1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

নতুন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর অর্থ কোথা থেকে আসবে?

১৬ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বিএনপি সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ কয়েকটি কর্মসূচি চালু করেছে৷ বিভিন্ন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা সরকার এসব কর্মসূচির জন্য অর্থ কোথা থেকে জোগান দেবে, সেই প্রশ্ন উঠছে৷

https://p.dw.com/p/5CIEg
কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বিএনপি সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ কয়েকটি কর্মসূচি চালু করেছে৷ছবি: Bangladesh PMO office's Facebook account

এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য কত অর্থ প্রয়োজন হতে পারে তা আগামী বাজেটে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যেগুলো ইতিমধ্যে চালু আছে সরকার সেগুলোর অপচয় রোধ ও সংস্কার করবে৷ সেখান থেকে অনেক অর্থ আসবে৷ একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও সম্পদ সংগ্রহ করা হবে৷ আগামী বাজেটে এটা স্পষ্ট করা হবে৷ এটা নিয়ে কাজ চলছে৷''

যেসব কর্মসূচি চালু করেছে বিএনপি

  • ১০ মার্চ  ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান৷ প্রথম পর্যায়ে সারাদেশে ৩৪ হাজার ৫৬৪ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হয়েছে৷ আগামী অর্থবছরে (২০২৬-২৭) আরো ৪০ লাখ পরিবারের নারীপ্রধানকে এই কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার৷ এতে ১৩ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে৷ এই টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আধা সরকারি (ডিও) পত্র দিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন৷ পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরে ৬০ লাখ পরিবারকে এই কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার৷ প্রতি কার্ডধারী মাসে পাবেন নগদ দুই হাজার ৫০০ টাকা৷
  • ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে ১০ জেলার ১১ উপজেলায় কৃষক কার্ডের উদ্ধোধন করা হয়েছে৷ কার্ড পাওয়া কৃষকেরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন৷ এগুলো হলো- ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ; ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা; সহজ শর্তে কৃষিঋণ; স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি; সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা; মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য; কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ; ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ; কৃষি বিমা সুবিধা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা পাবেন কৃষকেরা৷ এছাড়া তারা বছরে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন৷ অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন আগামী চার বছরে দুই লাখ ৫০ হাজার কৃষক এই কার্ড পাবেন৷
  • এর আগে সরকার ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে৷ সুদসহ যার পরিমাণ এক হাজার ৫৫০ কোটি টাকা৷
  • খাল খনন কর্মসূচিও শুরু হয়েছে৷ আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করতে চায় সরকার৷ প্রতি কিলোমিটার খাল খননের খরচ ২০ লাখ টাকা ধরেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড৷
  • ৩০ মার্চ ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেয় সরকার৷ মোট ৫০০ ক্রীড়াবিদকে মাসিক ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে৷ তারা প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে ভাতা পাবেন৷
  • স্বাস্থ্য কার্ড ও স্বাস্থ্য বিমা নিয়েও কাজ করছে সরকার৷
  • ১৮০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যান নিয়েও কাজ করছে বিএনপি সরকার৷

অর্থনীতিবিদরা যা বলছেন

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিস (বিস)-এর গবেষণা পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ‘‘বিএনপি তার নির্বাচনি ইশতেহারে ওই প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছে৷ তারা বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজও শুরু করেছে৷ কিন্তু পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, অর্থ কোথা থেকে আসবে সেটাই বড় প্রশ্ন৷ অর্থ তো অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগ্রহ করতে হবে৷ তাহলে কর আদায় বাড়াতে হবে৷ এজন্য আগামী বাজেটে করের বোঝা আরো বাড়বে৷ তা আবার মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্তের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে৷ সেটা নতুন আরেকটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে৷ আমি এখনো সরকারি কোনো ডকুমেন্টে এ নিয়ে বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা দেখিনি৷ উদ্যোগগুলো ভালো৷ কিন্তু কতটা বাস্তবায়ন করা যাবে সেটাই প্রশ্ন৷''

‘সরকার চালু হওয়া কর্মসূচিগুলোর অপচয় রোধ ও সংস্কার করবে’

