1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

নারীশিক্ষা

১০ মে ২০১২

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়ে শিশুদের অংশগ্রহণ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি৷ পরিসংখ্যান বলছে, বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে মেয়ে শিশুর হার শতকরা ৫২.৪৮ ভাগ৷

https://p.dw.com/p/14sPz
ছবি: AP

সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষমাত্রা বা এমডিজি নিয়ে গত কিছু দিন আগেই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ৷ এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমডিজি অর্জনে যে সব দেশ খুবই ভালো করেছে বাংলাদেশ তাদের একটি৷ বিশেষ করে শিক্ষাখাতে বাংলাদেশের উন্নতি বিশেষ লক্ষণীয়৷

বাংলাদেশ সরকারও বলছে, বর্তমানে প্রায় শতভাগ শিশু প্রাথমিক শিক্ষার আওতাভুক্ত হয়েছে৷ গত মার্চ মাসে করা সরকারি পরিসংখ্যান থেকে জানা যাচ্ছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়ে শিশুদের অংশগ্রহণের হার এখন ছেলে শিশুদের চেয়েও বেশি৷

গ্রামে-গঞ্জে, হাওরে-পাহাড়ে বেড়ে উঠা শিশুরা আজ বিদ্যালয়মুখী৷ কিন্তু কীভাবে সম্ভব হলো এই অর্জন? এ বিষয়ে- গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘‘দেশে এখন শিক্ষার চাহিদা তৈরি হয়েছে৷ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে দেশে তৈরি হয়েছে শিক্ষার এই চাহিদা৷ সব শ্রেণির মানুষই আজ লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহী৷''

এক দিকে তৈরি হয়েছে শিক্ষার চাহিদা৷ অন্যদিকে এর পেছনে আছে সরকার ও রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা৷ সব মিলিয়ে তাই, মেয়ে শিশুদের শিক্ষার জন্য তৈরি হয়েছে একটা অনুকূল পরিবেশ৷

Bildergalerie Das Recht auf sauberes Wasser Mädchen trinkt frisch gepumptes Wasser
শিক্ষার তৃষ্ণা মেটাতে চাই আরও সুযোগছবি: CC/waterdotorg

রাজনৈতিক দল ও সরকারের সদিচ্ছার উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আমরা দেখেছি যে, সাধারণত এক সরকার কোন উদ্যোগ নিলে অন্য সরকার এসে সেটিকে অনেক সময়ই বাতিল করে দেয়৷ কিন্তু মেয়ে শিশুদেরকে শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য যে ‘উপবৃত্তি' প্রথা চালু হয় এটির ক্ষেত্রে এরকম ঘটেনি৷ এক সরকারের আমলে উপবৃত্তি চালু হলেও অন্য সরকার এসে এটিকে বন্ধ করে নি৷ বরং অব্যাহত রেখেছে৷''

দরিদ্র শিশুদের স্কুলমুখী করার উদ্দেশ্যে চালু হয় উপবৃত্তি ব্যাবস্থা৷ প্রতিমাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রতিটি মেয়ে শিশুকে দেয়া হয়৷ ফলে অতি দরিদ্র বাবা-মায়েরা, যারা আগে হয়তো মেয়েটিকে স্কুলে দিতে আগ্রহী ছিলেন না, এখন তারাও মেয়ে শিশুকে স্কুলে পাঠাচ্ছেন বলে মনে করেন রাশেদা কে চৌধুরী৷

শুধু উপবৃত্তিই নয়, অতিদূর্গম চরাঞ্চল বা দরিদ্র এলাকায় কোন কোন ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদেরকে দুপুরের খাবারটাও বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়৷ এছাড়া সব শিশুকে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয় পাঠ্যপুস্তক৷ এই বিষয়গুলোও প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি৷

সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা বিস্তারের জন্য কাজ করছে৷ ব্র্যাক ও আশা'র মতো বিভিন্ন এনজিও চালু করেছে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা৷ এর ফলে গ্রাম ও চরাঞ্চলের শিশুরা শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে৷ শুধু তাই নয়, একটু বেশি বয়সের শিশু - নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাদের ভর্তি হবার বয়স পেরিয়ে গেছে, তারাও এই উপানুষ্ঠানিক শিক্ষায় অন্তভুর্ক্ত হতে পারছে এবং পরবর্তিতে মাধ্যমিক বা কারিগরি শিক্ষা বা বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে৷

তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়লেও এখনো প্রচুর শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে যাচ্ছে বলেও মনে করেন রাশেদা কে চৌধুরী৷ 

তিনি বলেন, ‘‘সরকারি হিসেবেই এখনো প্রায় এক চতুর্থাংশ শিশু ঝরে পড়ছে বিদ্যালয় থেকে৷ বেসরকারি হিসেবে যেটি আরো বেশি অর্থাৎ প্রায় এক তৃতিয়াংশ৷''

বিদ্যালয় থেকে শিশুদের, বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের ঝরে পড়া রোধ করতে সামাজিক নিরাপত্তা আরো বাড়াতে হবে বলে মনে করেন রাশেদা কে চৌধুরী৷ এর পাশাপাশি স্থানীয় সরকারকে আরো বেশি শক্তিশালী করার উপরেও জোড় দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি৷ কারণ বিদ্যালয়ের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে, মেয়ে শিশুদেরকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে আর অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করতে কেন্দ্রীয় সরকারের চেয়ে স্থানীয় সরকারই বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেই তাঁর ধারণা৷

প্রতিবেদন: আফরোজা সোমা

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য

এই বিষয়ে আরো তথ্য