৯০ বছরের অধ্যাপক গ্যুন্টার ব্যোম | জার্মানি ইউরোপ | DW | 13.05.2013
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

জার্মানি ইউরোপ

৯০ বছরের অধ্যাপক গ্যুন্টার ব্যোম

মাথায় আঁচড়ানো সাদা চুল, পরনে জ্যাকেট৷ প্রায় চোখ বন্ধ করেই পশ্চিমা দর্শনের উত্থান নিয়ে বক্তৃতা দেন তিনি৷ তাঁর নাম গ্যুন্টার ব্যোম৷ বয়স ৯০৷ সামনে বসা ৩০০ ছাত্রছাত্রী মুগ্ধ হয়ে শোনেন তাঁর কথা, যাঁরা অধিকাংশ নিজেরাই প্রবীণ৷

গ্যুন্টার ব্যোম মনপ্রাণে একজন শিক্ষক৷ সুদূর অতীতের চিন্তাবিদ ও দার্শনিকদের সম্পর্কে তিনি এমনভাবে কথা বলেন, যেন তাঁরা তাঁর পরিচিত জন৷ গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান থেকে শুরু করে কান্টের দর্শন, সব বিষয়েই তাঁর স্বচ্ছন্দ গতিবিধি৷ মাঝে মাঝে গোয়েটের ‘ফাউস্ট' থেকেও উদ্ধৃতি দেন৷ কিংবা ছোটখাট রসিকতা করে ছাত্র-ছাত্রীদের হাসান৷

প্রবীণদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়

গ্যুন্টার ব্যোমের ছাত্র-ছাত্রীদের অনেকেই তাঁর মতোই অবসরভোগী প্রবীণ৷ ফ্রাংকফুর্টের গ্যোটে ইউনিভার্সিটিতে প্রবীণদের জন্য খোলা বিশেষ একটি বিভাগে পড়তে আসেন তাঁরা৷ যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জীবনের তৃতীয় অধ্যায়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়'৷

Senioren Studenten

অধ্যাপক গ্যুন্টার ব্যোমের শিক্ষার্থীরা

১৯৮২ সালে গ্যুন্টার ব্যোমের উদ্যোগে গড়ে ওঠে বিভাগটি৷ যখন অন্যরা অবসর জীবন নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে থাকে, তখন তিনি নতুন কিছু শুরু করার উদ্যোগ নেন৷ এই প্রসঙ্গে গ্যুন্টার ব্যোম জানান, ‘‘আমার শিক্ষক আমার সাথে জীবনের মূলমন্ত্র দিয়ে দিয়েছিলেন, আর তা হলো, জীবনের সময় মানে জীবনের কাজের সময়৷''

গ্যুন্টার ব্যোমের মতে এই কাজটা হলো, নিজের শিক্ষা ও জ্ঞান অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়া৷

১৯২৩ সালে ড্রেসডেন শহরে জন্ম হয় গ্যুন্টার ব্যোমের৷ বাবা ছিলেন শ্রমিক৷ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ হয়নি তাঁর৷ কিন্তু ছেলেকে শিক্ষার সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলেন৷ পাঠিয়েছিলেন হাইস্কুলে৷ তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় ১৮ বছর বয়সে যুদ্ধে যোগ দিতে হয় গ্যুন্টার ব্যোমকে৷ সে সময়ের কথা বলতে গেলে এখনও কণ্ঠ রোধ হয়ে আসে বর্ষীয়ান এই ব্যক্তির৷

৫০ বছর ধরে গ্যোটে ইউনিভার্সিটির প্রতি বিশ্বস্ত

যুদ্ধের পর এর্লাংগেন ও মিউনিখে দর্শন, মনস্তত্ত্ব ও শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করেন গ্যুন্টার ব্যোম৷ কয়েক বছর এক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন৷

Professor Günther Böhme Universität des 3. Lebensalters U3L

এইতো ৪ মে অধ্যাপক গ্যুন্টার ব্যোমের বয়স ৯০ হলো

১৯৬৪ সালে ফ্রাংকফুর্টের গ্যোটে ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষাদর্শন বিভাগে গবেষণা সহকারী হিসাবে কাজ শুরু করেন৷

মানবতাবাদী শিক্ষার মূলমন্ত্র

মানবতাবাদী শিক্ষার মূলমন্ত্র, ধৈর্য ও মানবতা তাঁর জীবনকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে৷ গ্যুন্টার ব্যোমের ভাষায়, ‘‘আমি মনে করি, নিজের ভাষাকে সংযত করা, ঐতিহাসিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা ও বিনয়ী হওয়া মানুষের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ আজকের বিশ্ববিদ্যালয় জগতে এইসব মূল্যবোধের অভাব রয়েছে৷''

কিন্তু প্রবীণদের জন্য খোলা নিজস্ব বিভাগে তাঁর আদর্শ ছড়িয়ে দিতে পারেন গ্যুন্টার ব্যোম৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার সেমিনারে অল্পবয়সীরাও যোগ দিতে পারেন৷ কিন্তু তারা এই সুযোগটা প্রায় নিতেই পারেন না৷ আঁটসাট পাঠ্যক্রমের বাইরে কিছু করার মতো সময় তাদের থাকে না৷''

দর্শনের প্রফেসর গ্যুন্টার ব্যোম বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিপ্লোমা কোর্স উঠিয়ে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি প্রবর্তন করাকে সমালোচনার চোখে দেখেন৷ এতে ছাত্র-ছাত্রীদের সময়ের চাপে মধ্যে থাকতে হয়৷ ফলে জ্ঞানের প্রসার ঠিকমত হয় না৷ ব্যক্তিত্বের বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয়৷ জানান তিনি৷

Johann Wolfgang von Goethe-Universität in Frankfurt Campus

ফ্রাংকফুর্টের গ্যোটে ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস

যতদিন শক্তি থাকে

তাই প্রবীণরাই হলেন গ্যুন্টার ব্যোমের বিশ্বস্ত ছাত্রছাত্রী৷ যেমন ব্রিগিটে রেমি৷ ৬৭ বছরের ব্রিগিটে নিয়মিত ব্যোমের ক্লাসে দর্শনের লেকচার শুনতে আসেন৷ ‘‘কেননা তাঁর বক্তৃতা থেকে আমি অনেক কিছু জানতে পারি৷ বয়স, মৃত্যু ও নশ্বরতা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করতে পারি৷'' জানান ব্রিগিটে রেমি৷

গ্যুন্টার ব্যোম তাঁর কাজের জন্য কোনো পারিশ্রমিক পান না৷ ছাত্রছাত্রীদের ভালোবাসাই তাঁর কাছে অনেক৷ কাজটা তিনি চালিয়ে যেতে চান, যতদিন শক্তিতে কুলোয়৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন