1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

শরণার্থী ও অভিবাসন: ইউরোপের দরজা কি বন্ধ করা হচ্ছে?

২ জুন ২০২৬

অভিবাসন বিষয়ক গবেষকরা চান, ইউরোপীয় সরকারগুলো বিচ্ছিন্ন করা বা দূরে রাখার নীতি থেকে সরে আসুক৷ কিন্তু অনেক রাজনীতিবিদই এ আহ্বানে কর্ণপাত করছেন না৷

https://p.dw.com/p/5Ejk8
প্রতীকী ছবি
গ্লোবাল রিফিউজি ক্রাইসিস ২০২৬' শীর্ষক প্রতিবেদনের সহ-সম্পাদক পেত্রা বেন্ডেলের আশঙ্কা, ‘‘ইউরোপের বহি-সীমান্তগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বন্দিশিবিরের আদলে তৈরি করা আবাসনের পরিসর আরো বাড়তে পারে৷''ছবি: DesignIt/Zoonar/picture alliance

গতকাল সোমবার প্রকাশ করা হয়েছে ‘গ্লোবাল রিফিউজি ক্রাইসিস ২০২৬' শীর্ষক প্রতিবেদন৷ এটি মূলত এক ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন প্রতিবেদনের সহ-সম্পাদক পেত্রা বেন্ডেল৷ প্রতিবেদনটি উপস্থাপনের সময় জার্মানির বাভারিয়ার এরলাঙ্গেন-নুরেমবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পেত্রা ‘কমন ইউরোপীয় অ্যাসাইলাম সিস্টেম' (সিইএএস)-এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন৷ সিইএএস আইনি কাঠামোটি ২০২৪ সালে গৃহীত হয়েছিল৷ আগামী ১২ জুন থেকে তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-র সব সদস্য রাষ্ট্রে আইনত বাধ্যতামূলক হিসেবে কার্যকর হবে৷ সিইএস কার্যকর হওয়ার আগে পেত্রা বেন্ডেলের আশঙ্কা, ‘‘ইউরোপের বহি-সীমান্তগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বন্দিশিবিরের আদলে তৈরি করা আবাসনের পরিসর আরো বাড়তে পারে৷''

যে শরণার্থীদের আশ্রয় পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে হবে, তাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের তৃতীয় কোনো দেশের ‘রিটার্ন হাব' বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে রাখার পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেন পেত্রা বেন্ডেল৷ তবে ইইউর অভিবাসন বিষয়ক কঠোরতর নীতির এ বৈশিষ্ট্যকে সম্প্রতি জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়ন (সিএসইউ) দলের নেতা আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট ‘উদ্ভাবনী' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন৷

গ্লোবাল রিফিউজি ক্রাইসিস ২০২৬' শীর্ষক প্রতিবেদন হাতে প্রতিবেদনের সহ-সম্পাদক পেত্রা বেন্ডেলে
পেত্রা ব্রেন্ডেল মনে করেন, ইউরোপে সুরক্ষা চাইতে এসে এখন অনেকে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, ভবিষ্যতে তাদের তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে৷ ‘‘বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের'' জন্য সংকট আরো ঘনীভূত হবে বলে আশঙ্কা তার৷ছবি: dts Nachrichtenagentur/IMAGO

তবে এ ধরনের প্রত্যাবাসন কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কয়েকটি সহযোগীসুলভ দেশের ওপর নির্ভর করতে হবে৷ এমন সহযোগিতা আফ্রিকাতেই বেশি পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে এনেঠে টিউনিসিয়া ও মিশরের নাম, কারণ এই দেশগুলো আর ইউরোপের মাঝে রয়েছে শুধু ভূমধ্যসাগর৷ সুতরাং বেশি দূরে নয়, আবার ইউরোপেও নয়৷ তবে ভৌগোলিকভাবে ইউরোপের চেয়ে আরো দূরের দেশ রুয়ান্ডা ও উগান্ডার মতো দেশেও অবশ্য প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের কথা ভাবা হচ্ছে৷

আফগানদের বেলায় যা হয়েছে...

