1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

দুবাই থেকে আসামি ফেরানো নিয়ে আছে সাফল্য, ব্যর্থতা

১৬ জুন ২০২৬

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন৷ অতীতে দুবাই থেকে আসামি ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ যেমন সফল হয়েছে, তেমনি আছে পুলিশ হত্যা মামলার আসামি আরাভ খানকে ফেরাতে না পারার উদাহরণও৷

https://p.dw.com/p/5FU3k
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ (ফাইল ফটো)
ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সম্প্রতি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে দুবাই পুলিশ৷ছবি: bdnews24.com

আসামিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত দুই পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডয়চে ভেলেকে এসব তথ্য দিয়েছেন৷

২০২৩ সালে দুবাই থেকে একজন এবং চলতি বছরে দুবাই ও কাতার থেকে একজন করে আসামিকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়েছে৷ সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘‘ইন্টারপোলের রেড নোটিশের মাধ্যমে পলাতক আসামিদের দেশে ফেরানোর উদাহরণ রয়েছে৷ যেমন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল৷ এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে অন্যতম আসামি মহসিন মিয়াকে ফিরিয়ে আনা হয় এবং সর্বশেষ গত ৬ মে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি আরিফ সরকারকেও দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনে বাংলাদেশ পুলিশ৷ একইভাবে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মাথাবিহীন আব্রাহাম খান হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি মোবারক মণ্ডল হত্যাকাণ্ডের পর কাতারে পালিয়ে যান৷ পরবর্তীতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির মাধ্যমে কাতারে তার অবস্থান শনাক্ত করে গত ২৭ মে তাকেও দেশে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ৷ অর্থাৎ এই উদাহরণ দুটি বলছে, সংশ্লিষ্ট দেশ সহযোগী হলে এবং নথিপত্র শক্ত হলে প্রত্যর্পণ সম্ভব৷''

আরাভ খানকে ফেরানো যায়নি

পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মামুন এমরান খান হত্যা মামলায় আরাভ খাননামে পরিচিত রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল৷ কিন্তু তাকে দেশে ফেরানোর কাজটি জটিল ছিল বলে জানান এক পুলিশ কর্মকর্তা৷ তিনি বলেন, ‘‘তিনি (আরাভ খান) দুবাইয়ে অবস্থান করছিলেন, কিন্তু তাকে দেশে ফেরানো জটিল হয়ে যায়৷ কারণ, তার কাছে ভারতীয় পাসপোর্ট থাকার তথ্য আসে৷ অর্থাৎ তিনি বাংলাদেশি নাগরিক হলেও অন্য দেশের পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট ব্যবহার করায় শেষ পর্যন্ত তাকে ফেরানো যায়নি৷ এ ধরনের বহুপক্ষীয় জটিলতা প্রত্যর্পণকে দীর্ঘ ও অনিশ্চিত করে৷ আরেকটি উদাহরণ শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ৷ ২০১৯ সালে তাকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের খবর আসে৷ বাংলাদেশ তাকে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু পরে তার অবস্থান নিয়েই অস্পষ্টতা তৈরি হয়৷ তিনি ভারতীয় ও ডমিনিকান রিপাবলিকের পাসপোর্ট ব্যবহার করছিলেন৷ শেষ পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশে আনা যায়নি৷ এসব ঘটনা দেখায়, গ্রেপ্তারসংক্রান্ত খবর থাকলেও সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত, পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব ও পরিচয়সংক্রান্ত জটিলতা প্রত্যর্পণের পথে বড় বাধা হতে পারে৷''

‘একটু সময় লাগলেও তাকে ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী'

বেনজীর আহমেদের ক্ষেত্রে কী হতে পারে?

ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সম্প্রতি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে দুবাই পুলিশ৷

পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) কাজ করা একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের ঘটনা অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য বড় অগ্রগতি৷ তবে এটি শেষ ধাপ নয়৷ পুলিশের রেড নোটিশে কোনো ব্যক্তি শনাক্ত বা গ্রেপ্তার হতে পারেন, কিন্তু তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো নির্ভর করে যে দেশে তিনি আটক হয়েছেন, সেই দেশের আইন, আদালত, প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত চুক্তি, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং মামলার নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতার ওপর৷

বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করানো এক বিষয়, পলাতককে দেশে ফেরানো আরেক বিষয়৷ ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে ‘রেড নোটিশের' তালিকায় এখন ৫৯ বাংলাদেশির নাম আছে৷ তাদের মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী, হত্যা মামলার আসামি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার পলাতক দণ্ডিত ও নানা মামলার পলাতক আসামিরা আছেন৷ কিন্তু তাদের অধিকাংশকে দেশে ফেরানো যায়নি৷

বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বর্তমানে কোনও কার্যকর দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি নেই৷ তবে ২০১৪ সালে দুই দেশের মধ্যে সই করা ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন সিকিউরিটি কো-অপারেশন' এবং ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্রান্সফার অব সেন্টেন্সড প্রিজনার্স' বিচারিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে৷ প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও বাংলাদেশের ‘এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট, ১৯৭৪'-এর ধারা ৪ অনুযায়ী সরকার চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে আইনের আওতায় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারে৷ 

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘তাকে ফেরানোর এই প্রক্রিয়াটা কঠিন হবে না৷ কারণ ইন্টারপোলের রেড ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে সেখানকার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে৷ তিনি যদি ওখানে কোনো অপরাধ না করে থাকেন তাহলে তো বুঝতে হবে ইন্টারপোলের নোটিশে তাকে ধরা হয়েছে৷ এই রেড নোটিশ হয়েছিল আমাদের দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে৷ চিঠিতে তারা সেই কথাটিই জানিয়েছে৷ অর্থাৎ তাকে ফেরত দেওয়ার এক ধরনের সদিচ্ছা আছে আরব আমিরাতের৷ ফলে একটু সময় লাগলেও তাকে ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী৷ এখন সরকারকে বাকি প্রক্রিয়াটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করতে হবে৷''

কাজ শুরু হয়েছে

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ইতিমধ্যে আমরা দুদকের সঙ্গে বৈঠক করে নথি গোছানোর কাজ শুরু করেছি৷ কারণ দুদকের মামলার রেড ওয়ারেন্টে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ আমাদের নথিপত্র গোছাতে কয়েকজন লাগতে পারে৷ তবে যত দ্রুত সম্ভব আমরা এগুলো গুছিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো৷ সেখান থেকে পাঠানো হবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে৷ ৩০ দিনের মধ্যে কাজটা করতে হবে, সেটাও আমাদের মাথায় আছে৷ এর অনেক আগেই আমরা প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন করতে চাই৷''

‘৩০ দিনের মধ্যে কাজটা করতে হবে, সেটাও আমাদের মাথায় আছে’

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম, খুন ও গণহত্যার অন্তত ১০টি মামলার তদন্ত চলছে৷ এসব মামলার তথ্য একত্রিত করে পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম৷ সোমবার প্রসিকিউশন কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘‘বেনজীর যখন র‌্যাবের প্রধান ছিলেন, তখন গুমের সাথে যেগুলো (মামলা) অলরেডি চলমান আছে, তার মধ্যে বিচার চলছে৷ বেনজীরকে শাপলা চত্বরের ঘটনার ‘অন্যতম কুশীলব'৷ তার বিরুদ্ধে আমাদের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে৷ চট্টগ্রামের একরাম কমিশনার হত্যাকাণ্ড, তার সাথেও তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল, সেখানেও তিনি আছেন৷ এবং আরো অন্তত ৭ থেকে ১০টি মামলার তদন্ত চলমান আছে, যেগুলোর প্রত্যেকটার মধ্যে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে৷''

বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতির সব নথিপত্র গোছাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)৷ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে এই নথিগুলো দ্রুত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম৷ সোমবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দুবাইতে গ্রেপ্তার হওয়া বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সব নথিপত্র তৈরির প্রস্তুতি চলছে৷ দুর্নীতির এসব নথিপত্র চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হবে৷ কেননা, প্রমাণ শতভাগ সঠিক না হলে তাকে ফেরানো কঠিন হবে৷

