1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

মমতা বনাম ইডি সংঘাতে পারদ চড়ছে

৯ জানুয়ারি ২০২৬

মমতা বনাম ইডির আইনি লড়াইয়েও রাজনীতির উত্তাপ। শুনানি পিছিয়ে গেল ১৪ জানুয়ারি। রাজপথে মিছিল করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

https://p.dw.com/p/56bW6
ইডি‘র অভিযানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রতিবাদ মিছিল করেন তৃণমুল নেত্রী মমতা ব্যানার্জী৷ ফাইল ফটো
ইডি‘র অভিযানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রতিবাদ মিছিল করেন তৃণমুল নেত্রী মমতা ব্যানার্জী৷ ফাইল ফটোছবি: Satyajit Shaw/DW

আইপ্যাকের অফিসে ইডি অভিযানকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরই মামলা করেছে কলকাতা হাইকোর্টে। শুক্রবার শুনানির কথা থাকলেও তা কার্যত ভেস্তে গেল।

আদালতে শোরগোল

কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি ও তৃণমূল কংগ্রেস, উভয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এ দিন দুপুরে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে শুনানি শুরু হয়। কিন্তু আদালত কক্ষে এতটাই ভিড় ছিল যে শুনানি করা সম্ভব হয়নি। বিরক্তি প্রকাশ করে এজলাস ছেড়ে চলে যান বিচারপতি। লিখিত ভাবে তিনি জানান, ১৪ জানুয়ারি মামলার শুনানি হবে। 

এর পরে দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে ইডি প্রধান বিচারপতির কাছে দরবার করে। এই মামলায় বিচারপতি বদলেরও দাবি জানায়। কিন্তু সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি। অর্থাৎ, পাঁচ দিন পরে বুধবার শুনানি হবে।

ইডি-র পিটিশনে সিবিআই তদন্তের দাবি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, তারা আইন মেনে তদন্ত করছেন। আইন মেনে তল্লাশি ও সিজার বা বাজেয়াপ্ত করতে গিয়েছিলেন সংস্থার আধিকারিকরা। সেখানে তারা বাধাপ্রাপ্ত হন। অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী এবং তার সঙ্গে থাকা পুলিশ ও প্রশাসনের অফিসাররা জোর করে তল্লাশি চলাকালীন নথিপত্র, ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে চলে গিয়েছেন। তাই তাদের দাবি, পুরো ঘটনার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়া হোক।

আদালতের আর্জিতে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, ২০২৬-এর ভোটের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইডি কাজ করেছে। তারা বলেছে, আইপ্যাক গত ছ’বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচার এবং সাংগঠনিক বিভিন্ন কাজকর্মের সবটাই দেখাশোনা করে। বলা হয়েছে, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যাম্পেন তারা দেখে। তারা ঠিক করে, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কীভাবে হবে। 

তাদের পিটিশন অনুযায়ী, আইপ্যাকের কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের স্পর্শকাতর তথ্য আছে। রাজনীতি, সাংগঠনিক, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নানা ধরনের তথ্য তাদের কাছে থাকে। সেই তথ্য হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে ইডি অভিযান চালিয়েছে বলে তৃণমূলের অভিযোগ।

কলকাতা হাইকোর্টে ইডি-র করা মামলা নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ঠিক পথেই এগিয়েছে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ইডি তাদের পিটিশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'রেসপন্ডেন্ট নম্বর ওয়ান' করেছে। তদন্তে বাধা দেয়া এবং তথ্য প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই এই পদক্ষেপ।"

ইডির বিরুদ্ধে দলীয় তথ্য লোপাটের অভিযোগ এনেছেন তৃণমূলনেত্রী। এ দিন প্রতিবাদ জানাতে তিনি যাদবপুর থেকে হাজরা পর্যন্ত পদযাত্রা করেন। 

মমতার দাবি, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নন, তৃণমূলের সুপ্রিমো হিসেবে ইডি-কে চ্যালেঞ্জ করেছেন। 

মমতা বলেন, "আমি তৃণমূলের চেয়ারম্যান হয়ে করেছি। কোনো অন্যায় করিনি। তুমি চোরের মতো কেন এসেছ? তুমি সব ডেটা আমার চুরি করছিলে। তোমরা তো ছটা থেকে করছ। আমি সাড়ে এগারোটায় গেছি। পাঁচ ঘণ্টা সব চুরি  করেছ। আমি খবর শুনেছিলাম। ভেবেছি কথা বলতে এসেছে। আমি প্রতীককে ফোন করি। ফোন তোলেনি। তখনই সন্দেহ হয়। ভাবলাম, পার্টির সব তথ্য নিয়ে পালাচ্ছে না তো।"

বিরোধী রাজ্যে ইডি তৎপরতা

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজ্যে ইডি-সহ কেন্দ্রীয় সংস্থার সক্রিয়তা বেড়েছে বলে দাবি বিরোধীদের। বৃহস্পতিবার কয়লা পাচার মামলায় ইডি দেশজুড়ে ১৫টি স্থানে অভিযান চালায়। এর মধ্যে রয়েছে একাধিক বিরোধী শাসিত রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও কেরলের এর্নাকুলাম ও আদুর, তামিলনাড়ুর চেন্নাই, বিহারে অভিযান চালানো হয়। 

২০২৫-এর নভেম্বরে পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডের ৪০টিরও বেশি স্থানে বড় ধরনের তল্লাশি চলে। প্রায় ১০ কোটি টাকার নগদ ও সোনা উদ্ধার করা হয় বলে ইডির দাবি। তামিলনাড়ুতে একাধিক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগে তদন্ত চলছে। কর্নাটকে মহীশূর নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সংক্রান্ত জমি বণ্টন মামলায় তদন্ত এখনও চলছে। কংগ্রেস নেতা, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া জানিয়েছেন, ইডি তার স্ত্রীকে এই মামলায় নোটিস পাঠিয়েছে।

পদাধিকারীদের তৎপরতা

মুখ্যমন্ত্রী থেকে বড় রাজনৈতিক নেতা, আমলা কিংবা পুলিশকর্তা, বিভিন্ন পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে নানা সময়ে অভিযোগ উঠেছে। সে সবের কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। 

ভবানীপুর থানার ঘটনার কথা পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীরা বার বার উল্লেখ করেন। ২০১১ সালের ৬ নভেম্বর রাতে জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে উত্তেজনা ছড়ায়। 

অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় ক্লাবের সদস্যরা চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের সামনে শব্দবাজি ফাটাচ্ছিলেন, ডিজে বাজাচ্ছিলেন। পুলিশ বাধা দিলে বিসর্জনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। দুই তৃণমূল কর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর থানায় পৌঁছন। অভিযোগ, তিনি দলের দুই কর্মীকে ছাড়িয়ে আনেন। এ নিয়ে কোনও মামলা হয়নি বলে অভিযোগ।

আমলাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপদেষ্টা। তাকে নিয়ে কম টানাপড়েন হয়নি কেন্দ্র-রাজ্যে।

২০২১ সালের মে মাসে ‘ইয়াস’ ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করতে কলাইকুন্ডায় প্রধানমন্ত্রী বৈঠক ডাকেন। মমতার সঙ্গে আলাপন সেই বৈঠকে দেরিতে পৌঁছনোয় বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে দ্রুত এলাকা পরিদর্শনের জন্য বেরিয়ে যান তারা। কেন্দ্রীয় সরকার একে শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য করে আমলাকে শোকজ নোটিস পাঠায়। কেন্দ্র সরকার তার বিরুদ্ধে নিয়মভঙ্গের প্রক্রিয়া শুরু করলে তিনি 'সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইব্যুনাল'-এর কলকাতা বেঞ্চে মামলা করেন। পরবর্তীতে দিল্লি বেঞ্চে এই মামলা স্থানান্তর করা নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে।

রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের বিরুদ্ধেও একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে। সিবিআইয়ের অভিযোগ, সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্তে রাজ্য গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)-এর প্রধান থাকাকালীন রাজীব কুমার গুরুত্বপূর্ণ কল ডেটা রেকর্ড এবং ল্যাপটপ থেকে পাওয়া ইলেকট্রনিক তথ্যপ্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তন করেছেন। তিনি বারবার সিবিআইয়ের সমন এড়িয়েছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। ২০১৯ সালে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিআই আধিকারিকরা তার বাসভবনে গেলে কলকাতা পুলিশ বাধা দেয় এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের আটক করার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। এর পরে মুখ্যমন্ত্রী ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন 

সাংবাদিক শুভাশিস মৈত্র ডিডাব্লিউকে বলেন, "আইডিয়াল সিচুয়েশনে অর্থাৎ স্বাভাবিক অবস্থায় মমতা যেটা করেছেন, সেটা অপরাধ। স্বাভাবিক অবস্থায় এই অপরাধটা খুবই বড় হয়ে উঠত। কিন্তু অবস্থা স্বাভাবিক নয়। কেন নয়? তার কারণ ইডি বা এই ধরনের সংস্থা খুব দুর্নাম কুড়িয়েছে তাদের কাজকর্মের জন্য।  শতকরা হিসেবে তাদের তদন্তের পরিণতি খুব খারাপ।"

