1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

বর্ধিত বেতনের দাবিতে শিক্ষকদের অনশন

পায়েল সামন্ত কলকাতা
২৫ জুলাই ২০১৯

বর্ধিত বেতনের দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের অনশন চলছে ১৩ দিন ধরে৷ ইতিমধ্যে একাধিক অনশনকারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন৷ রাজ্য সরকারের বক্তব্য, বেতন বাড়ানো সম্ভব নয়৷ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে চান শিক্ষকরা৷

https://p.dw.com/p/3MhyH
Indien Lehrer Hungerstreik in Kalkutta
ছবি: DW/P. Samanta

প্রাথমিক শিক্ষকরাই ভবিষ্যতের নাগরিকদের পড়াশোনার প্রথম পাঠ দেন৷ কিন্তু, তাঁদের বেতন এখনও মুদ্রাস্ফীতির নিরিখে অনেকটাই কম৷ বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সল্টলেকের বিকাশ ভবনে অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা৷ ১৮ জন শিক্ষকের অনশন বৃহস্পতিবার ১৩ দিনে পড়েছে৷ মূলত দুটি দাবিকে সামনে রেখে এই কর্মসূচি নিয়েছে উস্থি প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন৷ বেতন বৃদ্ধি ও বদলি নীতিতে পরিবর্তন৷ বেতন বাড়ানোর বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের টানাপোড়েন চলছে৷

প্রাথমিক শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় হারে বেতন চাইছেন৷ প্রাথমিক বিদ্যালয়েশিক্ষকনিযুক্ত হলে এখন মাসের শেষে বেতন মেলে প্রায় ২২ হাজার টাকা৷ কেন্দ্রীয় হার অনুযায়ী এই বেতন প্রায় ৩৩ হাজার টাকা৷ কেন এই বেতনের দাবি তুলেছেন শিক্ষকরা? আন্দোলনকারী সংগঠনের প্রধান পৃথা বিশ্বাস বলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থা এনসিইআরটি-র নিয়ম রাজ্য সরকার কার্যকর করার পর উচ্চমাধ্যমিকে ৫০ শতাংশ নম্বর ও প্রশিক্ষণ না থাকলে এখন চাকরি দেওয়া হয় না৷ এই নীতি কার্যকর হওয়ার পর শিক্ষকরা তাঁদের যোগ্যতা বাড়িয়ে নিয়েছেন৷ এখন বর্ধিত যোগ্যতা অনুযায়ী কেন্দ্রীয় হারে বেতন দেওয়া উচিত৷ আমরা এই দাবিটাই তুলেছি৷

এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ২১ জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবসের সমাবেশে তিনি বলেছেন, শিক্ষকেরা কেন্দ্রীয় হারে বেতন চাইলে কেন্দ্রের কাছে চলে যান৷ অর্থাৎ, বর্ধিত বেতনের দাবি মানছে না রাজ্য সরকার৷ তার আগে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষকরা বৈঠকে বসেন৷ সেই বৈঠকেও এক দাবি রাখা হয়৷ শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাড়তি বেতনের জন্য যে টাকা খরচ হবে, তা বহন করা রাজ্যের পক্ষে সম্ভব নয়৷ বর্ধিত হারে বেতন দিলে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকা খরচ হবে৷

রাজ্যের ১ লাখ ৮০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ এখন তাই অনিশ্চিত৷ ইতিমধ্যে রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা অনশন মঞ্চে এসে শিক্ষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন৷ এসেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র, বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী৷ তাঁরা প্রত্যেকেই বলেছেন, শিক্ষকদের দাবি ন্যায্য৷ এই দাবি মেনে নেওয়া উচিত রাজ্য সরকারের৷ এনসিইআরটি নির্ধারিত যোগ্যতা যাঁরা অর্জন করেছেন, তাঁরা কেন সেই অনুযায়ী বেতন পাবেন না?

লাগাতার অনশনে পৃথা বিশ্বাস অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন৷ ফের অনশন শুরু করেছেন তিনি৷ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন আরো কয়েকজন৷ আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার তাঁদের দাবি পূরণ দূরের কথা, আন্তরিক ভাবে বিষয়টি নিয়ে ভাবছে না৷ তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে বার্তা দিয়েছেন কবি শঙ্খ ঘোষ৷ তিনি বলেছেন, এটা প্রায় অবিশ্বাস্য ব্যাপার যে অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় এ রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকরা প্রায় অর্ধেক বেতন পান৷ শিক্ষার বা প্রাথমিক শিক্ষার বিষয়ে যে কিছুমাত্র সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে— মনে হয় সে-বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ উদাসীন৷ এর প্রতিবাদে সংগতভাবেই নিপীড়িত শিক্ষক সমাজ আজ আন্দোলন করছেন৷

বিবেকের ঘরে তালা দিয়ে বসে আছে সরকার: মিরাতুন নাহার

অনশন মঞ্চে এসে শিক্ষকদের সমর্থন জানিয়েছেন বিদ্বজ্জনদের৷ প্রাক্তন অধ্যাপক মিরাতুন নাহার মঙ্গলবার চার ঘণ্টার প্রতীকী অনশন করেছেন৷ তিনি বলেন, বিবেকের ঘরে তালা দিয়ে বসে আছে সরকার৷ আর শিক্ষকরা অনশন করে নিজেদের বিপন্ন করছেন৷ কেন তাঁদের ন্যায্য দাবি মানা হবে না৷ অভিনেতা কৌশিক সেনের আপত্তি সরকারের মনোভাব নিয়ে৷ শিক্ষকদের দাবিকে সমর্থন করে তিনি বলেন, যে ভাবে সরকার শিক্ষকদের বিষয়টি সামলাচ্ছে, সেটা আপত্তিকর৷ অত্যন্ত কঠোর প্রতিক্রিয়া দেওয়া হচ্ছে৷ যাঁরা অনশন করছেন, তাঁদের দাবি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত৷

আপাতত টানাপোড়েনে ইতি পড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না৷ প্রাথমিক শিক্ষকদের এই আন্দোলনের ব্যাপকতা বাড়লে সরকারের উপর চাপও বাড়বে৷ বৃহস্পতিবার শাসকদলের অধীনস্থ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন এক সভার আয়োজন করেছে৷ সেখানে শিক্ষামন্ত্রী কি বলেন, সে দিকেই সবার নজর৷