1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

বার্ষিক ভোগান্তির বিরাট হাট

প্রভাষ আমিন
৮ জুলাই ২০২২

গণমাধ্যমের কিছু নিয়মিত ইভেন্ট আছে৷ যারা নিয়মিত গণমাধ্যমে সংবাদ অনুসরণ করেন, তাদেরও এই ইভেন্টগুলো মুখস্ত হয়ে যাওয়ার কথা৷

https://p.dw.com/p/4DrZ7
যত দুর্ভোগই হোক, তবুও বাড়ি ফিরতে পারলেই মানুষ খুশি
যত দুর্ভোগই হোক, তবুও বাড়ি ফিরতে পারলেই মানুষ খুশিছবি: Mohammad Ponir Hossain/REUTERS

আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ' বা ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত’ ধরনের নিয়মিত শিরোনাম তো আছেই; আছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কিছু নিয়মিত চিত্রও, আছে কিছু বার্ষিক ইভেন্টও৷ সড়ক দুর্ঘটনা বাংলাদেশের গণমাধ্যমের প্রতিদিনের শিরোনাম৷ এছাড়া বন্যা, সাইক্লোন, জলাবদ্ধতার মত বার্ষিক দুর্ভোগের ইভেন্টও আছে৷ আর আছে ঈদের ভোগান্তি৷ দুই ঈদ হলো মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব৷ ঈদ মানেই আনন্দ৷ বাংলাদেশের প্রতিটি মুসলমানের ঘরে ঘরে দুই ঈদ কোনো না কোনো মাত্রায় আনন্দ বয়ে আনেই৷ কিন্তু বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য ঈদ শুধু আনন্দ নয়, বয়ে আনে অপরিসীম দুর্ভোগও৷

বন্যা বা সাইক্লোনের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগের ব্যাপারে আমাদের কিছু করার নেই৷ এই দুর্যোগ মোকাবেলা করেই বছরের পর বছর টিকে আছে বাংলাদেশের মানুষ৷ কিন্তু কিছু কিছু দুর্ভোগ আছে আমাদেরই বানানো, চাইলেই আমরা যেসব ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে পারি৷ কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো আমরা সেটাই পাই না৷ যেমন বর্ষাকালে টানা বৃষ্টি হলেই ঢাকা-চট্টগ্রামে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধাতার৷ তিন ঘণ্টার বৃষ্টি হলে ছয় ঘণ্টা পানি আটকে থাকে৷ বৃষ্টিটা প্রাকৃতিক হলেও জলাবদ্ধতাটা কিন্তু প্রাকৃতিক নয়৷ এটা একদমই আমাদের নিজেদের সৃষ্ট৷ আমরা সব জলাধার ভরাট করে আকাশছোঁয়া ভবন বানাই, নগরীর খাল ভরাট করে রাস্তা বা কালভার্ট বানাই৷ তাই বৃষ্টির পানি সরার রাস্তা পায় না৷ জলাবদ্ধতা নিরসনের কী কোনো উপায় নেই? অবশ্যই আছে৷ মানচিত্র দেখে দেখে ঢাকার বুকে জালের মত ছড়িয়ে থাকা খালগুলো পুনরুদ্ধার করে প্রবহমানতা ফিরিয়ে দিলে, জলাধারগুলো পুনরুদ্ধার করলে, পানি সরার ড্রেনগুলো পরিষ্কার রাখলেই আর পানি জমবে না৷ বৃষ্টির পানি সাথে সাথেই ঢাকার চারপাশের চারটি নদীতে চলে যাবে৷ কিন্তু নগর সচল করা তো দূরের কথা, দখলে-দূষণে চারপাশের নদীগুলো মারার সকল উদ্যোগ সম্পন্ন প্রায়৷ বৃষ্টির পানি তো বটেই, কদিন পর চারপাশের নদী উপচে পানি ঢাকায় ঢুকলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না৷ ঢাকার কারওয়ানবাজারে, পান্থপথে নৌকা চলতো; এটা যেমন এখন অবিশ্বাস্য লাগে, একসময় হয়তো ঢাকা বুড়িগঙ্গা নামে একটি নদীর পাড়ে অবস্থিত ছিল, সেটাও অবিশ্বাস্য লাগবে৷ সকল উপায় জানা থাকা সত্ত্বেও জলাবদ্ধতা নিরসন হয় না কেন? হয় না, কারণ নীতিনীর্ধারকেরা জানেন, জলাবদ্ধতা নিরসন করতে যতটা অ্যাফোর্ড দেয়া লাগবে বা যত ব্যয় করতে হবে; সেই তুলনায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তিটা বড় নয়৷ সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে বড় হলেও নীতিনির্ধারকদের চোখে বড় মনে হয় না৷ কারণ জলাবদ্ধতার ভোগান্তি তাদের স্পর্শ করে না৷ তারা ভাবেন, বছরে কয়েকদিন জলাবদ্ধতা হলে সাধারণ মানুষ যতটা সমালোচনা করবে বা গণমাধ্যমে যতটা শোরগোল উঠবে, কয়েকদিন পরই তা বাতাসে মিলিয়ে যাবে৷ তাই চামড়াটা আরেকটু মোটা করে আর জলাবদ্ধতা নিরসনের আশ্বাস দিয়ে তিন কয়েক পার করে দিতে পারলেই আরো এক বছরের জন্য নিশ্চিন্ত৷

