1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

শুনশান দিল্লিতে ভিড় শুধু চাল, ডাল কিনতে

গৌতম হোড়
২৫ মার্চ ২০২০

আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন। দিল্লির রাস্তা জনশূন্য। ভিড় কেবল চাল, ডাল কেনার জন্য।

https://p.dw.com/p/3ZzcM
ছবি: DW/S. Ghosh

সারা দেশে সম্পূর্ণ লকডাউনের পর প্রথম দিনের দিল্লি। চিত্তরঞ্জন পার্কে বাড়ির পাশের বড় রাস্তা শুনশান। মাঝে মধ্যে দুই একটা মোটর সাইকেল চলছে। গাড়ি প্রায় নেই বললেই চলে। একটু এগিয়ে সুপারমার্কেট। বন্ধ। কারণ, কোনও জিনিস আসেনি। যাঁরা সুপারমার্কেটে কাজ করেন, তাঁরাও আসতে পারেননি।

সামনে বাজার। শুনশান। খোলা শুধুমাত্র মাদার ডেয়ারির দুধের স্টল এবং একটা মুদির দোকান। জনা চার পাঁচ ক্রেতা। দোকানি সুব্রত ও তাঁর জনা তিনেক কর্মচারি। মাঝে মাঝেই ফোন আসছে হোম ডেলিভারির অনুরোধ নিয়ে। সুব্রত সবিনয়ে জানাচ্ছেন, জিনিস নিতে গেলে আসতে হবে। হোম ডেলিভারি সম্ভব নয়। আটা শেষ। মুসুর ডাল শেষ।  চাল আছে। তবে তা দ্রুত শেষ হচ্ছে। সামনেই জনা তিনেক লোক দশ কিলো করে চাল নিয়ে নিলেন। উড়ে যাচ্ছে ডিমের ক্রেট, পাঁউরুটি, মাখন, চিপস।

স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মশলা কিনতে এসেছিলেন শোভন বসু। মশলা কিনে টাকা দিয়ে দিয়েছিলেন। স্ত্রী তিনটে চিপসের প্যাকেট এনে ধরালেন। শোভন বললেন, ''কালকেই তো নিলে।'' স্ত্রীর জবাব, ''থাক, লাগবে।'' ডয়চে ভেলেকে শোভন জানালেন, ''বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখতে এসেছিলাম, দোকান খোলা আছে কি না। দেখলাম, একটাই দোকান খোলা। তাই কিছু মশলা কিনে নিয়ে যাচ্ছি। চাল, ডাল আছে। চলে যাবে।''

সলিল নন্দি চাল, আর ডিম কিনে নিয়ে গেলেন। কেক, বিস্কিট পেলেন না। ডয়চে ভেলেকে তিনি বললেন, ''দেখছিলাম, মাংসের দোকান খোলা কি না। বন্ধ। মাছও নেই।  ডিমই ভরসা।'' মাছে-ভাতে বাঙালি বলে কথা। লক ডাউনের বাজারেও তাই মাছের সন্ধানে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েছেন সলিল। কিন্তু লকডাউনের বাজারেসবজি, ডিম পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু মাছ বা মাংসের কোনও সম্ভাবনাই নেই। অন্তত দিল্লিতে। তবে সরকারি নির্দেশে যে সব দোকান খোলা থাকার কথা বলা রয়েছে, তার মধ্যে মাছ ও মাংসও আছে। তবে দোকান খুলবে কে?

চিত্তরঞ্জন পার্কের মাছের অধিকাংশ বিক্রেতা তো বেশ কিছুটা দূরের খাদাড় থেকে আসেন। বাস, মেট্রো, অটো, ট্যাক্সি কিছুই চলছে না। তার ওপর বাইরে বেরলেই পুলিশ জরিমানা করে দিয়েছে। সরকারি নির্দেশনামায় বলা হয়েছে, লকডাউন ভঙ্গ করলে ছয় মাস পর্যন্ত জেল বা জরিমানা বা দু'টোই হতে পারে। তার পর আর কে ঝুঁকি নেয়। আগে তো প্রাণ বাঁচানো।

এও এক নতুন পরীক্ষা। বিশেষ করে দিল্লির কাছে। পাঁচ দশক ধরে তো কোনও যুদ্ধ হয়নি। কার্গিলের লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল সীমান্তে। তার জন্য দিল্লি বা সারা দেশে তো কার্ফু হয়নি। লকডাউনও নয়। তাই বাড়িতে বসে থাকার, শুধু পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরীক্ষা। প্রতীম মুখোপাধ্যায় কাজ করেন একটি বিদেশি টেলিকম কোম্পানিতে। ডয়চে ভেলেকে তিনি জানিয়েছেন,  ''ওয়ার্ক ফ্রম হোম হয়ে গিয়েছে। তাই বাড়ি থেকে কাজ করছি। বাকি সময়টা বন্ধুদের সঙ্গে অনলাইনে লুডো খেলছি, চ্যাট করছি। ভিডিও কলে কথা বলছি নিকটজনের সঙ্গে।'' বলা যায়, মোবাইলই মানসিকভাবে চাঙ্গা রেখেছে তাঁদের।