দীপু দাস হত্যায় আরো তিন আসামি গ্রেপ্তার
১৯ মে ২০২৬
গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ী এলাকায় পাইওনিয়ার নিটওয়্যার্স (বিডি) লিমিটেড কারখানার সামনে অভিযান চালিয়ে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়৷
গ্রেপ্তার দুজন হলেন ত্রিশালের বাসিন্দা তাজমুল সরকার ওরফে সাদেক (২২), কিশোরগঞ্জের রুবেল মিয়া (৩৬) এবং নারায়ণগঞ্জের মো. রবিন (৩৭)৷ তারা পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী৷ ঘটনার পর থেকে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে অভিযান চালায় পুলিশ৷ এরই ধারাবাহিকতায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়৷
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নেন৷ তারা উত্তেজিত জনতাকে উসকানি দিয়ে দীপু চন্দ্র দাসকে মারধর ও মরদেহের ওপর অমানবিক নির্যাতনে সহযোগিতা করেন৷ এ ছাড়া কারখানার শ্রমিকদের স্লোগান দিয়ে উত্তেজিত করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলেন এবং জনতাকে বর্বরোচিত হামলায় উৎসাহিত করেন৷
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ডয়চে ভেলের কন্টেন্ট পার্টনার প্রথম আলোকে বলেন, দীপু চন্দ্র দাস হত্যায় গুরুত্বপূর্ণ আরো তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ তাদের আজ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে৷ এ ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ এর মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন৷ মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে৷
দীপু দাসকে হত্যার সেই রাত
২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পাইওনিয়ার নিটওয়্যার্স (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়৷ পরে কারখানা থেকে এক কিলোমিটার দূরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে ঝুলিয়ে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়৷ এ ঘটনায় তার ভাই অপু চন্দ্র দাস অজ্ঞাতপরিচয় ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন৷
এসিবি/ জেডএইচ (প্রথম আলো)