জার্মানির প্রতি পাঁচজনে একজন তরুণ দেশ ছাড়তে চান
৮ এপ্রিল ২০২৬
‘ইউগেন্ড ইন ডয়েচলান্ড', অর্থাৎ ‘জার্মানিতে তরুণরা' শীর্ষক সমীক্ষাটি করেছে ডেটাজকি ফেরলাগ নামের একটি প্রতিষ্ঠান৷ গত ৯ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৪ থেকে ২৯ বছর বয়সি ২,০১২ জনের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এ সমীক্ষায় প্রায় ২১% অংশগ্রহণকারী বলেছেন, আরো উন্নত জীবনের সন্ধানে তারা জার্মানি ছেড়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন৷ ৪১% তরুণ বলেছেন, তারা দীর্ঘমেয়াদে বিদেশে চলে যাওয়ার কথা ভাবতে পারেন৷
কারণ স্থবির অর্থনীতি, বেড়ে চলা আবাসন খরচ এবং এআই
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানি৷ যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের পরেই জার্মানির স্থান৷ এমন দেশের তরুণরা কেন উন্নততর জীবনের আশায় অন্য দেশে যেতে চান? সমীক্ষায় অংশ নেয়া অনেকেই এর কারণ হিসেবে বলেছেন, জার্মানিতে তারা অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন৷ অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতার কারণ হিসেবে গত দুই বছর ধরে জার্মানির অর্থনীতিতে যে এক ধরনের স্থবিরতা চলছে সে বিষয়টি তুলে ধরেছেন তারা৷ আরো বলেছেন, আবাসন খরচ ক্রমাগত বাড়তে থাকা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর প্রসারের কারণে কর্মজীবনে শঙ্কা বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপ তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথ আরো কঠিন করে তুলছে৷
সমীক্ষার পরিচালক জিমন শ্নেৎসার মনে করেন, ‘‘সাম্প্রতিক বছরগুলোর চাপ তরুণদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলছে, মানসিক সেই চাপ যে ক্লান্তি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার অভাববোধের মতো অনুভূতির জন্ম দিচ্ছে – এ সমীক্ষার ফলাফল তা-ই তুলে ধরেছে৷''
হামবুর্গের আইনের ছাত্র ফ্রেডেরিক ডিডাব্লিউ-কে জানিয়েছেন কেন তিনি অন্য দেশে যেতে চান৷ ২৯ বছর বয়সি তরুণ বলেন, ‘‘আমি গত বছর পিএইচডির জন্য তিন মাস টোকিওতে ছিলাম৷ জায়গাটা আমার খুব ভালো লেগেছে৷ তাই আগামী বছর সেখানে চলে যাওয়ার কথা ভাবছি৷''
তবে তার টোকিও যেতে চাওয়ার কারণ মোটা অঙ্কের আয় করে উন্নততর জীবনযাপন নয়৷ তার মতে, তরুণ আইনজীবীদের জন্য জার্মানিতে সেই সুযোগ এখনো অনেক বেশি৷ তবু তিনি জাপানে যেতে চান৷ কারণ, সেখানে তার ‘‘ভিন্ন ধরনের জীবনযাপন সত্যিই ভালো লেগেছিল'' এবং টোকিওতে জীবন ‘‘একটু বেশি শান্তিপূর্ণ, একটু বেশি পরিষ্কার ছিল৷'' তবে ফ্রেডেরিক আরো বলেন, ‘‘সাধারণভাবে, আমি ভিয়েনা, লন্ডন বা প্যারিসে থাকার কথাও বিবেচনা করবো৷''
২০২৪ সালে ডিস্টাটিস-এর করা এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ এখন সুইজারল্যান্ডে যেতে চান৷ সুইজারল্যান্ডের পরেই রয়েছে অস্ট্রিয়া৷ অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিষেবা এবং উন্নত জীবনযাত্রার মানের জন্য নিয়মিতই বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরগুলোর তালিকার প্রথম সারিতে স্থান পায়৷ ২০২৪ সালে মার্সার-এর করা আরেক জরিপ বলছে, জীবনযাত্রার মানের দিক থেকে সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহর জুরিখের ঠিক পরেই রয়েছে ভিয়েনা৷ সেই তালিকায় ওপরের দিকে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন এবং ফ্রান্সের শহরগুলোর নামও স্থান পেয়েছে৷
সারা হুকাল/ এসিবি