1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

জার্মানিতে পড়ার আগ্রহ কমে যাচ্ছে

লেখক: রায়হানা বেগম, সম্পাদক: আব্দুল্লাহ আল-ফারুক ১৬ মার্চ ২০০৯

জার্মানিতে কেউ কেউ বলে থাকেন বেশিক্ষণ বই পড়লে তাদের মাথা ধরে যায়৷ অবশ্য তারাই একথা বলেন যারা খুব একটা বই টই পড়েন না৷

https://p.dw.com/p/HDgK
ছবি: picture-alliance/dpa

জার্মানির মাইন্স শহরে অবস্থিত স্টিফটুং লেজেন অর্থাৎ পাঠাভ্যাস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ২০০৮ সালে জার্মানিতে পাঠাভ্যাস নিয়ে গৃহীত এক সমীক্ষায় এই তথ্য জানা গেছে৷

প্রশ্ন করা হয়েছিল জার্মানরা সাধারণত কী পড়েন, কতক্ষণ এবং কেন? আগের সমীক্ষাগুলোর তুলনায় বইকে ঘিরে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনও লক্ষ্য করা গেছে এই সমীক্ষায়৷

তবে সব মিলিয়ে জার্মানিতে পড়ার আগ্রহ কমে যাচ্ছে ক্রমেই৷ ২০০০ সালেও এই ধরনের সমীক্ষায় তিন ভাগের এক ভাগ উত্তরদাতা জানিয়েছিলেন যে, বছরে ১২ থেকে ৫০টি বই পড়ে থাকেন তারা৷ ২০০৮ সালে এই একই পরিমাণ বই পড়ার কথা জানিয়েছেন মাত্র ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা৷ অন্য ২৫ শতাংশ কোনো বই ধরেও দেখেননা৷ ছেলে মেয়েদের পড়ার অভ্যাস কমে যাবার পেছনে বাবা মায়েরাও দায়ী বলে মনে করেন মাইন্সের সংশ্লিষ্ট ফাউন্ডেশন৷ কেননা অনেক বাবা মা নিজেরাও বই পড়েননা সন্তানদেরও কোনো বই উপহার দেননা৷ যার একটা নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যায় স্কুলের বিভিন্ন বিষয়ের ফলাফলেও৷ এক্ষেত্রেই একটা পরিবর্তন দরকার৷ মনে করেন পাঠাভ্যাস সংক্রান্ত ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র ক্রিশ্টফ শ্যাফার৷

Ebook Präsentation von Springer auf der Frankfurter Buchmesse 2006
অনলাইনে কোনো ম্যাগাজিন পড়তে বা তথ্য সংগ্রহ করতে আগ্রহী হলেও গোটা একটা বই পড়তে ইচ্ছুক নন অনেকে৷ছবি: AP

তাঁর মতে গ্রন্থাগারগুলির পরিকাঠামো পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার ব্যাপারে খুব সহায়ক নয়৷ বাজেটে কাট ছাট করার ফলে নতুন বই কেনা সম্ভব হচ্ছেনা অনেক গ্রন্থাগারের পক্ষে৷ খুলে রাখার সময়সীমাও কমিয়ে দেয়া হয়েছে বেশ কিছু লাইব্রেরিতে৷ কিন্ডার গার্টেন ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে বাচ্চাদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে ইতোমধ্যে৷ অবশ্য তা খুব পর্যাপ্ত নয়৷ তবে বিদেশী বংশোদ্ভূত বা অভিবাসীদের পাঠাভ্যাসের ক্ষেত্রে একটা উল্লেখযোগ্য বিষয় লক্ষ্য করা গেছে৷

ক্রিশ্টোফ শ্যাফার জানান, ‘‘বিদেশী বংশোদ্ভূতদের মধ্যে জার্মান ভাষায় দখল আছে যাদের, বই পড়তেও পছন্দ করেন তারা৷ এটা আমাদের কাছে নতুন না হলেও এখন সমীক্ষার মাধ্যমে তা প্রমাণিত হল৷ এই শ্রেণীটা শিক্ষার জন্য পড়ার গুরুত্বটা উপলব্ধি করেন৷ শিক্ষাগত যোগ্যতার মাধ্যমে অনেকে ভাল ক্যারিয়ারও করেছেন জার্মানিতে৷ তারা জানেন, জার্মানিতে পেশাগত ও ব্যক্তিগত উন্নতি করতে হলে শিক্ষা কতটা জরুরি৷''

ফাউন্ডেশনের সমীক্ষায় উত্তরদাতা অভিবাসীদের ৩৬ শতাংশ জানান যে তারা প্রতি সপ্তাহে বেশ কয়েকবার বই পড়েন৷ ১১ শতাংশেরই প্রতিদিনই বই পড়ার অভ্যাস আছে৷

অবশ্য বইএর গুণগত মান নিয়ে গবেষণা করেনি সমীক্ষা গ্রহণকারী সংস্থাটি৷ তবে অভিবাসীরা যে বেশ কিছু বই বছরে পড়েন, এটাই বড় কথা৷ মনে করেন ক্রিশ্টফ শ্যাফার৷ পড়া বলতে শুধু বই পড়া বোঝায় না৷ অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশের মত জার্মানিতেও কম্পিউটারের পর্দায় পড়ার প্রবণতা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে৷ কিন্তু উত্তরদাতাদের বেশিরভাগই ছাপানো বইকে বাদ দিতে রাজী নন৷ এ ছাড়া কম্পিউটারের পর্দায় কোনো কিছু পড়তে গেলে অনেক সময় উল্টোপাল্টা হয়ে যায়৷ একথাও জানান তারা৷ ক্রিশ্টফ শ্যাফার বলেন, ‘‘আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এই অভিজ্ঞতা সব সময় হচ্ছে৷ আমরা ভেবেই দেখিনা কতবার আমরা কম্পিউটারের পর্দায় পড়ছি৷ তবে বই পড়ার সঙ্গে এর কিছুটা পার্থক্য রয়েছে৷ কম্পিউটারে ছোট এক ক্লিকের সাহায্যে এক পাতা থেকে অন্য পাতায় এগিয়ে যাওয়া যায়৷ পেছনেও চলে যাওয়া যায় সহজে৷ এতে করে ভবিষ্যতে হয়তো মানুষের পড়ার অভ্যাসই বদলে যাবে৷''

সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কেউ কেউ জানিয়েছেন, অনলাইনে কোনো ম্যাগাজিন পড়তে বা তথ্য সংগ্রহ করতে আগ্রহী হলেও গোটা একটা বই পড়তে ইচ্ছুক নন তারা৷

বই পড়ার ঐতিহ্য নতুন ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম যে ধ্বংস করতে পারবেনা, সমীক্ষার ফল থেকে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে৷ উত্তরদাতাদের ২৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা বহু বছর ধরে বই পড়ার অভ্যাসের প্রতি বিশ্বস্ত রয়েছেন এবং থাকবেনও৷