1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

মমতাকে শেখ হাসিনার চিঠি, কারণ কি তিস্তা?

২০ জুলাই ২০২২

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশে গিয়ে পদ্মা সেতু ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

https://p.dw.com/p/4EON0
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদ্মা সেতু দেখার আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদ্মা সেতু দেখার আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: DW/Prabhakar

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদ্মা সেতু দেখার আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি শেখ হাসিনা চিঠিতে লিখেছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে তিনি ভারত সফরে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ''সেপ্টেম্বর ২০২২-এ আমার নির্ধারিত নয়াদিল্লি সফরকালে আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে বলে আশা রাখি। দুই বাংলার ভাষা, সংস্কৃতি ও আদর্শগত সাদৃশ্যের উপর ভিত্তি করে বর্তমান সম্পর্ককে দৃঢ়তর করতে একযোগে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই।'' 

হাসিনা পদ্মা সেতু নিয়ে চিঠিতে লিখেছেন, ''এই সেতু বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ তথা সমগ্র ভারতের আত্মিক সম্পর্ক দৃঢ় করবে ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।'' তারপরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি বলেছেন, ''সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ রইলো।''   

চিঠির পিছনেও কি তিস্তা?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদ্মা সেতু দেখার আমন্ত্রণ জানানোর ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক নেই। নিজস্ব অর্থে তৈরি এই নয়নমনোহর সেতু দেখার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাতেই পারেন।

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসিনার চিঠি শুধু এই আমন্ত্রণেই শেষ হয়ে যায়নি। বরং শেখ হাসিনা আগামী সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে আসছেন এবং সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তার দেখা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি দুই বাংলার সম্পর্ককে দৃঢ় করার জন্য একযোগে কাজ করার কথা বলেছেন। এর পিছনে তিস্তা চুক্তি রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

প্রবীণ সাংবাদিক শুভাশিস মৈত্র ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, ''আমার মনে হচ্ছে, এই চিঠির পিছনে তিস্তা উঁকি দিচ্ছে। বাংলাদেশে ভোট আসছে। ফলে তিস্তা চুক্তি করা শেখ হাসিনার পক্ষে খুবই জরুরি। সেপ্টেম্বরের ভারত সফর ও একযোগে কাজ করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করার মধ্য দিয়েই তা স্পষ্ট।'' শুভাশিসের মতে, ''এই চুক্তির ক্ষেত্রে একমাত্র বাধা হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মতো বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তিস্তা চুক্তি করতে রাজি। সেজন্যই মমতাকে এই প্রচ্ছন্ন অনুরোধ করেছেন হাাসিনা।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ প্রবীণ সাংবাদিক মিলন দত্তও জানিয়েছেন, ''বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই চিঠির পিছনে তিস্তা প্রকট বলে তার মনে হয়েছে। ডয়চে ভেলেকে তিনি জানিয়েছেন, তিস্তা চুক্তি বাংলাদেশের মানুষের কাছে আবেগের বিষয়। তাই শেখ হাসিনা এই চুক্তি করতে এতটা তৎপর।''

মিলন মনে করেন, ''তিস্তাতে আর আগের মতো জল নেই। এখন সারা বছর তিস্তার জল বাংলাদেশে যেতে দিলে ভারতের কোনও ক্ষতি নেই। গাজোলডোবায় যে বাঁধ দেয়া হয়েছে, সেখানে অল্প জল ধরে রেখে বাকি জল সারাবছর বাংলাদেশের দিকে যেতে দেয়া উচিত। আর নদী বাঁচানোটাও ভারতের কর্তব্য।'' 

প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক খুবই ভালো। মমতা বিধানসভা নির্বাচনে জেতার পর শেখ হাসিনা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। তার জবাবও দিয়েছিলেন মমতা। বাংলাদেশ থেকে তিনি মমতার জন্য আমও পাঠিয়েছিলেন। তার জবাবে মমতা লিখেছিলেন, তিনি ওই আম খেয়েছেন এবং প্রচুর মানুষকে খাইয়েছেন। ফলে শেখ হাসিনা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে পত্রালাপ নতুন কোনো ঘটনা নয়।

শুভাশিস জানাচ্ছেন, এর আগে রাশিয়ার নেতা ক্রুশ্চেভ, বুলগানিনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের সুসম্পর্ক ছিল। সাধারণত, ভারতের কোনো মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের এরকম ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে না।

জিএইচ/এসজি (পিটিআই)