arafatul Islam/DW

একই সঙ্গে এ ধরনের সম্ভাব্য ‘পুশ-ইন' প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি গোয়েন্দা নজরদারিসহ টহল কার্যক্রম জোরদার করেছে বলেও জানিয়েছে তারা৷

আজ বৃহস্পতিবার বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়৷

ঘটনগুলোর বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঝিনাইদহে বিজিবির মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে চার থেকে পাঁচ ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়৷ বিজিবির টহল দল বাধা দেয়৷ বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন৷

ঝিনাইদহের মহেশপুরের সামন্তা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আনা হয়৷ সীমান্তের গেট খুলে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়৷ বিজিবির টহল দল ও স্থানীয় জনসাধারণের প্রতিরোধের মুখে ওই ব্যক্তিদের আবার ভ্যানে তুলে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ৷

সীমান্তে কথিত বাংলাদেশিদের হস্তান্তরের খবরে বিজিবি যা বলছে

বিজিবির খুলনা ব্যাটালিয়নের (২১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্ত এলাকায় কয়েকজন নারী-পুরুষকে পুশ-ইন করার উদ্দেশ্যে অবস্থান করতে দেখা যায়৷ বিজিবির প্রতিরোধমূলক তৎপরতায় বিএসএফ তাদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়৷

জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের (২০ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতীয় অংশে প্রায় ১০ ব্যক্তিকে একত্র করে পুশ-ইন করার প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া যায়৷ বিজিবি তাৎক্ষণিক সতর্কতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করে৷ গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোয় বিএসএফের এই প্রয়াস ব্যর্থ হয়৷

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩ বিজিবি) আওতাধীন সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফ ক্যাম্পের কাছের তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে এসআইআর তালিকা থেকে বাদ পড়া চারজন মুসলমানকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে বলে গোয়েন্দাসহ অন্য সূত্রে জানা যায়৷ বিজিবি সেখানে কঠোর অবস্থান ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়৷

ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়নের (৫০ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ হরিপুর সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের কাকরমনি ক্যাম্পের টহল দল দুই বাংলাদেশিকে আটক করে হেফাজতে রেখেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়৷ এ বিষয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বিজিবির সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি৷

পঞ্চগড় ব্যাটালিয়নের (১৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ রওশনপুর সীমান্তে বিএসএফ এক ব্যক্তিকে পুশ-ইন করে৷ স্থানীয় জনগণ তাকে আটক করে বিজিবিকে জানান৷ বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে৷ পরে তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠানো হয়৷

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তের বিপরীতে ভারতের মালদাহ জেলার ইংলিশ বাজার থানার চন্দনপার্ক নামের স্থানে ভারতীয় পুলিশ স্থাপিত একটি হোল্ডিং সেন্টারে আটক ২২ জনকে পুশ-ইন করার লক্ষ্যে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের তথ্য পাওয়া যায়৷ বিজিবি সেখানে কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে৷

সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ উৎমাছড়া সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে স্থানীয় জনগণ আটক করেন৷ তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়৷ যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়৷ পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের ভারতে ‘পুশ-ব্যাক' করা হয়৷

এ ছাড়া নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের মহাদেব থানার বলিশী গীতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫-২০ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার উদ্দেশ্যে একত্র করার তথ্য পাওয়া যায়৷ সীমান্তের একটি অংশে প্রাকৃতিক কারণে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় এলাকাটি দিয়ে পুশইন করার আশঙ্কা বিবেচনায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে৷

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানাচ্ছে, সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না৷ আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থী যেকোনো পুশ-ইন করার প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে৷ সীমান্তে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে৷ দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ৷ তারা যে-কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে৷

এসিবি/ জেডএইচ (প্রথম আলো)