1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
অভিবাসনসার্বিয়া

সার্বিয়া সীমান্তে পরিত্যক্ত কারখানায় অভিবাসীদের মানবেতর জীবন

আরাফাতুল ইসলাম মায়দান, সার্বিয়া থেকে
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২

হাঙ্গেরি সীমান্তের কাছে সার্বিয়ায় একটি পরিত্যক্ত ভবনে করুণ জীবনযাপন করছেন বিভিন্ন দেশের কয়েকজন অভিবাসী৷ ইউরোপের বহিঃসীমান্তরক্ষী বাহিনী ফ্রন্টেক্সের হাতে তারা নিগ্রহের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন৷

https://p.dw.com/p/47BfZ
হাঙ্গেরি সীমান্তের কাছে সার্বিয়ায় একটি পরিত্যক্ত ভবনে করুণ জীবনযাপন করছেন বিভিন্ন দেশের কয়েকজন অভিবাসী৷ ইউরোপের বহিঃসীমান্তরক্ষী বাহিনী ফ্রন্টেক্সের হাতে তারা নিগ্রহের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন৷
আগুন জ্বালিয়ে তীব্র ঠান্ডা থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টায় দুই অবিবাসী ছবি: Anupam Deb Kanunjna/DW

ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে ভবনটি দেখে বোঝার উপায় নেই তার ভিতরে কেউ আছেন কি না৷ চারদিকে ছড়ানো ছিটানো কারখানার ভাঙ্গা যন্ত্রপাতি৷ খসে পড়েছে ছাদের পলেস্তারা৷ কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর ভবনের শেষ মাথায় আলোর দেখা মিলল৷ আগুন জ্বালিয়ে তীব্র ঠান্ডা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন কয়েকজন৷ তাদের একজন আব্দুর রহমান৷ জানালেন, অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণে এক বছর আগে তিনি লাইবেরিয়া থেকে এখানে আসেন৷ তুরস্ক, গ্রিস, আলবেনিয়া হয়ে পৌঁছান সার্বিয়ায়৷ লক্ষ্য সীমান্ত পেরিয়ে হাঙ্গেরি হয়ে ইউরোপের অন্য কোনো দেশে পাড়ি জমানো৷ সেই চেষ্টায় এখন সীমান্তবর্তী মায়দান গ্রামের এই কারখানায় তিনি আশ্রয় নিয়েছেন৷

‘‘আমি রোমানিয়া যাওয়ার চেষ্টা করি, সেখানে ফ্রন্টেক্স আমাকে বাধা দেয়৷ এবং সার্বিয়ায় জোর করে ফেরত পাঠায়,’’ এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি৷

অনিয়মিত পথে আসা এমন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ৷ তবে তাদের চোখ ফাঁকিয়ে দিয়ে আব্দুর রহমানের মতো কেউ কেউ সীমান্ত পাড়ি দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন৷ কিন্তু এজন্য নানা দুর্দশা ভোগ করছেন তারা৷ শুধু থাকার জায়গার সংকট নয় প্রয়োজনীয় খাবার, স্বাস্থ্য সেবাও পাচ্ছেন না৷ বুধবার রাতে ডয়চে ভেলের আরাফাতুল ইসলাম ও অনুপম দেব কানুনজ্ঞর কাছে কয়েকজন তুলে ধরেন তাদের দুর্দশার কথা৷

মোহাম্মদ নামে এক অভিবাসী জানালেন তিনি হৃদরোগে ভুগলেও কোনো চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন না৷ এই বিষয়ে কোনো সংস্থাও তাকে সহযোগিতা করছে না৷

সার্বিয়ায় আসা এই সব অভিবাসী, শরণার্থীর মূল গন্তব্য পশ্চিম ইউরোপ৷ বলকান রুটে অনিয়মিত পথে পাড়ি জমানো এই অভিবাসীরা সার্বিয়াকে ‘ট্রানজিট' হিসেবে ব্যবহার করেন৷ এখান থেকে কেউ কেউ ক্রোয়েশিয়া, স্লোভেনিয়া হয়ে ইউরোপের কাঙ্খিত দেশে পৌঁছাতে চেষ্টা করেন৷ অনেকে আবার রোমানিয়া, হাঙ্গেরি সীমান্ত অতিক্রমের উপায় খোঁজেন৷ সীমান্ত পেরোতে গিয়ে দেশগুলোর পুলিশ বা ইউরোপীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তারা নিগ্রহের শিকার হন বলে প্রায়ই অভিযোগ আসে৷ 

ভবনটিতে আশ্রয় নিয়েছেন সিরিয়া, লিবিয়া, ফিলিস্তিন, ইরাক, আলজেরিয়ার অভিবাসী ও শরণার্থীরা
ভবনটিতে আশ্রয় নিয়েছেন সিরিয়া, লিবিয়া, ফিলিস্তিন, ইরাক, আলজেরিয়ার অভিবাসী ও শরণার্থীরাছবি: Anupam Deb Kanunjna/DW

গত সপ্তাহে সার্বিয়াতে আসা অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে দেশটির পুলিশ৷ হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ও ক্রোয়েশিয়া সীমান্ত সংলগ্ন দেশটির কিকিন্দা, সাবোটিকা ও সোম্বার থেকে কয়েকশ অনিয়মিত অভিবাসীকে বাধা দিয়ে ক্যাম্পগুলোতে নিয়ে যাওয়া হয়৷

মায়দানের এই কারখানাতে আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ছিলেন৷ পুলিশের অভিযানের পর আব্দুর রহমানের মতো কয়েকজন এখন লুকিয়ে রয়েছেন৷ তাদের মধ্যে রয়েছেন সিরিয়া, লিবিয়া, ফিলিস্তিন, ইরাক আলজেরিয়ার অভিবাসী ও শরণার্থী৷ ছোট ছোট তাঁবুর মধ্যে তীব্র ঠান্ডায় তারা বসবাস করছেন৷ আব্দুর রহমানের দাবি, সার্বিয়ায় অভিবাসী, শরণার্থীদের যে ক্যাম্প রয়েছে সেগুলোর পরিস্থিতিও ততটা ভালো নয়, তাই এই পরিত্যক্ত কারখানাকেই তারা বেছে নিয়েছেন৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য