রোহিঙ্গা শিবিরে এক ট্রান্সজেন্ডার নারীর লড়াই
কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে শত বঞ্চনা, হতাশার মাঝেই সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখছেন এক ট্রান্স নারী৷ ছবিঘরে তার জীবনের গল্প...

বিউটি পার্লারেই মুক্তির স্বাদ
২৫ বছর বয়সি তানিয়া বাংলাদেশের কক্স বাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে খুব জনপ্রিয়৷ তার কাছে চুল কাটাতে বা ফেসিয়াল করাতে লাইন দিয়ে অপেক্ষা করেন বহু খদ্দের৷ সৌন্দর্য্য বাড়াতে তানিয়ার কাছে মানুষ ভিড় জমালেও তার অস্তিত্ব কিছু মানুষের অস্বস্তির কারণ৷ ‘‘রোহিঙ্গাদের জীবন কঠিন৷ আর ট্রান্স রোহিঙ্গার জীবন আরো কঠিন’’, বলেন তিনি৷
শুরুর কথা
অন্য সব রোহিঙ্গার মতো তানিয়াও ২০১৭ সালে সামরিক হামলার মুখে মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন৷ সেই থেকে তার দিন কাটছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির বলে পরিচিত এই ক্যাম্পে৷ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মৌংদো শহরে জন্ম নেওয়া তানিয়ার জীবন ছোটবেলা থেকেই তার লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে জটিল৷ পরিবার ত্যাগ করলে হিজড়া সমাজ তাকে আপন করে নেয়৷
টানাপোড়েনের গল্প
তানিয়ার সাথে তার পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই৷ তার ভাই-বোনদের অনেকেই ভারতে থাকেন৷ তারাও তানিয়ার সাথে যোগাযোগ করেন না৷ তানিয়া বলেন, ‘‘আমার বাবা-মা জীবিত থাকলেও তাদের কাছে আমি মৃত৷’’
বৈষম্য, জেদ ও লড়াই
মিয়ানমারে থাকার সময়েই বিউটিশিয়ানের কাজ শেখেন তিনি, যা পরে বাংলাদেশে এসেও কাজে লাগান তানিয়া৷ আরেকজনের পার্লারে বিউটিশিয়ানের কাজ শুরু করেন তিনি৷ মাসে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা আয় হয় তার৷ বিয়ের সাজ থেকে সাধারণ চুলের ছাঁট, সব ধরনের রূপসজ্জার জন্য পার্লারের বাইরে ভিড় করেন রোহিঙ্গা থেকে বাংলাদেশি সব ধরনের খদ্দের৷
তানিয়ার ভবিষ্যতের স্বপ্ন
আরো চারজন ট্রান্স নারীকে বিউটিশিয়ানের কাজ শিখিয়েছেন তানিয়া, যাদের প্রত্যেকেই এখন বিদেশে সফলভাবে কাজ করছেন৷ তাদের পথে যেতে চান তানিয়াও৷ তিনি বলেন, ‘‘তারা সব সময় আমাকে যেতে বলে৷ আমিও যেতে চাই৷ আমি স্বপ্ন দেখি একদিন আমার নিজের একটা পার্লার হবে আর আমি স্বাবলম্বী হবো৷’’