1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

শহীদুলের মুক্তির দাবিতে বার্লিনে কর্মসূচি

১২ নভেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশে কারাবন্দি আলোকচিত্রী এবং মানবাধিকার কর্মী শহীদুল আলমের মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার বার্লিনে এক প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে৷ মঙ্গলবার তাঁর কারাভোগের একশ' দিন পূর্ণ হবে৷

https://p.dw.com/p/386JE
ছবি: Getty Images/AFP/M. Uz Zaman

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুলশিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও ছবি প্রকাশ করেছিলেন দৃকের প্রতিষ্ঠাতা শহীদুল আলম৷ সেসময় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করেন তিনি৷

সেই আন্দোলন চলাকালেই পাঁচ আগস্ট রাতে সাদা পোশাক পরিহিত একদল ব্যক্তি জোর করে শহীদুলের বাড়িতে প্রবেশ করে প্রথমে তাঁকে অজ্ঞাত গন্তব্যে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায়৷ আটকের পর তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে আদালত প্রাঙ্গণে জানান ডয়চে ভেলের অধুনালুপ্ত দ্য ববস অ্যাওয়ার্ডের অন্যতম বিচারক শহীদুল আলম৷

তাঁর বিরুদ্ধে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও সামাজিক গণমাধ্যমে ‘অসত্য ও উস্কানিমূলক তথ্য ছড়ানোর' অভিযোগ আনা হয়েছে৷ তবে সেসব অভিযোগ এখনো প্রমাণে সক্ষম হয়নি তদন্তকারীরা৷ তা সত্ত্বেও ঢাকার বিভিন্ন আদালতে একাধিকবার তাঁর জামিন আবেদন বাতিল হয়েছে৷ ফলে, প্রায় একশ' দিন ধরে কারাগারেই আছেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামধন্য এই মানবাধিকার কর্মী৷

এদিকে, শহীদুলের কারাবাসের শততম দিনে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে এক প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেছে আন্তর্জাতিক অধিকার বিষয়ক সংগঠন ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ)৷' এতে সংগঠনটির সঙ্গে সম্পৃক্তরা ছাড়াও বার্লিনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে৷

এই প্রসঙ্গে আরএসএফ জার্মানির নির্বাহী পরিচালক ক্রিস্টিয়ান মিয়ার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘‘শহীদুলকে একমাস যাবত ‘অবৈধভাবে' ঢাকায় কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে, কেননা একজন আলোকচিত্রী হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের উপর সহিংস হামলার ছবি তুলেছিলেন৷ রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স জার্মানি তাঁর মুক্তির দাবিতে গোটা বিশ্বে প্রচারণা চালাচ্ছে৷’’

শহীদুলের কারাভোগের একশতম দিনে তাঁর মুক্তির দাবিতে বার্লিন ছাড়াও ঢাকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের কথা জানা যাচ্ছে৷ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ফ্রি শহীদুল’ ব্যানারে এসব কর্মসূচির তথ্য প্রচার করা হচ্ছে৷ টুইটারে ইংরেজিতে ‘ফ্রিশহীদুলআলম’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে অনেকে তাঁর মুক্তি দাবি করেছেন৷ জার্মানির সংসদ সদস্য ফ্রাঙ্ক শোয়াবে তাঁর টুইটার ঠিকানাতে এই হ্যাশট্যাগটি ব্যবহার করছেন৷

উল্লেখ্য, শহীদুল আলমকে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে৷ এই ধারা বাকস্বাধীনতার পরিপন্থি বলে দীর্ঘদিন ধরেই সেটি বাতিলের দাবি করে আসছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন৷

সংকলন: আরাফাতুল ইসলাম
সম্পাদনা: জাহিদুল হক