তিনি বলেন, ‘‘শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয়,  শেষ পর্যন্ত কিন্তু এক কোটি ৬৫ লাখ কৃষককে কার্ডের আওতায় আনতে হবে৷ খাল খননে প্রচুর অর্থ লাগবে৷ স্বাস্থ্য কার্ড একটা বিরাট প্রকল্প৷ এখানে অনেক টাকা লাগবে৷ আমাদের রাজস্ব সংগ্রহের যে অবস্থা তাতে মনে হয় না যে খুব বেশি কিছু করা যাবে৷ এরমধ্যে জ্বালানি তেলের সংকট৷ এখানে প্রচুর ভর্তুকি দিতে হচ্ছে৷ সরকারের দায় আছে ২৩ লাখ কোটি টাকা৷ যা বিশ্ব পরিস্থিতি তাতে অর্থনীতি কোন দিকে যায় বলা যাচ্ছে না৷ বিশ্বব্যাংক বলছে আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৩.৯ শতাংশ৷ এডিবি, আইএমএফ সামান্য বেশি বলছে৷ কিন্তু সবার মধ্যে একটি আশঙ্কা যে আগামীতে বিশ্ব অর্থনীতি চাপে থাকবে৷ বাংলাদেশের অর্থনীতিও চাপে থাকবে৷ ফলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিও বড় চাপে পড়বে৷ এখানে অপচয়, দুর্নীতির কথা বলা হলেও তার হিসাব তো এখনো করা হয়নি৷''

‘‘সরকার চাইলেই কিন্তু কোনো প্রকল্প থেকে কাউকে বাদ দিতে পারবে না৷ আবার কোনো প্রকল্প বন্ধও করতে পারবে না৷ কারণ সামনে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আছে,'' বলেন ড. মাহফুজ কবীর৷

আগামী বাজেটে (২০২৬-২৭) সরকার তার সামাজিক নিরাপত্তার নতুন কর্মসূচি স্পষ্ট করবে৷ অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তখন বোঝা যাবে সরকার তার কর্মসূচিগুলো কীভাবে, কোন উপায়ে বাস্তবায়ন করতে চায়৷ অর্থ সংগ্রহ করবে কীভাবে৷ এই কারণেই হয়তবা সরকার অনেক বড় বাজেটের পরিকল্পনা করছে৷ আগামী অর্থ বছরের বাজেট হতে পারে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার, যা চলতি বাজেটের চেয়ে আকারে ২৫ শতাংশ বড় হতে পারে৷

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, ‘‘বাজেট বড় করার পক্ষে আমিও৷ কিন্তু সেটা বাস্তবায়নযোগ্য কি না দেখতে হবে৷ একমাত্র রেমিটেন্স ছাড়া অর্থনীতির সব সূচক এখন নিম্নমুখী৷ রাজস্ব আদায় কখনোই টার্গেট পূরণ করতে পারে না৷ সরকার ব্যাংক থেকে ধার করছে৷ ২০০ কোটি ডলার ঋণ নেয়ার চেষ্টা করছে দেশের বাইরে থেকে৷ আর যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে৷ ফলে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে আছে৷ সরকার সেটা বুঝতে পেরেই অর্থনীতিবিদদের নিয়ে একটি কৌশল প্রণয়ন কমিটি গঠন করেছে৷'' ৩৬ সদস্যের ওই কমিটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ৷

‘‘সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় শতাধিক ধরনের প্রকল্প ও ভাতা চলমান আছে৷ আর প্রত্যেক বছরই উপকারভোগী এবং বরাদ্দ বড়ছে৷ এখন সেটা যখন চলছে সেখানে সরকার নতুন করে যে প্রকল্পগুলো চালু করছে সেগুলো করার আগে পুরনোগুলো মূল্যায়ন করা দরকার ছিলো৷ নতুন কর্মসূচিগুলো ধরে নিলাম ভালো৷ কিন্তু এর অর্থ কোথা থেকে আসবে? আর এটা কী ফল দেবে তাও আমার কাছে স্পষ্ট নয়৷ বাজেটে হয়তো আমরা জানতে পারবো,'' বলেন ড. আইনুল ইসলাম৷

বাজেটে প্রকাশ করা হবে

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘‘আমরা একটা বৈরি পরিস্থিতিতে এই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কাজগুলো হাতে নিয়েছি৷ আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পেয়েছি৷ এরসঙ্গে আছে বৈরী ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি৷ এর সঙ্গে প্রলম্বিত মূল্যস্ফীতি এবং গত তিন বছরে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে৷ তারপরও সরকার তার ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে৷''

 ‘‘অতীতের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোতে প্রচুর অপচয় হয়েছে৷ রাজনৈতিক বিবেচনায় সুবিধাভোগী নির্ধারণ করা হয়েছে৷ ফলে যাদের সুবিধা পাওয়ার দরকার ছিলো তারা পায়নি৷ তাই সরকার সংস্কার করতে চায়৷ সেটা নিয়ে কাজ চলছে৷ এই অপচয় রোধ করে অনেক অর্থ পাওয়া যাবে৷ আবার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও অর্থ সংগ্রহ করা হবে৷ এর মাধ্যমেই নতুন প্রকল্পের অর্থ সংগ্রহ করা হবে৷ প্রকৃত যাদের সহায়তা প্রয়োজন তারাই যাতে পায় সেজন্যও নানা ধরনের জরিপ করা হচ্ছে,'' বলেন তিনি৷

