1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

চীনের উহান থেকে ফিরছেন ৩৬১ জন

৩১ জানুয়ারি ২০২০

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে চীনের উহান নগরীতে আটকে পড়া ৩৬১ জন বাংলাদেশিকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে৷ শুক্রবার মধ্যরাতে কোনো এক সময় তারা ঢাকায় ফিরবেন৷

https://p.dw.com/p/3X4s0
Tansania | Julius Nyerere International Airport - Passagiere werden auf Corona Virus überprüft
ছবি: Tanzania Airport Authorities/B. Mollel

ঢাকা ফেরার পর তাদের সবাইকে আশকোনো হজ ক্যাম্পে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। তাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশের সঙ্গে সেনা সদস্যরাও থাকবেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন ওই সময়ে স্বজনদের ধৈর্য ধরার এবং তাদের সঙ্গে ক্যাম্পে দেখা করতে ব্যাকুল হয়ে না পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷

তিনি বলেন, ‘‘চীন থেকে যারা ঢাকা আসছেন, তাদের খবর নিয়মিত স্বজনদের জানানো হবে। হজ ক্যাম্পে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করবেন না৷দেখা করতে ব্যাকুল হবেন না, জোরাজুরি করবেন না। আমরা আপনাদের টাইম টু টাইম খবর দেব। খবর দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা করেছি৷''

উহানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি জানাতে শুক্রবার সকালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে সংবাদ সম্মেলন করা হয়৷ যেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আশকোনায় পর্যবেক্ষণ সময় শেষে যাদের সুস্থ পাওয়া যাবে, তাদের বাড়ি যেতে দেওয়া হবে। আর কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট চীনে রওয়ানা হবে বলেও জানান তিনি৷ তবে ঠিক কখন ওই ফ্লাইট ঢাকায় ফিরে আসবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি৷

"আমাদের ছেলেমেয়েদের আনার জন্য আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত, তারা দেশের সন্তান, তাদেরকে দেখাশোনা করার দায়িত্ব আমাদের। তবে একই সঙ্গে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করাও আমাদের দায়িত্ব৷ ভাইরাস যেন ছড়িয়ে পড়তে না পরে, আমাদের দেশ যাতে নিরাপদে থাকে, সেজন্য সব ব্যবস্থা নিয়েছি।”

সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, "প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সংবেদনশীল মানুষ। ছাত্রছাত্রীদের দুর্গতির কথা শুনে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন৷ চীন সরকার বলেছিল ১৪ দিনের আগে তাদের রিলিজ করবে না। কিন্তু গতকাল আমাদের জানিয়েছে, একটা পকেট পেয়েছে যেটা আমাদের দেওয়া যাবে। সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আপনারা নিয়ে আসেন'।”

চীন থেকে দেশে ফিরতে ১৯টি পরিবার, ১৮ শিশু এবং দুই বছরের কম বয়সী দুই শিশুসহ ৩৬১ জন নিবন্ধন করেছেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, "খুব সেনসিটিভলি এদের হ্যান্ডেল করব, কোয়ারেন্টাইনে রাখব। এই সময় পরিবারের কেউ দেখা করার চেষ্টা করবেন না। এরা কেউ অসুস্থ না, কিন্তু আমরা জানি না… ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি।”

মধ্য চীনের উহান শহরে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এ ভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়৷ রোগের লক্ষণ অনেকটা নিউমোনিয়ার মত।

নভেল করোনা ভাইরাস এর কোনো টিকা এখনো আবিষ্কার হয়নি৷ এর কোনো চিকিৎসাও মানুষের জানা নেই৷ আপাতত একমাত্র উপায় হল, যারা ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং কিছু স্বাস্থ্য বিধি ও পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মেনে চলা।

গত এক মাসে কেবল চীনেই দশ হাজার মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, মৃত্যু হয়েছে ২১৩ জনের।

চীনের বাইরে আরও ১৮টি দেশে প্রায় একশ মানুষ নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় এবং কয়েক জায়গায় মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানোর খবর আসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ‘বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা' ঘোষণা করেছে।

চীনের যে প্রদেশ থেকে এই ভাইরাস ছড়ানো শুরু হয়েছে, সেই হুবেইয়ের বেশিরভাগ এলাকা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে গত দশ দিন ধরে। অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখায় প্রায় ৬ কোটি মানুষকে সেখানে আংশিক বা পুরোপুরি অবরুদ্ধ দশার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও নিউজিল্যান্ড ইতোমধ্যে তাদের নাগরিকদের উহান ও চীন থেকে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। তবে দেশে ফেরানোর পর তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্যবেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসএকটি হটলাইন চালু করেছে৷ সপ্তাহে সাত দিন +৮৬ ১৭৮-০১১১-৬০০৫ নম্বরে ফোন করে ২৪ ঘণ্টা সহায়তা পাওয়া যাবে।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি৷

 এসএনএল/কেএম