পেত্রা ব্রেন্ডেল মনে করেন, ইউরোপে সুরক্ষা চাইতে এসে এখন অনেকে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, ভবিষ্যতে তাদের তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে৷ ‘‘বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী ও ব্যক্তিদের'' জন্য সংকট আরো ঘনীভূত হবে বলে আশঙ্কা তার৷

পেত্রা ব্রেন্ডেলের মতে, আফগানিস্তান থেকে আসা মানুষদের পুনর্বাসন কর্মসূচিগুলো এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ৷ জার্মান সরকার আফগানদের পুনর্বাসন কর্মসূচিগুলো স্থগিত করার পর থেকে আরো অনেক মানুষ মৌলবাদী তালেবানের নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন৷ এখনো অনেক আফগান অভিবাসনপ্রত্যাশী আটকা পড়ে আছেন পাকিস্তানে৷

‘গ্লোবাল রিফিউজি ক্রাইসিস ২০২৬' শীর্ষক প্রতিবেদনের সহ-সম্পাদক পেত্রা ব্রেন্ডেল বলেন, ‘‘যখন বলি, সুরক্ষা দেয়ার বিষয়ে নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা উচিত জার্মানির, তখন ঠিক এই বিষয়টির কথাই বোঝাই আমি৷''

নাইজেরিয়ার আবুজায় অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত কয়েকটি পরিবার (ফাইল ফটো)
সারা বিশ্বে বর্তমানে ১১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত৷ গত এক দশকে এমন মানুষের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে৷ তাদের অধিকাংশই অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি (আইডিপি), অর্থাৎ, তার নিজেদের অঞ্চলেই যুদ্ধ বা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে (যেমন খরা ও বন্যা) থেকে বাঁচতে ঘর-বাড়ি ছেড়েছেন৷ছবি: Emmanuel Osodi/AA/picture alliance

জার্মানিতে অভিবাসনপ্রত্যাশীর আগমন কমেছে

জার্মানির ওসনাব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন বিষয়ক গবেষক ফ্রাঙ্ক ড্যুফেল ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিয়ে নতুন এই পরিকল্পনাকে ‘ত্রুটিপূর্ণভাবে প্রণীত' আখ্যা দিয়ে বলেন, এই সংস্কারের ফলে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি চলার সময় বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা দেখা দিতে পারে এবং এর ফলে অভিবাসনপ্রত্যাশী শিশু, নারী এবং তাদের পরিবারের অধিকার সামগ্রিকভাবে খর্ব হতে পারে৷

ফ্রাঙ্ক ড্যুফেল জানান, জার্মানিতে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে কমছে৷ ২০২৩ সালে জার্মানিতে তিন লাখ ৩০ হাজার মানুষ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন, দুই বছর পর, সেই সংখ্যা কমে এক লাখ ১৩ হাজারে নেমে আসে৷ এই প্রবণতা এখনো অব্যাহত৷ ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) তাই প্রায় ২২ হাজার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নথিবদ্ধ করা হয়৷ এই হার অনুযায়ী পুরো বছরের হিসেব করলে বছর শেষে মোট আবেদনের সংখ্যা ৯০ হাজারেরও কম হতে পারে৷

২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা বিশ্বে বর্তমানে ১১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত৷ গত এক দশকে এমন মানুষের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে৷ তাদের অধিকাংশই অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি (আইডিপি), অর্থাৎ, তার নিজেদের অঞ্চলেই যুদ্ধ বা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে (যেমন খরা ও বন্যা) থেকে বাঁচতে ঘর-বাড়ি ছেড়েছেন৷ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সারা বিশ্বে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়া এই মানুষদের খুব সামান্য অংশই শেষ পর্যন্ত ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকায় পৌঁছাতে পেরেছেন৷

মার্সেল ফ্যুর্স্টেনাউ/এসিবি