1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

বন্যা পরবর্তী চ্যালেঞ্জ: স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো

সমীর কুমার দে ঢাকা
১৯ আগস্ট ২০১৭

বাংলাদেশের বিশাল এলাকা বন্যাকবলিত৷ বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের ৮ থেকে ১০টি জেলায় বন্যার ক্ষয়-ক্ষতি অনেক বেশি৷ এরইমধ্যে অনেক এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে৷ তবে ভেঙ্গে পড়েছে অবকাঠামো, তৈরি হচ্ছে ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকি৷

https://p.dw.com/p/2iVJy
Bangladesch Überflutungen
ছবি: picture-allaince/NurPhoto/R. Asad

ভয়াবহ এই বন্যায় সড়ক ও রেল অবকাঠামো যেভাবে ধ্বংস হয়েছে সেটা সংস্কারও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ৷ বন্যা দুর্গত এলাকার অনেক জেলায় রেল লাইন পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে৷ সড়কপথ ভেঙে গুড়িয়ে গেছে৷ অনেক এলাকার রাস্তা-ঘাট এখনো তলিয়ে আছে৷

তবে এমন পরিস্থিতিতেও আশার কথা শোনালেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি জানালেন, ‘‘গত রোজার ঈদের আগেই প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে আমরা একটা বার্তা পেয়েছিলাম- সেখানে বলা হয়েছিল এবার বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে৷ টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বহু এলাকা প্লাবিত হতে পারে৷ তখন থেকেই আমরা প্রস্তুতি শুরু করি৷ জেলা হাসপাতালের বাইরেও উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আমরা ওষুধের মজুদ রেখেছি৷ সেগুলো যেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যবস্থাও আছে আমাদের৷ আমাদের যে মজুদ আছে তা দিয়ে দুই সপ্তাহ চলে যাবে৷ আশা করছি, এবার বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতিতে রোগ বালাই মুক্ত থাকতে পারব আমরা৷''

‘আমাদের যে মজুদ আছে তা দিয়ে দুই সপ্তাহ চলে যাবে’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার বন্যায় রেল ও সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷ ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রেললাইনের ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে৷ একাধিক জায়গায় রেললাইন এক থেকে পাঁচ ফুট পানির নিচে রয়েছে৷ ফলে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে৷ রেল মন্ত্রণালয় থেকেও বলা হয়েছে, রেললাইন থেকে পানি অপসারিত হলে এবং লাইন সংস্কার শেষে এই রুটে ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করা হবে৷ এদিকে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর৷ শুক্রবার দুপুরে তলিয়ে গেছে স্থলবন্দরের কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন অফিস এবং ব্যবসায়ীদের অফিস৷ এ কারণে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ও যাত্রী পারাপার ব্যহত হচ্ছে৷

দিনাজপুর সদর উপজেলার ইউএনও আব্দুর রহমান জানান, ‘‘শুধু সদরেরই ২৬টি সড়কের ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পেয়েছি৷ তবে এটা আরও বেশি হতে পারে৷

‘সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না, সাধারণ মানুষকেও সহযোগিতা করতে হবে’

পার্বতীপুর রেলস্টেশন মাস্টার শোভন রায় জানান, বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন সংস্কার ও মেরামত কাজ শেষে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু করা যাবে৷ তবে কবে নাগাদ শুরু হবে বলতে পারেননি তিনি৷ ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদর ইউনিয়নের প্রধান সড়কের এমপি ডাঙ্গী গ্রাম ও সুপারিবাগান গ্রাম পয়েন্টের রাস্তার সঙ্গে পদ্মা নদী একাকার হয়ে গেছে৷ যে কোনো সময় রাস্তাটি ধসে পড়ে জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী৷

বাংলাদেশ পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বন্যা পরবর্তীতে সরকার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে মধ্যে পড়বে৷ যেখানে অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে তার জন্য কোন ফান্ড বরাদ্দ নেই৷ উন্নয়ন খাত থেকে টাকা এনে এখানে দিতে হবে৷ এগুলো করতেও সময় লাগবে৷ পাশাপাশি উন্নয়নে কর্মকাণ্ডেও বিরূপ প্রভাব পড়বে৷ তবে এসব কিছুর আগে আমাদের বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে৷ শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না, সাধারণ মানুষকেও তাদের সহযোগিতা করতে হবে৷ আর ১৯৯৮ সালের পর আমাদের সড়ক অবকাঠামো এভাবে ধ্বংস হয়নি৷''

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য