এই বার্ষিক জলাবদ্ধতার মতই বছর ঘুরে আসে আমাদের ঈদ, সাথে আসে ভোগান্তি৷ এই ভোগান্তি অবশ্যম্ভাবী, আমাদের নিয়তি যেন৷ বাংলাদেশে ঈদ এলেই আমার রীতিমত ভয় লাগে৷ গত তিন দশক ধরেই আমাদের পুরো পরিবার ঢাকাবাসী৷ তাই ঈদে আমাদের বাড়ি ফেরার কোনো তাড়া নেই৷ কিন্তু নিউজরুমে বসে ঈদে মানুষের বাড়ি ফেরার ভোগান্তি দেখি আর আফসোস করি, হায় নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ করার অধিকারটুকুও বুঝি আমাদের নেই৷ ঈদে বাড়ি ফেরার যে দুর্ভোগ, তা কিন্তু হঠাৎ করে বা এক-দুদিনের নয়৷ বছরের পর বছর একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি হয়৷ কিন্তু কারো যেন কিছু যায় আসে না৷ কেন যায় আসে না জানেন? প্রথম কথা হলো, নীতিনির্ধারকদের কখনো এই দুর্ভোগ পোহাতে হয় না৷ আর ঈদের বাড়ি ফেরার ভোগান্তি দূর করতে যতটা উদ্যোগ, যতটা পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা বা ব্যয় করা দরকার; ততটা নীতিনির্ধারকদের পোষায় না৷ তারা জানেন জলাবদ্ধতার ভোগান্তিটা যেমন বছরে ৩/৪ দিনের বেশি নয়; ঈদের বাড়ি যাওয়া এবং ফেরার ভোগান্তিটাও মাত্র চারদিনেরই৷ এই চারদিন সময় একটু কানে তুলো দিয়ে রাখলেই হলো, গণমাধ্যম আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের শোরগোল তো চারদিন পরই মিলিয়ে যাবে৷ তারচেয়ে বড় কথা হলো, যত কষ্টই হোক, মায়ের কোলে ফিরতে পারলেই মানুষ পথের সব ক্লান্তি ভুলে যায়৷

বাংলাদেশ ছোট একটি দেশ৷ জনসংখ্যার চাপে কাবু এই দেশটিকে আরো অসুস্থ মনে হয়, কারণ বাংলাদেশের সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক৷ ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি, পড়াশোনা, প্রশাসন, সুযোগ-সুবিধা- সবকিছু ঢাকাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত৷ ফলে মানুষ সুযোগের অপেক্ষায়, ভাগ্য বদলানোর আশায় ছুটে আসেন ঢাকায়৷ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে বাস করে দুই কোটিরও বেশি মানুষ৷ আমার অফিস কারওয়ানবাজারে৷ মধ্যরাতে কারওয়ানবাজারে যত মানুষ আসে পৃথিবীর অনেক দেশের মোট জনসংখ্যা তারচেয়ে কম৷ কাজের খোঁজে, ভাগ্য বদলাতে ঢাকায় ছুটে আসা মানুষের শেকড় থাকে গ্রামে, যেখানে তাদের নাড়ি পোতা৷ তাই সুযোগ পেলেই তারা ফিরে যেতে চান গ্রামে৷ বিশেষ করে ঈদের আনন্দটা তারা ভাগ করে নিতে চান প্রিয়জনের সঙ্গে৷ কিন্তু এই আনন্দটুকু পেতে আমাদের যে লম্বা দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তার দাম অনেক বেশি৷

