1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

প্রত্যাবাসনের ভয়ে রোহিঙ্গারা

২১ আগস্ট ২০১৯

আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গার প্রত্যাবসানের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় পর জীবন নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন তারা৷

https://p.dw.com/p/3OHWS
Rohingyas Flüchtlinge kehren nach Myanmar zurück
ছবি: DW/A. Islam

সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের মুখে দেশ ছেড়ে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছেন তারা৷ ডয়চে ভেলের নাওমি কনরাড এবং আরাফাতুল ইসলাম তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন৷

সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের মুখে দেশ ছেড়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে সাড়ে তিন হাজার জনকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বাছাই করা হয়েছে৷

রোহিঙ্গাদের হাসিমুখের ছবিসহ বার্মিজ ও ইংরেজি ভাষায় একটি লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে, সেখানে রোহিঙ্গাদের নতুন ঘর এবং নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে৷

একটি লিফলেটে দেখা যায়, একজন নারী একটি কার্ড হাতে নিয়ে আছে, ক্যাপশনে লেখা আছে আমি মিয়ানমারের বাসিন্দা৷  ক্যাম্প অফিসার জানান, মিয়ানমার সরকার এই লিফেলট সরবরাহ করেছে৷

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়নে প্রাথমিক বিদ্যালয় এবংস্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র করা হয়েছে৷ প্রধান সড়কের পাশে ছোট ছোট কিছু দোকান বসানো হয়েছে৷

কর্মসংস্থানের সুযোগ খুব কম থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে যুবকদের তেমন কিছুই করার থাকে না৷ সহায়তাকর্মীরা চলে যেতে শুরু করলে ক্যাম্পের ভেতরের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন৷  এরপরেও শরণার্থীরা বলেছেন, মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া থেকে এখানকার জীবনই ভালো৷

৬০ বছর বয়সী রহুল মিয়ানমারে ফিরে যেতে চান না৷ তিনি বলেন, ‘‘তারা আমাদের মেরে ফেলেছে, আমাদের জমি পুড়িয়ে দিয়েছে৷''

অন্ধকার ঘরের মধ্যে আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন ২১ বছর বয়সী নূরের স্ত্রী৷ মিয়ানমারে একটি সব্জির দোকান ছিল নুরের৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি আমার জমির দিকে তাকিয়ে কান্নাকাটি করি, কিন্তু সেখানে আর ফিরে যেতে চাই না৷ আমাকে মেরে ফেলা হতে পারে৷''

কেন ফেরত যেতে চায় না রোহিঙ্গারা?

কে কীভাবে সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নির্বাচিত করেছে সে বিষয়ে সহায়তাকর্মীরা কিছু জানাতে পারেননি৷ তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন এটি মিয়ানমার সরকারের উপর চাপ বাড়াতে বাংলাদেশের একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ৷

কয়েকটি সূত্র বলছে, বাংলাদেশ সরকার ২২ হাজার রোহিঙ্গার একটি তালিকা মিয়ানমারে পাঠায়, সেখান থেকে ৩ হাজার ৪৫০ জনকে প্রত্যাবাসনের জন্য মনোনীত করা হয়৷

তালিকায় যাদের নাম উঠেছে তারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরতে চান কি না তা যাচাই করছে ইউএনএইচসিআর৷ সংস্থাটি বার বার বলছে, জোর করে কাউকেই মিয়ানমার ফেরত পাঠানো হবে না৷ তবে শরণার্থীরা তাদের এই বক্তব্য বিশ্বাস করতে চাইছেন না৷

ইউএনএইচিসআর এর কর্মকর্তাদের কাছে সাক্ষাৎকারের জন্য নেওয়া হচ্ছিল বেশ কয়েকজন নারীকে৷ কিছু সময়ের জন্য তারা বিক্ষোভ দেখান৷ এরা বলেন, মিয়ানমারে নাগরিকত্বের অধিকার এবং জমি ফিরে না পেলে তারা ফিরে যাবেন না৷ এসময় এক নারী চেঁচিয়ে বলে উঠেন, ‘‘আমাদের ধর্ষণ করা হয়েছে, আমরা নির্যাতনের স্বীকার হয়েছি, আমরা বাড়ি ফিরে যাব না৷''

একজন নারী তার ঘোমটা টেনে বলেন, ‘‘যদি আপনারা আমাদের ফিরে যেতে বাধ্য করেন তবে আমরা আত্মহত্যা করব৷''

একজন পুলিশ সদস্য নারীদের শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন এবং বলছিলেন, সরকার কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে মিয়ানমার ফেরত পাঠাবে না৷ এসময় একজন তার শার্ট ছিড়ে বুক দেখিয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে বলেন, ‘‘যদি আমাকে ফিরে যেতে হয়, তবে এখনই আমাকে গুলি কর৷''

নাওমি কনরাড ও আরাফাতুল ইসলাম/এসআই

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য