1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

ত্রিপুরায় জেএমবি-র সঙ্গে যুক্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার

তন্ময় চক্রবর্তী আগরতলা
৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতে নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবি-র সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ত্রিপুরার আগরতলায় জাগির মিঁঞাকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ।

https://p.dw.com/p/567z7
পশ্চিম আগরতলা থানা।
আগরতলার পুলিশ মঙ্গলবার নিষিদ্ধ জেএমবি-র সঙ্গে যুক্ত অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। ছবি: Tanmoy Chakraborty/DW

মঙ্গলবার ত্রিপুরা পুলিশ, আসাম পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে ৩৩ বছর বয়সি জাগির মিঁঞাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা এবং হানিফ মিঁঞার ছেলে।

পশ্চিম আগরতলা থানার অফিসার-ইন-চার্জ রানা চট্টোপাধ্যায়  জানিয়েছেন, জাগির বাংলাদেশ ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-র  শাখা সংগঠন ইমাম মাহমুদে কাফিলা-র একজন সক্রিয় সদস্য। মূলত হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সে ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

রানা বলেছেন, জাগির মিঁঞার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অনেকগুলি ধারায় মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

জেএমবি নিয়ে

জেএমবি-কে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া। ত্রিপুরা পুলিশের দাবি, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের কাছ থেকে তারা জেএমবি ও তার শাখা সংগঠনের সক্রিয় থাকার খবর পেয়েছে। সেইমতো তারা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

ত্রিপুরা-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৫৬ কিলোমিটার, যার কিছু অংশ এখনও কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে প্রশ্ন উঠছে। জাগির মিঁঞাকে গ্রেপ্তার করার পর সেই প্রশ্ন আবার উঠছে।

বাংলাদেশও সম্প্রতি অভিযোগ করেছে যে ওসমান হাদি হত্যার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ভারতে পালিয়ে এসেছে। 

সিপিএমের অভিযোগ, বিজেপি-র জবাব

ত্রিপুরা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও সিপিআই(এম) বিধায়ক জিতেন্দ্র চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ''প্রতিদিন নতুন নতুন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, মিয়ানমার থেকেও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ হচ্ছে। কাঁটাতারের বেড়া থাকলেই সব সমস্যার সমাধান হয় না, প্রয়োজন কঠোর নজরদারি।”

তিনি অভিযোগ করেন, ''সীমান্তের কিছু এলাকায় চোরাচালান ও অবৈধ কার্যকলাপে দুই দেশের কিছু অসাধু চক্র এবং সীমিত সংখ্যক সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আঁতাত রয়েছে। মানব পাচার, ভুয়ো আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড তৈরির মতো অপরাধও চলছে। এসবের দায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের।''

বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অমিত রাক্ষিত পাল্টা অভিযোগ করে বলেন. ''সিপিএমের দীর্ঘ শাসনকালে ব্যাপক অনুপ্রবেশ হয়েছিল এবং তাদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তখন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এখন বিজেপি সরকারের আমলে নিরাপত্তা বাহিনী সক্রিয়ভাবে জঙ্গি ও অনুপ্রবেশকারীদের ধরছে।''

তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ''উচ্চ প্রশিক্ষিত জেএমবি জঙ্গিরা এখন ধরা পড়ছে, যা আগে হয়নি। সিপিআই(এম) কখনও হিন্দুদের উপর হামলার বিরুদ্ধে মুখ খোলেনি। তাই তাদের বক্তব্যে আমরা বিস্মিত নই। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী দেশের সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে।''

তৎপরতা বাড়াচ্ছে সংগঠনগুলি?

সীমান্তে অপরাধ ও উগ্রপন্থা সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ  সাংবাদিক মানস পাল ডিডাব্লিউকে বলেছেন, ''কিছুদিন হলো বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আবার সক্রিয় হয়ে উঠছে। জেএমবি-ও নতুন করে তৎপরতা বাড়িয়েছে। এর প্রভাব উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি রাজ্যে পড়তে পারে। সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি ভারতে তাদের তৎপরতা বাড়াবার পাশাপাশি সদস্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করবে।'' 

মানস বলেছেন, ''আগরতলায় যে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে মূলত শীর্ষ নেতাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করত। পুলিশের খবর হলো, সীমান্ত পারাপারে সহায়তা করা, রেকি করা , তথ্য আদান-প্রদানসহ নানা ধরনের কাজে যুক্ত ছিল সে। তার সঙ্গে আরও অনেকের জড়িত থাকার সম্ভাবনা আছে।''