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে৷ তখন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ছিলেন বাহারুল আলম৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘ইন্টারপোলের কাজ ছিল রেড নোটিশ জারি করা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো৷ এখন বিষয়টি মূলত বাংলাদেশ সরকার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের মধ্যকার প্রক্রিয়া৷ কারণ, রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে, কিন্তু দেশে ফেরাতে হলে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে৷ রেড নোটিশের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা গেলেও অনেক সময় তাকে ফেরানো যায় না৷ কেউ অন্য দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করেন, কেউ বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অস্বীকার করেন৷ এ ধরনের জটিলতায় আগেও পলাতক আসামিদের ফেরানো সম্ভব হয়নি৷ তাই বেনজীর আহমেদকে ফেরাতে হলে যথাযথ নথিপত্র, পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ খুব গুরুত্বপূর্ণ৷''

সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বেনজীর আহমেদকে ফেরাতে অবশ্যই কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করতে হবে৷ এক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ এখানে কিন্তু ইন্টারপোলের নোটিশের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে দুবাই পুলিশ৷ তিনি সেখানে কোনো অপরাধ করেছেন এমন উল্লেখ নেই৷ আবার ইন্টারপোলেরও কোনো কারাগার নেই যে, তারা আটকে রাখবে৷ সংশ্লিষ্ট দেশের কারাগারেই তাকে রাখতে হয়৷ তারা তো আর বিনা কারণে কাউকে আটকে রাখবে না৷ আমরা যদি পর্যাপ্ত তথ্য উপাত্ত দিতে পারি তাহলে তাকে ফিরিয়ে না দেওয়ার কোনো কারণ নেই৷ তবে এটাও সত্যি যে, তিনি এখনও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব রেখেছেন কিনা? যদি অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে নেন তাহলে খানিকটা ঝামেলা হতে পারে৷ তবে আশার কথা, আমাদের নাগরিক বলেই তো দুবাই আমাদের জানিয়েছে৷''

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে যত মামলা

দুর্নীতি ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় সাবেক আইজিপিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির ছয়টি মামলা রয়েছে৷ এর মধ্যে ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বিচার চলছে৷ বাকি পাঁচটি মামলার তদন্ত চলমান৷ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক (মিডিয়া) আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘‘সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার পরও বেনজীর আহমেদ জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক বেসরকারি পাসপোর্ট গ্রহণ করেছিলেন৷ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর গত বছর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক৷ পরে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগে একাধিক মামলা করা হয়৷ মামলাগুলোর তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়৷ এর মধ্যে ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, বিভিন্ন জেলায় শত শত বিঘা জমি, কোম্পানির শেয়ার, ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্র রয়েছে৷''

সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় সেই তথ্য গোপন করে বেসরকারি চাকরিজীবী হিসেবে বেনজীর আহমেদ পাসপোর্ট নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে৷ ২০১৬ সালে র‌্যাবের মহাপরিচালক থাকার সময় তিনি এই কাজটি করেছিলেন৷

২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র৷ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে বেনজীর আহমেদও ছিলেন, যদিও তখন র‌্যাবে দায়িত্ব পালন শেষে আইজিপি পদে ছিলেন তিনি৷ তিনি র‌্যাবের প্রধান ছিলেন ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত৷ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ২০২২ সালের আগস্টে বেনজীর আহমেদ জাতিসংঘের পুলিশপ্রধান সম্মেলনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান৷ তবে সম্মেলনের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার বাইরে ওই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোথাও তিনি যেতে পারেননি৷

বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে পুলিশের মহাপরিদর্শক, এই তিন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বেনজীর আহমদ৷ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি পদে ছিলেন৷ এরপর তিনি অবসরে যান৷ দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর দুদকের অনুসন্ধান শুরু হলে ২০২৪ সালের ৪ মে দেশ ছেড়েছিলেন বেনজীর৷

ডয়চে ভেলের ঢাকা প্রতিনিধি সমীর কুমার দে৷
সমীর কুমার দে ডয়চে ভেলের ঢাকা প্রতিনিধি৷