টিউনিশিয়ায় দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে অনশন ধর্মঘট
টিউনিশিয়ার অ্যাক্টিভিস্ট সিহেম বেনসেড্রিন ছয় মাস আটক থাকার পর মুক্তির দাবি আদায়ে মরিয়া। প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদের অধীনে টিউনিসিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতির নাটকীয়ভাবে অবনতি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অদম্য সিহেম বেনসেড্রিন
মুক্তির দাবিতে ৭৪ বছর বয়সি টিউনিশিয়ার অ্যাাক্টিভিস্ট সিহেম বেনসেড্রিন অনশন করছেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, "যে অবিচার আমার সঙ্গে হচ্ছে তা আমি আর সহ্য করতে পারছি না।" তিনি আরো লিখেছেন, "যে কোনো মূল্যে এই অন্ধকার থেকে নিজেকে বের করে আনার জন্য আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।"
মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি
২০২১ সালের জুলাই থেকে টিউনিশিয়ায় মানবাধিকার পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট ২০২৫ অনুসারে, নভেম্বর পর্যন্ত টিউনিশিয়ায় রাজনৈতিক কারণে ৮০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
বিরোধী মতবাদ দমনে রাজনৈতিক ট্যাগ
এ সময়ে বিরোধী মতবাদ দমনে রাজনৈতিক ট্যাগ দেয়ার প্রবণতাও বেড়েছে টিউনিশিয়ায়। টিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাইয়েদ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে অকার্যকর করার মাধ্যমে নিজের ক্ষমতা বাড়ানোয় এই দমন-পীড়ন আরো বেড়ে যায়। বিচারবিভাগের ক্ষমতাও কমানো হয়েছে এ সময়৷
পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ
২০২৪ সালের অক্টোবরে কাইস সাইয়েদ প্রেসিডেন্ট হিসাবে আরো পাঁচ বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে পর্যবেক্ষকরা বলেছিলেন. নির্বাচনটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিতে হয়নি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাইয়েদের শাসন শুধুমাত্র তার সম্ভাব্য রাজনৈতিক বিরোধীদের জন্যই নয়, সাধারণ মানবাধিকার কর্মীদের জন্যও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ন্যায় বিচার প্রাপ্তির সম্ভাবনা কমছে নির্যাতিতদের
২০১১ সালে আরব বসন্তের পর টিউনিসিয়াকে সেই অঞ্চলে গণতান্ত্রিক দেশের মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। যেসব দেশে 'আরব বসন্ত' হয়েছিল, তাদের মধ্যে টিউনিসিয়াই প্রথম ১৯৫৫ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে পূর্ববর্তী শাসনের অধীনে হাজার হাজার মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকারদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য ট্রুথ অ্যান্ড ডিগনিটি কমিশন (আইভিডি) নামের একটি সরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল।
জেনিফার হোলাইস, তারাক গুইজানি/এসএইচ