‘৫ লাখ রোহিঙ্গা শিশুর জন্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জরুরি′ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 23.08.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

‘৫ লাখ রোহিঙ্গা শিশুর জন্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জরুরি'

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শিশুকে হতাশ হওয়া থেকে রক্ষায় তাদের শিক্ষার জন্য জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ চেয়েছে ইউনিসেফ৷

জাতিসংঘের এই সংস্থা বলছে, কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে ঠাঁই পাওয়া এসব শিশুর অধিকাংশই শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে৷

মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে বাংলাদেশ অভিমুখে রোহিঙ্গাদের ঢল নামার বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলেছে তারা৷

শিক্ষার সীমিত সুযোগ এবং নিজেদের ঘরে ফিরতে পারবে কিনা সে বিষয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা শিশুরা একটি হতাশাব্যঞ্জক ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রধান এডুয়ার্ড বেগবেদার৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

তিনি বলেন, ‘‘এখনই যদি আমরা শিক্ষায় বিনিয়োগ না করি, তাহলে রোহিঙ্গা শিশুদের একটি ‘অর্থহীন প্রজন্ম' দেখতে পাওয়ার মতো বিপদের মুখোমুখি হবো আমরা৷ বর্তমান পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো দক্ষতার অভাব এবং মিয়ানমারে ফিরতে পারলে নিজেদের সমাজের জন্য ভূমিকা রাখার সামর্থ্য থাকবে না এই শিশুদের৷''

ইউনিসেফের প্রতিবদেনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে বিপুল আন্তর্জাতিক ত্রাণ তৎপরতায় রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করা গেছে৷ শিবিরে বড় ধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ও অন্তত এই সময়ের জন্য এড়ানো গেছে৷

হঠাৎ করে আসা এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা করা ইউনিসেফ ও তার অন্যান্য সহযোগীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ৷

২০১৮ সালে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিতে দুই কোটি ৮২ লাখ ডলার অনুদান চেয়েছিল ইউনিসেফ৷ সেখানে এখন পর্যন্ত ওই অর্থের অর্ধেকের সামান্য বেশি এসেছে৷

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, এসব শিশুর জন্য গত জুলাই নাগাদ এক হাজার ২০০ শিক্ষা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার শিশু ভর্তি হয়েছে৷

তবে এখনো সেখানে কোনো স্বীকৃত পাঠ্যসূচি চালু হয়নি৷ ক্লাসরুমগুলোতে গাদাগাদি করে বসতে হয় শিক্ষার্থীদের৷ বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে৷ 

ইউনিসেফ বলছে, শিক্ষার নতুন একটি রূপরেখা এবং শিশুদের অক্ষর, ভাষা ও সংখ্যা সংক্রান্ত ধারণা প্রদানসহ মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে৷

সব রোহিঙ্গা শিশুর মানসম্মত শিক্ষা এবং জীবন দক্ষতা অর্জনে সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিনিয়োগ করা উচিত৷

রোহিঙ্গাদের বড় একটি অংশ দেশান্তরী হলেও রাখাইনে এখনো এই জনগোষ্ঠীর পাঁচ লাখের বেশি বাসিন্দা রয়েছে৷ সেখানকার সব শিশুর জন্য যাতে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও প্রাথমিকোত্তর শিক্ষায় অংশগ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয় সে ব্যবস্থা করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ৷ 

রাখাইন রাজ্য নিয়ে কোফি আনানের নেতৃত্বাধীন পরামর্শক কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানিয়েছে তারা৷

ওই কমিশন রাখাইন সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য সেখানে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবিকার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছে৷

রাখাইনে রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর শিশুদের সুরক্ষা এবং রোহিঙ্গারা যাতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে তাঁদের বসতিতে ফিরে যেতে পারে, তার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্যও মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে৷

এএইচ/এসিবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন