1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

ভোটের হার নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই: সিইসি

৮ জানুয়ারি ২০২৪

বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল মনে করেন, নির্বাচন অধিকতর সর্বজনীন হলে ভালো হতো৷ তবে ভোটের হার নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে তা কোনো ‘ইস্যু নয়' বলেও ডয়চে ভেলেকে জানান তিনি৷

https://p.dw.com/p/4ayPv
কাজী হাবিবুল আউয়াল সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন খালেদ মুহিউদ্দীন
নগরের চিত্র দিয়ে সামগ্রিকভাবে ভোট পড়ার হার বোঝা যাবে না৷ ছবি: Arafatul Islam/DW

ডয়চে ভেলে বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মুহিউদ্দীনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল৷ নির্বাচন কতটা সফল হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘কমিশন সার্বিকভাবে চেষ্টা করেছে নির্বাচন সফল করতে৷ এটাও কিন্তু একটা আপেক্ষিক বিষয়, কারণ, একটা বড় দল নির্বাচনে অংশহগ্রহণ করেনি৷ এটা অনস্বীকার্য৷’’

নির্বাচনে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে৷ মুন্সিগঞ্জে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মৃণাল কান্তি দাসের এক সমর্থককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে৷ সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী ও নরসিংদীতে৷ তবে সার্বিকভাবে নির্বাচন যথেষ্ট সহিংসতামুক্ত হয়েছে বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার৷ তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন অনেকটাই সহিংসতামুক্ত হয়েছে এবং ভোটার উপস্থিতিও ছিল সব মিলিয়ে৷ আমাদের জন্য যেটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে যে কোনো ধরনের সহিংসতা বড় ধরনের হয়নি, মৃত্যু ঘটেনি, যেটা আমরা সব সময় প্রত্যাশা করি যে মানুষ আহত না হয়, নিহত না হয়৷ সেদিক থেকে আপেক্ষিক অর্থে নির্বাচনটা শান্তিপূর্ণ হয়েছে৷''

 

নির্বাচনে বিএনপিসহ বেশ কিছু সরকারবিরোধী দল অংশ নেয়নি৷ তা নিয়ে আক্ষেপ আছি কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সিইসি জানান, বিএনপি না আসায় তার মধ্যে ‘অসন্তোষ' আছে, কারণ, আহ্বান জানানো হলেও তারা সাড়া দেয়নি৷ তিনি বলেন, ‘‘যদি ওরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতেন কোনো-না-কোনোভাবে, তাহলে নির্বাচন অনেক বেশি সর্বজনীন হতো৷ যদি রাজনীতির কথা বলি একটা দেশের নির্বাচন অধিকতর সর্বজনীন হওয়া প্রয়োজন৷ সেটা হলে ভালো হতো৷ সেটা হয়নি৷''

নির্বাচনের সময় ডয়চে ভেলের সংবাদকর্মীরা ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে খুব একটাভোটার উপস্থিতি দেখতে পাননি

এই বিষয়ে খালেদ মুহিউদ্দীনের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, নগরের চিত্র দিয়ে সামগ্রিকভাবে ভোট পড়ার হার বোঝা যাবে না৷ নগর ও গ্রামে ভোটের চিত্র আলাদা বলে জানান তিনি৷ 

ভোটের দিন বিকাল ৩টা পর্যন্ত সারাদেশে ২৭ দশমিক ১৫ ভাগ ভোট পড়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনের সচিব৷ এর এক ঘণ্টা পর বিকাল ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়৷ কিন্তু ভোট শেষ হওয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিবুল আউয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানান, সারাদেশে ভোটের হার ৪০ শতাংশ৷ এ সময় তিনি সাংবাদিকদের শুরুতে ২৮ শতাংশ ভোট পড়ার কথা বলে পরে তা সংশোধন করেন৷ এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়৷ এর জবাবে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘‘এই বিষয়টি নিয়ে আমার মনে হয় বিতর্কের তেমন অবকাশ নেই৷ এখনও যদি কেউ মনে করেন ভোটের হার আসলে অনেক কম, আমাদের ভোটের হার সবশেষে হয়েছে ৪১ দশমিক আট শতাংশ৷ আমি যখন ৪০ শতাংশ বলেছিলাম, প্রথমে বলে ফেলেছিলাম ২৮ পার্সেন্ট৷ দুইটা বা তার আগে আমি একটু ঘুমিয়ে ছিলাম, পরে যখন সাড়ে চারটার দিকে ইন্টারভিউ হয়, তখন পর্যন্ত ড্যাশবোর্ডে যে তথ্যগুলো পুরোটা আসেনি৷ আংশিক যেটা এসেছে তাতে মনে হয়েছে ৪০ শতাংশ৷ চূড়ান্ত হার তখনই নিরূপণ করা যায় যখন সকল আসনের ফলাফল পাওয়া যায়৷ এবং সকল প্রার্থীর ভোট যোগ করা হয়৷’’

এ বিষয়ে সন্দেহের কিছু নেই বলে জোর দিয়ে উল্লেখ করেন তিনি৷ বলেন, ‘‘পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখন আছে৷ কারো যদি মনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থেকে থাকে সেটা এখনও পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে, এটা কি আসলে ৪১ দশমিক আট শতাংশ নাকি বেশি, নাকি কম৷ এটা আমার মনে হয় কোনো ইস্যু নয়৷''

তারপরও ভোট পড়ার এই হার কম বলে উল্লেখ করেন তিনি৷ এজন্যবিএনপির ভোটে অংশ না নেয়াকেই কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি৷ ‘‘ওরা (বিএনপি) যদি অংশগ্রহণ করতেন তাহলে ভোট টা আরো প্রতিদ্বন্বিতাপূর্ণ হতো এবং ভোটাররা অধিকতর হারে ভোটকেন্দ্রে আসতেন৷...বিদ্যমান ব্যবস্থায় আমার কাছে মনে হচ্ছে ৪২ শতাংশ ভালোই,’’ বলেন সিইসি৷ 

এফএস/এসিবি

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

আরো সংবাদ দেখান