1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

ইউরোপে দুশ্চিন্তা

৯ মে ২০১২

ফ্রান্স ও ইটালিতে নির্বাচনের পর ইউরো এলাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে৷ এই দুই দেশের নতুন সরকার যদি এতকাল ধরে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি চ্যালেঞ্জ করে বসে, সেক্ষেত্রে ইউরোপে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে৷

https://p.dw.com/p/14rsK
ARCHIV - Die Kombo zeigt den französischen Präsidentschaftskandidaten Francois Hollande (Archivfoto vom 25.04.2012) und die deutsche Bundeskanzlerin Angela Merkel (Archivfoto vom 06.11.2008). Es knirscht zwischen der Bundeskanzlerin und dem möglichen künftigen Präsidenten Frankreichs. Zwischen den beiden zeichnet sich für den Fall eines Sieges von François Hollande ein Kräftemessen um den Fiskalpakt ab. Fotos: Rainer Jensen/Ian Langsdon dpa (zu 0169 vom 27.04.2012) +++(c) dpa - Bildfunk+++ )
ফ্রান্সের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া ওলঁদ এবং জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলছবি: picture-alliance/dpa

জনগণের রায়

ইউরোপের সংকট কাটাতে এতকাল শুধু রাজনৈতিক নেতারাই আর্থিক ও অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন করে যাচ্ছিলেন৷ জনগণ নীরব দর্শক হয়ে ছিল৷ এবার ব্যালট বাক্সের মধ্য দিয়ে তারাও তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে৷ ক্ষমতাসীন শ্রেণির বিরুদ্ধে রায় দিচ্ছে তারা৷ ফ্রান্সের আগামী প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া ওলঁদ ব্যয় সংকোচের বদলে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার অঙ্গীকার করেছেন৷ গ্রিসে দুই প্রধান দলকে তাদের ব্যর্থতার মূল্য চোকাতে হয়েছে৷ ইটালিতেও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনে দুই প্রধান দল খারাপ ফল করেছে৷ অর্থাৎ আর্থিক সংকট সামলাতে এতকাল যেসব পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, রাজনৈতিক পালাবদলের ফলে সেগুলির ভবিষ্যৎ আচমকা অনিশ্চিত হয়ে পড়লো৷

ফরাসি-জার্মান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ

বিশেষ করে ইউরোপের চালিকা শক্তি হিসেবে পরিচিত দুই দেশ – ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে ঐক্য কতটা মজবুত থাকবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পুঁজিবাজার৷ ম্যার্কেল-সার্কোজি'র ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্বের পর ওলঁদ ও ম্যার্কেল'এর সংঘাতের সম্ভাবনা গোটা ইউরোপের কাছে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ওলঁদ'এর ঘোষিত নীতির পরিপ্রেক্ষিতে ম্যার্কেল বলেন, ‘‘জার্মানিতে আমাদের মত হলো, বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে

, নতুন করে তাতে কোনো রদবদল করা সম্ভব নয়৷ ব্যক্তিগতভাবেও আমি সেটা মনে করি৷ দ্বিতীয়ত, বড় বা ছোট – যেকোনো দেশে নির্বাচনের পরে অতীতের সব সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয় না৷ ইউরোপে এক্ষেত্রে মৌলিক একটা রীতি চালু আছে৷ এমনটা করলে ইউরোপের মধ্যে আমাদের পক্ষে কোনো কাজ করাই সম্ভব হবে না৷''

View from a polling station in Athens. Foto:Nikos Anagnostou/DW correspondent 6.4.2012
গ্রিসে নির্বাচনের দৃশ্যছবি: DW

ভবিষ্যতের রূপরেখা

জার্মানির নেতৃত্বে ইউরো এলাকা তথা ইউরোপ এতকাল নির্দিষ্ট একটি পথে এগোচ্ছিল৷ জার্মানি চায় সমস্যার আমূল সমাধান৷ ব্যয় সংকোচ করে, বাজেট ঘাটতির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে, রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় প্রয়োজনীয় সংস্কার চালিয়ে, গোটা ব্যবস্থাকে আজকের যুগের উপযোগী করে তুলতে হবে – এটাই জার্মানির দাওয়াই৷

কিন্তু ওলঁদ সহ ইউরোপের নতুন নেতারা বলছেন, সেসব পরে দেখা যাবে৷ আপাতত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে, কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারি পর্যায়ে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে৷ কিন্তু জার্মানি কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, এতকাল যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সবাইকে তা মেনে চলতে হবে – কোনো ব্যতিক্রম সম্ভব নয়৷ ওলঁদ যদি তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার পালন করতে চান, তাঁকে নিজেই বাড়তি অর্থ জোগাড় করতে হবে৷ জার্মানি তা যোগান দিতে পারবে না৷

অর্থাৎ সরকারি কর্মসূচির জন্য নতুন করে ভর্তুকির প্রয়োজন পড়লে তাতে হিতে বিপরীত হবে, এটাই জার্মানির বিশ্বাস৷ তবে ওলঁদ যাতে নিজের মুখরক্ষা করতে পারেন, তা মাথায় রেখে বর্তমান ইউরোপীয় কাঠামোর মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে জার্মানি৷ আগামী ১৫ই মে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের এক দিন পরই ওলঁদ বার্লিনে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল'এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন৷ এর আগে কোনো নেতৃস্থানীয় পদে কাজের অভিজ্ঞতা নেই ওলঁদ'এর৷ বার্লিনে তিনি ইউরোপীয় রাজনীতির বাস্তব পরিস্থিতির প্রথম স্বাদ পেতে চলেছেন৷

গ্রিসকে নিয়ে দুশ্চিন্তা

আপাতত সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা গ্রিসের ভবিষ্যৎ নিয়ে৷ সেদেশের নতুন সরকার যদি আগের সরকারের অঙ্গীকার না মেনে সব চুক্তি ভঙ্গ করে, তাহলে সেদেশকে বাধ্য হয়ে ইউরো এলাকা থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে৷ সেটা হবে ইউরো এলাকায় চিড় ধরার প্রথম ঘটনা৷ একবার এমন অঘটন ঘটলে অন্য কোনো দেশের ক্ষেত্রেও তেমনটা ঘটবে না, সেটা হলফ করে বলা যায় না৷ তাছাড়া একটি দেশে রাজনৈতিক পালাবদলের ফলে একটা গোটা মহাদেশের আর্থিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে – এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারছে না গোটা বিশ্বের পুঁজিবাজার৷

প্রতিবেদন: সঞ্জীব বর্মন (এপি, এএফপি, রয়টার্স)
সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য