1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

এবার এনপিআর বিতর্ক

রাজীব চক্রবর্তী নতুন দিল্রি
২৪ ডিসেম্বর ২০১৯

আসামে নাগরিকপঞ্জির পর সব রাজ্যে এনআরসি করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার৷ পাশ হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন৷ এই দুইয়েই কার্যত জ্বলছে দেশ৷ উত্তরপ্রদেশে মৃত্যু হয়েছে ১৭জনের৷ এখন আদমশুমারির আগে এনপিআর আপডেটে সবুজ সঙ্কেত দিলো সরকার৷

https://p.dw.com/p/3VIYs
Indien Neu Delhi Proteste gegen Staatsbürgerschaftsrecht
ছবি: AFP/P. Singh

Main Story- ভারত সরকারের কর্মকাণ্ডে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না৷ জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে গোটা দেশে যখন ধুন্ধুমার, তখন নতুন করে জাতীয় জনসংখ্যা পঞ্জি বা ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টারে ছাড়পত্র দিল সরকার৷ যা ২০২১-‌এর নির্ধারিত জনগণনার প্রাথমিক ধাপ৷ এজন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা৷ যা নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে৷ সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, আন্দোলনের জেরে আগেই এনপিআর তৈরির কাজ বন্ধ করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, কেরলের রাজ্য সরকার৷ অনেকের আশঙ্কা, এনপিআর করে এনআরসি-‌র পথ সুগম করা হচ্ছে নাতো!‌‌

যদিও এনপিআর কোনও নতুন বিষয় নয়৷ জাতীয় জনসংখ্যা পঞ্জি হল দেশে বসবাসকারীদের সম্পূর্ণ তালিকা৷ যা দেশের হাতে থাকেই৷ আপডেট করতে হয়৷ নিয়ম অনুযায়ী, জনগণনা কমিশনের অধীনে দেশে ১০ বছর অন্তর আদমশুমারি বা জনগণনা হয়৷ এই কাজে কমিশন নিযুক্ত প্রতিনিধিরা প্রত্যেক বাড়িতে গিয়ে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করেন৷ এজন্য কোনও নথিপত্রের প্রয়োজন হয় না৷ নাগরিকদের মৌখিক তথ্যের ভিত্তিতেই জাতীয় জনসংখ্যা পঞ্জি আপডেট হয়৷ জনগণনার আগে জাতীয় জনসংখ্যাপঞ্জি আপডেটের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ করাই রীতি৷ অতীতেও ২০১১ সালের জনগণনার আগে ২০১০ সালে এনপিআরের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল৷ আগামী ২০২১ সালে আবার জনগণনা হবে৷ যথারীতি তার আগে ২০২০ সালে এনপিআর তৈরি হবে৷ আগামী ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তর-‌পূর্বের রাজ্য অসম ছাড়া গোটা দেশের সবকটি রাজ্যে এনপিআর হবে৷ এতে ১৪টি আবশ্যিক প্রশ্ন জানতে চাওয়া হবে৷ পিতামাতার জন্মস্থান জানতে চাওয়া হবে৷ কোনো ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় ছ'‌মাস ধরে বসবাস করলে বা কোনো এলাকায় পরবর্তী ছ'‌মাস ধরে বসবাসের পরিকল্পনার কথা জানালে, তাঁকে সেই অঞ্চলের বাসিন্দা হিসেবে ধরে নেওয়া হবে৷

প্রদীপ ভট্টাচার্য

২০১২ সালের জনগণনার জন্য মোট ৮,৭৫৪.‌২৩কোটি টাকা ব্যয় ধার্য করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা৷ তার আগে এনপিআর আপডেট করতে বরাদ্দ হয়েছে ৩,৯৪১.‌৩৫ কোটি টাকা৷ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এনআরসি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতার আবহে নতুন করে অশান্তি ডেকে আনতে পারে এনপিআর৷ তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যে বিপুল অর্থ বরাদ্দের ঝুঁকি সত্যিই কতটা জরুরি ছিল?‌

মোদী সরকার এনপিআর এবং এনআরসি-‌কে মিলিয়ে দিতে চাইছে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন স্বরাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য নিজেই৷ ডয়চে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘‌‘‌এনপিআর নতুন কিছু নয়৷ সাধারণ বিষয়৷ এখন দেখার, কী পদ্ধতিতে এনপিআর করা হবে৷ নাগরিকপঞ্জির প্রথম ধাপ হিসেবে এনপিআর-‌কে কাজে লাগানো হবে কিনা৷ এই সরকারের মাথায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা জানেন না ঠিক কী চাইছেন৷ আসলে দেশে মাথামোটা সরকার চলছে৷'‌‌'‌

এমনিতেই দেশজুড়ে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে যে, এনআরসি করার আগে এনপিআর করে জনগণের তথ্য সংগ্রহ করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ এবারই প্রথম এনপিআরে বায়োমেট্রিক তথ্য নেবে সরকার৷ যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল নানা মহল৷ তবে, কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাওড়েকর স্পষ্ট করেছেন, এনপিআরে বায়োমেট্রিক নেওয়া হবে না৷ কোনো নথি বা পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়াও হবে না৷ বিরোধী দলগুলির দাবি, জনগণের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে৷ এনপিআর ও এনআরসির সম্পর্ক স্পষ্ট করা হোক৷‌

স্কিপ নেক্সট সেকশন এই বিষয়ে আরো তথ্য