কত অর্থ লাগতে পারে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘‘আগামী বাজেটে আমরা এই বিষয়ে সংস্কার কর্মসূচি প্রকাশ করব৷ আমরা নানা নামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কর্মসূচিগুলোতে সংস্কার করে সেখান থেকে অনেক অর্থ পাবো৷ আরো অর্থ সংগ্রহ করা হবে৷''

যেসব কর্মসূচি এখনো চলমান

‘দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপে আছে’

দেশে ১০০-১৪০ ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু আছে৷ ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে সামাজিক নিরাপত্তার ৯৫টি খাতে বাজেটে মোট এক লাখ ২৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়, যা ওই বছরের মোট বাজেটের ১৬.০৪ শতাংশ৷ তারমধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ বয়স্ক ভাতায়৷ এই খাতে বরাদ্দ দেয়া হয় চার হাজার ১৯৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা৷ প্রতিবন্ধী এবং শিক্ষা উপবৃত্তি খাতে তিন হাজার ৮৪৫ কোটি চার লাখ টাকা৷ বিধবা ভাতা দুই হাজার ২৭৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা৷ সামাজিক নিরাপত্তার শীর্ষ খাত এই তিনটি৷

২০২৪-২৫ অর্থ বছরে মোট বরাদ্দ ছিলো এক লাখ ৩৬ হাজার ২৬ কোটি টাকা৷

বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে চালু হয়৷ দরিদ্র এবং আয় ক্ষমতা হারানো বৃদ্ধদের সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এটি চালু হয়েছিল৷ বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমের উপকারভোগীর সংখ্যা এখন ৬২ লাখ৷ এর মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ভাতা ৭০০ টাকা এবং ৯০ বছর ঊর্ধ্ব দুই লাখ পাঁচ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক এক হাজার টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন৷

২৯ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতার মধ্যে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার জন ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন৷ ৯০ বছর ঊর্ধ্ব ২৫ হাজার বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত পাচ্ছেন মাসিক এক হাজার টাকা হারে৷

প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমের উপকারভোগী মোট ৩৬ লাখ৷ প্রতিবন্ধীর মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন মাসিক ৯০০ টাকা হারে এবং ১৮ হাজার ১০০ জন মাসিক এক হাজার টাকা হারে প্রতিবন্ধী ভাতা পান৷

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও মেধাবৃত্তির মাসিক হার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চতর স্তরে যথাক্রমে ৯৫০ টাকা, এক হাজার টাকা,  এক হাজার ১০০ টাকা এবং এক হাজার ৩৫০ টাকা৷

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ৷ মাসিক ভাতার হার ৭০০ টাকা ৷

অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও মেধাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৫ হাজার ৩৩৮ জন৷ এ ক্ষেত্রে বৃত্তি ও মেধাবৃত্তির মাসিক হার প্রাথমিক স্তরে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৮০০ টাকা, উচ্চমাধ্যমিক স্তরে এক হাজার টাকা এবং উচ্চতর স্তরে এক হাজার ২০০ টাকা ৷

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৬৫ হাজার ৷ তাদের এককালীন সহায়তার পরিমাণ এখন এক লাখ টাকা৷

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জন৷ এই কর্মসূচির আওতায় একজন মা মাসিক ৮৫০ টাকা হারে ভাতা পান৷

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা ৬০ লাখ৷ এ কর্মসূচির আওতায় প্রতি পরিবার কেজি প্রতি ১৫ টাকা দরে মাসে ৩০ কেজি করে মোট ছয় মাস খাদ্য সহায়তা পেয়ে থাকে৷ এর বাইরে আরো অনেক প্রকল্প আছে৷

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, ‘‘সরকার আগের সে সামাজিক নিরাপত্তার খাতগুলো আছে সেগুলো সংস্কার করবে৷ কারণ এখানে রাজনৈতিক বিবেচনায় উপকারভোগীদের নির্ধারণ করা হয়েছে৷ ফলে যারা প্রয়োজন নেই সে সুরক্ষা পেয়েছে৷ যার প্রয়োজন সে পায়নি৷ প্রচুর অপচয় হচ্ছে৷ এগুলো ঠিক করা হচ্ছে৷''