1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান

অভিবাসীদের স্রোত, নীতি বদল করবে জার্মানি?

৭ নভেম্বর ২০২৩

বার্লিন-সহ প্রায় প্রতিটি শহরে অভিবাসন-প্রত্যাশীদের ভিড়। চাপের মুখে কি নীতিবদল করবেন চ্যান্সেলর শলৎস?

https://p.dw.com/p/4YU2D
ইউক্রেন থেকে আসা মানুষদের প্রথমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এই সাবেক বিমানবন্দরে।
ইউক্রেন থেকে আসা মানুষদের প্রথমে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এই সাবেক বিমানবন্দরে। ছবি: Emmanuele Contini/IMAGO

বার্লিনে প্রতিদিন প্রায় দুইশ জন অভিবাসী বা শরণার্থী এসে পৌঁছান। তাদের প্রাথমিকভাবে একটি সাবেক বিমানবন্দরের রিসেপশন ফেসিলিটিতে রাখা হয়। কিছুদিনের মধ্যেই তাদের শহরের মধ্যে ফ্ল্যাটে সরিয়ে নেয়ার কথা। কিন্তু শহরে আবাসনে এত ফ্ল্যাট পাওয়া দুষ্কর। তাই এই বিমানবন্দরেই চার হাজার মানুষ এক বছর ধরে বসবাস করছেন। আরো আট হাজার মানুষ যাতে থাকতে পারেন, তার ব্যবস্থা হচ্ছে।

দেশের অন্য শহরের অবস্থাও বার্লিনের থেকে আলাদা নয়। ২০২৩ সালে দুই লাখ ২০ হাজার অভিবাসন-প্রত্যাশী জার্মান কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয়ের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেন থেকে অভিবাসীদের ঢল নেমেছে। প্রতিদিন আরো বেশি করে মানুষ নিজেদের নাম নথিভুক্ত করছে।

পুরসভাগুলি অসহায়

জার্মানি জুড়েই পুরসভা বা ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলগুলি জানিয়েছে, তারা বুঝতে পারছে না, কী করে এত অভিবাসীকে আশ্রয় দেয়া যাবে?

একে তো এত মানুষকে আশ্রয় দেয়ার জন্য উপযুক্ত সংখ্যক বাড়ি বা ফ্ল্যাট নেই, তার উপর প্রশাসনে কর্মী কম, স্কুলে জায়গা নেই, আতঙ্কিত অভিবাসীদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই।

৫৩ শতাংশ মেয়র বা ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল জানিয়েছে, তাদের উপর বাড়তি বোঝা চেপেছে। জার্মান অ্যাসোসিয়েশন অফ টাউন অ্যান্ড মিউনিসিপ্যালিটিসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মানুষের মনে অভিবাসন নীতি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। তিনি জানিয়েছেন, অধিকাংশ জায়গায় অভিবাসীদের জন্য খরচ করার মতো অর্থ নেই। 

'কড়া আইনে লাভ নেই'

অবিবাসীদের নিয়ে গবেষণা করছেন বরিস। তার সমাক্ষায় পাঁচভাগের মধ্যে একভাগ মানুষ বলেছেন, অভিবাসীদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক।

জার্মানি ইতিমধ্যে প্রায় আড়াই লাখ অভিবাসন প্রত্যাশীর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। কিন্তু দুই লাখ মানুষকে ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না, কারণ, হয় কোনো দেশ তাদের নিতে রাজি নয়, অথবা তারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে এসেছেন বা তাদের শরীর এতাই অসুস্থ যে নিজেদের দেশে চিকিৎসা সম্ভব নয়।

বার্লিনে স্কুলে অভিবাসী শিশুদের ঠাঁই নেই

গত অক্টোবরে আরো বেশি সংখ্যায় অবিবাসীদের ফেরত পাঠানোর জন্য সরকার একটি বিল তৈরি করেছিল। কিন্তু প্রতিটি শহর বা পুরসভায় এখনো অবিবাসনপ্রত্যাশীরা এসে যাচ্ছেন। তাই বরিস মনে করেন, আইন কড়া করেও লাভ নেই।

সামাজিক সুরক্ষা কাটছাঁটের দাবি

কিছু রাজনীতিক দাবি করেছেন, অভিবাসী বা শরণার্থীদের সামাজিক সুরক্ষায় কাটছাঁচ করা হোক। ইউরোপের দেশগুলির তুলনায় জার্মানিতে সামাজিক সুরক্ষার পরিমাণ বেশি বলে মানুষ বেশি করে আসছেন। রক্ষণশীল রাজনীতিকদের মতে, এটাই জার্মানিতে এত বেশি মানুষের আশ্রয় নেয়ার কারণ। তাদের হাতে অর্থ দেয়া উচিত নয়। 

যে সব প্রাপ্তবয়স্ক রিসেপশন সেন্টারে আছেন, তারা খাবার পান এবং প্রতি মাসে সর্বাধিক ১৫০ ইউরো হাতখরচ পান। এই হাতখরচের বিষয়টি আইনে উল্লেখ করা আছে এবং আদালত জানিয়ে দিয়েছে, খেয়ালখুশিমতো তা কমানো যাবে না।

অ্যাসোসিয়েশন অফ টাইন অ্যান্ড মিউনিসিপ্যালিটিসের বক্তব্য, ইউরোপের অন্য দেশে যে ব্যবস্থা আছে, জার্মানিতেও একই ব্যবস্থা চালু করা উচিত।

সাবিন কিনকার্টজ/জিএইচ