1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

কংগ্রেসের সঙ্গে পিকে-র আলোচনা ভেস্তে গেল

২৭ এপ্রিল ২০২২

কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন না প্রশান্ত কিশোর। সোনিয়ার দলের হয়ে ভোটের কৌশল রচনার কাজেও পিকে বা তার সংস্থা থাকবে না।

https://p.dw.com/p/4AToT
কংগ্রেসের ভোটকৌশলের দায়িত্ব পাচ্ছেন না প্রশান্ত কিশোর।
কংগ্রেসের ভোটকৌশলের দায়িত্ব পাচ্ছেন না প্রশান্ত কিশোর। ছবি: Hindustan Times/Imago Images

এক সপ্তাহে চারবার দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল। একাধিক প্রেজেন্টেশন দিয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর বা পিকে। সোনিয়া, রাহুল, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ছাড়াও কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী, চিদাম্বরম-সহ একাধিক নেতার সামনে খোলাখুলি তার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন পিকে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২২ ও তারপর যে বিধানসভা নির্বাচনগুলি আসছে, তার জন্য ভোটকৌশল কী হওয়া উচিত, তার রূপরেখা দিয়েছিলেন তিনি। পিকে-র কৌশল নিয়ে কংগ্রেস নেতাদের একটি কমিটি দলনেত্রীকে তাদের রিপোর্ট দেয়।

কিন্তু এতদূর এগিয়েও শেষ পর্যন্ত পিকে-কংগ্রেস ডিল চূড়ান্ত হলো না।

কেন ভেস্তে গেল আলোচনা?

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সূরযেওয়ালা টুইট করে বলেন, প্রশান্ত কিশোরের প্রেজেন্টেশন ও তার সঙ্গে আলোচনার পর কংগ্রেস সভানেত্রী ২০২৪-এর ভোটের জন্য একটি এমপাওয়ারড অ্যাকশন গ্রুপ তৈরি করেন। প্রশান্ত কিশোরকে বলা হয় কংগ্রেসে যোগ দিতে এবং ওই গ্রুপের সদস্য হতে। তাকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেয়ার কথাও বলা হয়। কিন্তু তিনি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। দলকে তিনি যে প্রস্তাব দিয়েছেন এবং যে চেষ্টা তিনি করেছিলেন, কংগ্রেস তার প্রশংসা করছে।

প্রশান্ত কিশোরও টুইট করে বলেন, কংগ্রেস তাকে দলে ও এমপাওয়ারড গ্রুপে যোগ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করতে পারছেন না। তার মতে, কংগ্রেসের এখন উপযুক্ত নেতৃত্ব ও যৌথ-ইচ্ছা দরকার। সেই সঙ্গে দরকার সংস্কার। তাহলেই গভীর সমস্যার সমাধান হতে পারে।

তবে সূত্র জানাচ্ছে, এই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার কারণ মূলত দুইটি। প্রথম কারণ হলো, পিকে চাইছিলেন কংগ্রেসে তাকে তিন নম্বর নেতার মর্যাদা দেবে। তাকে তার সিদ্ধান্ত রূপায়ণের ক্ষমতা দিতে হবে।  সোনিয়া, রাহুলের পরই কংগ্রেসে তার স্থান হবে। কিন্তু সোনিয়া-সহ কংগ্রেস নেতারা তাতে রাজি হননি। তারা এমপাওয়ারড গ্রুপের সদস্য হয়ে ভোটের কৌশলের দায়িত্ব নিতে বলেছিলেন।

দ্বিতীয় কারণ হলো, পিকে কংগ্রেসে যোগ দেবেন, আবার পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ও তেলেঙ্গানায় কেসিআরের দলের ভোটকৌশলের দায়িত্বে থাকবেন, এমন অবস্থান কংগ্রেস নেতারা মেনে নিতে পারেননি। তাদের বিশেষ করে আপত্তি ছিল তেলেঙ্গানা নিয়ে। কংগ্রেসের সঙ্গে যখন পিকের আলোচনা চলছে, তখন টিআরএসের সঙ্গে ডিল চূড়ান্ত করে নেয়া ও জোর করে কংগ্রেসকে তাদের সঙ্গে জোটের দিকে নিয়ে যাওয়া মেনে নিতে পারেননি কংগ্রেসের একাধিক নেতা।

পক্ষে-বিপক্ষে কে?

সূত্র জানাচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী পিকে-র পক্ষে ছিলেন। তিনি পিকে-র দাবি মেনে নিয়ে তাকে ভোটের দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন। রাহুল গান্ধী আবার উল্টো অবস্থানে ছিলেন। তিনি বারবার পিকে-কে নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলেছেন। পি চিদাম্বরম, সূরযেওয়ালা সহ একাধিক কংগ্রেস নেতার মত ছিল, এভাবে কংগ্রেসকে পিকে-র হাতে তুলে দেয়া ঠিক হবে না।

সূত্র জানাচ্ছে, একটি বৈঠকে পিকে-র সঙ্গে চিদাম্বরমের কিঞ্চিত মতবিরোধও সামনে আসে।

তবে ঘটনা হলো, অনেক আলাপ-আলোচনার পরেও পরিস্থিতি সেই একই জায়গায় থাকল। কংগ্রেসের সঙ্গে পিকে-র কোনো সম্পর্ক থাকছে না।

জিএইচ/এসজি (পিটিআই, এনডিটিভি)