আমলাদের আনুগত্য সংবিধানের প্রতি হওয়া উচিত: অধ্যাপক রাজাগোপাল ধর

তিনি ব্যাখ্যা করেন, "দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠছিল, সাধারণ মানুষের অবিশ্বাসের মধ্য দিয়ে আজ যেন তারই প্রতিফলন ঘটছে। মানুষের এই আস্থার অভাব তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এক বড় রাজনৈতিক সুযোগ বা 'পলিটিক্যাল অ্যাডভান্টেজ' তৈরি করে দিতে পারে। সাধারণ মানুষের কাছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি খুব একটা কালিমালিপ্ত হয়নি। বরং কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোর প্রতি মানুষের এই অবিশ্বাসের কারণে পরিস্থিতির রাজনৈতিক সুবিধা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষেই যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। "

তার বক্তব্য, "বিরোধীদের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর এবং বিচারব্যবস্থার পর্যবেক্ষণ সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণাকেই বদ্ধমূল করেছে যে, এই এজেন্সিগুলো নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। এর ফলে, আইনি দিক থেকে কোনো ভুলভ্রান্তি থাকলেও, সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ সহমর্মিতার জায়গা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষেই অবস্থান নেবেন বলে মনে হয়। কারণ, যেখানে বিচার ব্যবস্থার চোখে এজেন্সির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নাতীত নয়, সেখানে মানুষ আইনি লড়াইয়ের চেয়ে একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই বেশি দেখছে।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অধ্যাপক রাজাগোপাল ধর চক্রবর্তী ডয়চে ভেলে’কে বলেন, "ইডি একটি সাংবিধানিক সংস্থা যা 'প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট'-এর অধীনে কাজ করে। এই তদন্তে বাইরের হস্তক্ষেপ আইনবিরুদ্ধ। তদন্ত চলাকালীন ইডি-র কাজে বাধা দিতে মুখ্যমন্ত্রীর ঘটনাস্থলে যাওয়া এবং তাঁর সঙ্গে আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের উপস্থিত থাকা আইনবিরুদ্ধ ও দুর্ভাগ্যজনক।" 

তিনি মনে করেন, "আমলাদের আনুগত্য সংবিধানের প্রতি হওয়া উচিত, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রীর প্রতি নয়। তদন্তের সময় পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা করা হয়েছে এবং ইডি-র ল্যাপটপ, মোবাইল ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে রাজনৈতিক চাপ আইএএস, আইপিএস এবং এমনকি বিচারব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলছে, যা একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য উদ্বেগজনক।"

রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অধ্যাপক শুভময় মৈত্র বলেন, ​"ভারতের মত একটি বিশাল দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় স্তম্ভগুলোর মধ্যে অনেক সময় দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়। বিশেষ করে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের রাজনৈতিক ভিন্নতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। "

তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের যে অভিযোগগুলো উঠছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রাথমিক দায়িত্ব ছিল রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থার। কিন্তু আদালতের নির্দেশের ফলে সিবিআই বা ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।"

শুভময় মনে করেন, "কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সাফল্য বা ব্যর্থতার হার কেবল কয়েকটি শতাংশের মাধ্যমে বিচার করা অবৈজ্ঞানিক। রাজ্যের শাসক তৃণমূল কংগ্রেস সংক্রান্ত মামলাগুলোতে এই হার অন্য রাজ্যের তুলনায় ভিন্ন কি না, তা যাচাই করার জন্য সঠিক পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণের প্রয়োজন। যদি পশ্চিমবঙ্গের মামলার চাপ বেশি হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা বাড়তে পারে। এটি কেবল সরল অংকের বিষয় নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক বিজ্ঞানের একটি জটিল দিক।"

শুভাশিস মনে করেন, "আদর্শ পরিস্থিতিতে একে ‘সাংবিধানিক সংকট’ মনে করা হলেও, সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ আজ ভিন্ন কথা ভাবছে। এর মূল কারণ হলো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা আজ প্রশ্নের মুখে। সুপ্রিম কোর্ট-সহ বিভিন্ন আদালতের নানা পর্যবেক্ষণ এবং বিশেষ করে নির্বাচনের ঠিক আগে এজেন্সিগুলোর অতি-সক্রিয়তা জনমানসে তাদের নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। মানুষের ধারণা হয়েছে যে, এই পদক্ষেপগুলো নিছকই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।"

শুভময় বলেন, ''আমাদের দেশে পশ্চিমী দেশগুলোর মতো তথ্যভিত্তিক ও সুনির্দিষ্ট নীতি মেনে রাজনীতি বিশ্লেষণের চর্চা এখনও সীমিত। তাই এই পরিস্থিতি থেকে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। সঠিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং জনমত জরিপই ভবিষ্যতে স্পষ্ট করতে পারবে যে, এই পরিস্থিতির পেছনে রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতা দায়ী নাকি কেন্দ্রীয় সংস্থার অতিরিক্ত সক্রিয়তা। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব কতটুকু পড়বে, তা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষার প্রয়োজন।"

ডয়চে ভেলের কলকাতা প্রতিনিধি পায়েল সামন্ত৷
পায়েল সামন্ত ডয়চে ভেলের কলকাতা প্রতিনিধি৷
স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য