অন্যসব দেশের বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাও তিন ধরনেরই- নৌ, সড়ক আর আকাশপথ৷ বাংলাদেশ নদীমাতৃক হলেও আমরা নৌ যোগাযোগে খুব একটা গুরুত্ব দেইনি কখনোই৷ নদীপথে ভ্রমণ হতে পারতো সবচেয়ে আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী৷ কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, নদীপথ ক্রমশ কমছে৷ একসময় দক্ষিণবঙ্গের মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল নদীপথ৷ পদ্মা সেতু হওয়ার পর এবার সে পথও গুরুত্ব হারাচ্ছে৷ আর নদীপথকে আমরা যথেষ্ট নিরাপদও রাখতে পারিনি৷ এমনিতে সবচেয়ে দ্রুতগতির ও আরামদায়ক হলো আকাশপথ মানে বিমান৷ কিন্তু ব্যয়ের বিবেচনায় বাড়িফেরতা মানুষের মাত্র একভাগের বিমানে চড়ার সামর্থ্য আছে৷ আকাশপথ দ্রুতগতির হলেও বিমানবন্দর পৌছতে পৌছতে সেই গতির অনেকটাই হাওয়া মিলিয়ে যায়৷ বনানীর যানজটে বসে ফ্লাইট মিস করার অনেক ঘটনা আছে৷ ঢাকা থেকে আকাশপথে চট্টগ্রাম যেতে সব মিলিয়ে যতটা সময় লাগে; কখনো কখনো সড়কপথে তারচেয়ে কম সময় লাগে৷

মধ্যবিত্তের জন্য সবচেয়ে আরামের বাহন হলো ট্রেন৷ কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবা সম্পর্কে একটা কথাই বলা যায়, আসলে ‘সেবা’ শব্দটির সঙ্গে তাদের কখনো দেখাই হয়নি মনে হয়৷ ডিজিটাল বাংলাদেশে এখন হয়রানির ধরন পাল্টেছে৷ রেলের ৫০ ভাগ টিকেট এখন অনলাইনে দেয়া হয়৷ কিন্তু অনলাইনে সাধারণ মানুষের টিকেট পাওয়া আর লটারি জেতা সমান কথা৷ ডিজিটাল বাংলাদেশে এখন ডিজিটাল ভোগান্তির উদাহরণ হলো, অনলাইনে রেলের টিকেট৷ অনলাইনে না পেয়ে যারা কমলাপুর স্টেশনে গেছেন টিকিটের আশায় তাদের ভোগান্তি চোখে দেখা যায় না৷ এ মাসের শুরুর দিকে রেলের আগাম টিকিট দেয়া শুরুর পর কমলাপুরে মানুষের দুর্ভোগেই ছিল সকল গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম৷ অপেক্ষায় থাকা মানুষ নিজেরাই লাইন করেছেন, নিজেরাই মারামারি করেছেন৷ টানা ৩০ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও টিকেট পেয়ে বিশ্বজয়ের আনন্দের ছবি যেমন টেলিভিশনের পর্দায় দেখা গেছে৷ আবার ৩০ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও টিকিট না পেয়ে হতাশায় ডুবে যাওয়া মানুষের ছবিও আছে৷ রেলমন্ত্রী নিজে এই সমস্যা স্বীকার করেছেন৷ কিন্তু যতই স্বীকার করুন, ৩০ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও টিকিট না পাওয়ার বেদনা নিয়ে যে ভাইটি ফিরে যান, তার দুঃখ বোঝার মত সংবেদনশীলতা কি আছে মন্ত্রীর?

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, সবচেয়ে কষ্টকর যাত্রা হলো সড়কপথে৷ কিন্তু আর কোনো উপায় না পাওয়া মানুষগুলোকে শেষ পর্যন্ত বাস স্টেশনেই যেতে হয়৷ বাড়ি ফেরা মানুষের ৬০ ভাগই সড়কপথ ব্যবহার করেন৷ বাড়তি ভাড়া, বাড়তি যাত্রী, বেপরোয়া গতি, দুর্ঘটনার ঝুকি তো থাকেই; থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথে বসে থাকার আশঙ্কা৷ মহাসড়কগুলোতে যেন বার্ষিক ভোগান্তির বিরাট হাট বসে৷ অনেক স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হয়েছে কদিন আগে৷ পদ্মা সেতুকে সংযুক্ত করতে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গায় নির্মাণ করা হয়েছে দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে৷ কিন্তু ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ের দুই প্রান্তে তো সেই মান্ধাতা আমলের সড়ক৷ পদ্মা সেতুতে যাওয়ার মুখে তাই সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ি, হানিফ ফ্লাইওভারে যানজট এখন ঈদ ভোগান্তির বাড়তি পাওনা৷ এক্সপ্রেসওয়ে বানানো হয় চলাচলে গতি আনতে৷ কিন্তু বারবার অ্যানালগ টোল প্লাজা কেড়ে এক্সপ্রেসওয়ের গতি৷ এবার বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ের মুখের যানজটের প্রভাব পড়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও৷ অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে চালু করা হয়েছিল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক৷ কিন্তু ঢাকা থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা যেতেই মানুষের নাভিশ্বাস দশা৷ টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত রাস্তাটি অবশ্য এই এলাকার মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তির অবিরল উৎস৷ বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট নামে কী এক প্রকল্পের কাজ চলছে বছরের পর বছর ধরে৷ এই সময়ে পদ্মা সেতু হয়েছে; মেট্রোরেল, টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েও হয়ে যাবে৷ কিন্তু টঙ্গী-জয়দেবপুর রাস্তার কাজ কবে শেষ হবে কেউ জানে না৷ মাঝে মাঝে মনে হয়, বাংলাদেশ হয়তো চাঁদে চলে যাবে, তবুও এই পথের দুর্ভোগ ফুরাবে না৷

যত দুর্ভোগই হোক, তবুও বাড়ি ফিরতে পারলেই মানুষ খুশি৷ কিন্তু সবার বাড়ি ফেরা হয় না৷ প্রতি ঈদের ছুটিতে কয়েকশ মানুষ মারা যায় সড়ক দুর্ঘটনায়৷ একবার ভাবুন, যে কয়েকশ মানুষ মারা যায়, তাদের পরিবারে ঈদের আনন্দ কীভাবে বদলে যায় বিষাদে৷ গত ঈদে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ৪১ ভাগের জন্য দায়ী মোটরসাইকেল৷ এবার তাই ঈদের সময় মহাসড়কে মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ মাথা ব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলাই যেন সমাধান৷ মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ থাকলে মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চয়ই কমবে, বন্ধ তো হবে না৷

প্রভাষ আমিন, সাংবাদিক ও লেখক
প্রভাষ আমিন, সাংবাদিক ও লেখকছবি: DW

এ তো গেল যারা ঈদের আনন্দ করতে বাড়ি যাচ্ছেন, তাদের দুর্ভোগের খবর৷ ঢাকায় যারা আছেন, তারা কী খুব আনন্দে ঈদ করবেন? এখন বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ আবার বাড়ছে৷ কিন্তু পশুর হাটে গেলে বোঝার উপায় নেই ‘করোনা' নামের একটি ভাইরাস দুই বছর ধরে গোটা বিশ্বকে নাকানি চুবানি খাওয়াচ্ছে৷ বা এই ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে কিছু স্বাস্থ্যবিধি মানতে হয়৷ তাই সংক্রমণ বাড়ার সাথে সাথে প্রতিদিনই মৃত্যুর তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম৷ গত চারদিনে বাংলাদেশে করোনায় ২৫ জন মারা গেছে৷ অন্তত এই ২৫ পরিবারে তো এবার ঈদ আসবে না৷ ঈদের আনন্দ আসবে না সিলেট-সুনামগঞ্জসহ বন্যাকবলিত বা বন্যাদুর্গত মানুষের ঘরেও৷

তবে ঈদের ছুটিতে আমরা যারা ঢাকায় থাকি, তাদের একটা বড় পাওনা হলো, মুক্ত সড়ক৷ ঈদের ছুটিতে ঢাকাকে একদম অচেনা মনে হয়৷ এই কয়েকদিন ঢাকায় কোনো যানজট থাকে না, সেটা অবশ্যই আনন্দের, স্বস্তির৷ তবে স্বস্তির অনেকটাই কেড়ে নেয় ঈদের দিনে অন্যরকমভাবে বদলে যাওয়া ঢাকা৷ বাংলাদেশ ছাড়া আর কোন কোন দেশে এমন প্রকাশ্যে কোরবানী দেয়া হয় জানি না৷ সব দেশেই পশু জবাইয়ের নির্দিষ্ট জায়গা থাকে৷ সেখানেই কোরবানী হয়৷ সাধারণ মানুষের চোখেই পড়ে না৷ ঢাকায়ও সিটি করপোরেশন পশু জবাইয়ের জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করে দেয়৷ কিন্তু একদম বাসার সামনে সবার চলাচলের রাস্তা আটকে কোরবানী না দিলে যেন আমাদের চলে না৷ ছুরি নিয়ে হুজুরদের ছুটে বেরানোর দৃশ্যও বাংলাদেশ ছাড়া আর কোথাও দেখা যাবে না৷ কোরবানীর ঈদ গোটা ঢাকাকে ভাগাড়ে পরিণত করে৷ ময়লায় আর দুর্গন্ধে আপনি পথ চলতে পারবেন না৷

এত যে দুর্ভোগ, এত যে সমস্যা তবুও এই ঢাকা-এই বাংলাদেশই আমাদের প্রিয়, বাসের ছাদে চড়ে হলেও নাড়ির টানে বাড়ি ফেরাতে আমাদের সুখ, সবাইকে নিয়ে ঈদ করাতেই আমাদের আনন্দ৷ এত শঠতা, এত যে ব্যথা; তবু যেন তা মধুতে মাখা৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য

আরো সংবাদ দেখান