৩২৪ ধারা জারি করে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের | বিশ্ব | DW | 16.05.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গ

৩২৪ ধারা জারি করে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের প্রতিটি পর্যায়েই কম-বেশি অশান্তি হয়েছে৷ কলকাতায় রোড শো-কে ঘিরে তা চূড়ান্ত আকার নেয়৷ এর জেরে নির্বাচন কমিশন রাজ্যে ৩২৪ ধারা জারি করেছে৷ অপসারিত হয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিবও৷

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের সঙ্গে হিংসা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে গত শতকের সত্তরের দশক থেকে৷ চলতি লোকসভা নির্বাচনেও সেই ছবি দেখা গিয়েছে৷ তবে তার ফলশ্রুতিতে যে প্রচারের সময় কমে যাবে, সেটা ভাবা যায়নি৷ এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন৷ সাধারণত নির্বাচনের দু'দিন আগে পর্যন্ত প্রচার চালানো যায়৷ সেই হিসেবে রবিবারের নির্বাচনের জন্য শুক্রবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত প্রচার চালানো যেতো৷ কিন্তু সেই সময় কমিয়ে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত করা হয়েছে৷ এমনকি পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্য ও গোয়েন্দা প্রধান রাজীব কুমারকে তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ এই সিদ্ধান্ত স্বাগত জানিয়েছে বিরোধীরা৷

বিরোধীরা তাদের মতামতের সমর্থনে সাম্প্রতিক নানা ঘটনা তুলে ধরছেন৷ এর মধ্যে প্রার্থীদের উপর হামলা থেকে ভুয়ো মামলায় ফাঁসানোর চক্রান্তও রয়েছে৷ সিপিএমের ফুয়াদ হালিম, কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী, বিজেপির ভারতী ঘোষ, বাবুল সুপ্রিয়, লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং পরেশচন্দ্র দাস  আক্রান্ত হয়েছেন৷ সবচেয়ে উল্লেখ্য ঘাটাল কেন্দ্রের কেশপুরে ভারতী ঘোষের উপর হামলা৷ একটি বুথে তিনি চেষ্টা করেও বিজেপির এজেন্টকে ঢুকাতে পারেননি৷

তৃণমূল সমর্থকরা বিজেপিসহ অন্য বিরোধীদের এজেন্টদের বের করে দিয়েছিল৷ খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান ভারতী৷ কিন্তু নিজ দলের এজেন্টকে বুথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে হামলার শিকার হন৷ এ সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক সদস্য আহত হন৷ কেন্দ্রীয় বাহিনী তৃণমূল সমর্থকদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়৷ গুলিতে একজন আহত হন৷ তৃণমূল সমর্থকদের সঙ্গে রাস্তায় খণ্ডযুদ্ধ চলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর৷ তৃণমূলের নারী বাহিনী ভারতীকে হেনস্থা করলেও পুলিশ এগিয়ে আসেনি৷ নারী পুলিশও ডাকা হয়নি৷ সেদিন বিভিন্ন স্থানে তৃণমূল নেতাদের গাড়ি তল্লাশিতেই ব্যস্ত থেকেছে পুলিশ৷ নির্বাচনের আগের রাতে ভারতীর গাড়ি তল্লাশি করে টাকা উদ্ধারের অভিযোগ তোলে পুলিশ৷ নির্বাচনের দিন আবার তল্লাশি চলে বিজেপিনেত্রীর গাড়িতে৷ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি বহু হোটেল ও লজের বহিরাগতদের তুলে আনতেও পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা দেখা গিয়েছে৷

ষষ্ঠ দফার ভোটে কুইক রেসপন্স টিম থেকে রাজ্য পুলিশকে বাইরে রাখার কারণে বেশ সমস্যা হয়েছে৷ রাস্তা অচেনা হওয়ায় অনেক গোলযোগপূর্ণ স্থানেই কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছতে পারেনি৷ এর ফলে সহিংসতায় দ্রুত লাগাম টানা সম্ভব হয়৷

বিরোধীদের মোকাবিলা করতে ভুয়ো মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে শাসক দলের বিরুদ্ধে৷ কখনো তৃণমূল বিধায়ক খুনে এফআইআরে নাম রাখা হয়েছে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের, কখনো যুব মোর্চার নেত্রী প্রিয়ঙ্কা শর্মা মুখ্যমন্ত্রীর মিম শেয়ার করার জন্য জেলে গিয়েছেন৷ বিজেপি প্রার্থী নীলাঞ্জন রায়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা দায়ের হয়েছে৷ তবে আরেক বিজেপি প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ সবচেয়ে বেশি প্রতিকূলতার মুখে পড়েছেন৷ বিষ্ণুপুর কেন্দ্রের প্রার্থী সৌমিত্রর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করা হয়েছে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করার পর৷ এই মামলায় তিনি সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেলেও বাঁকুড়া জেলায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল৷ তাই তাঁর পক্ষে স্ত্রী সুজাতা খাঁ প্রচার চালিয়েছেন৷ প্রার্থী নিজে মামলার জেরে বাঁকুড়ায় প্রচার করতে পারেননি৷

বাম ও কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও একইভাবে বিভিন্ন মামলা করা হয়েছে৷ এ ব্যাপারে সব বিরোধী শিবিরের বক্তব্য একইরকম– তৃণমূল রাজনৈতিক জমি হারাতে থাকায় পুলিশ দিয়ে তাদের শায়েস্তা করতে চেয়েছে৷ এই ভয় ও সন্ত্রাসের পরিবেশ দেখে নির্বাচন কমিশন সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে৷ অন্যদিকে শাসকদলের তরফ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্য৷ কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তিনি উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন৷ তাঁর জেরেই তাঁকে অপসারণ করা হলো৷

অডিও শুনুন 02:48

এখানে বিরোধী কর্মীদের উপর নিয়মিত হামলা হচ্ছে: রন্তিদেব সেনগুপ্ত

হাওড়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী, সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘সারা দেশে নির্বাচন চলছে৷ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মতো অবস্থা কি কোথাও হয়েছে? এখানে বিরোধী কর্মীদের উপর নিয়মিত হামলা হচ্ছে, ভুয়ো মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে৷ দেশের ক্ষমতাসীন দলের সভাপতির রোড শো-তে ইট ছুড়ছে৷ বিরোধীদের উপর হামলা বন্ধ করতেই এই কমিশনের এই সঠিক সিদ্ধান্ত৷’’

যদিও কমিশন কেন প্রচারের সময় কমিয়ে দিল, সে ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি৷ স্বরাষ্ট্রসচিব ও এডিজি সিআইডি সরিয়ে দেওয়ার পিছনে তাঁদের গাফিলতির কারণ দেখিয়েছে৷ মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তীর দাবি, ‘‘রাজধানী বলে কলকাতার গন্ডগোলের জেরেই কমিশন প্রচারের সময় কমিয়েছে৷ মিডিয়ার চোখ কলকাতায় থাকে এবং এখানে অশান্তি হলে কমিশনের বদনাম হবে, তাই কমিশন তড়িঘড়ি ৩২৪ ধারা জারি করেছে৷ পক্ষপাতদুষ্ট পুলিশদের কথা কমিশন কি জানতো না? তাহলে জেলায় নির্বাচনের সময় এই পদক্ষেপ নেয়নি৷ মুর্শিদাবাদে যখন অশান্তি হয়েছে, তখন আমরা বারবার অফিসারদের জানিয়েও ফল পাইনি৷ এখন কলকাতায় গন্ডগোল হতেই কমিশন পদক্ষেপ নিলো৷ পঞ্চায়েত ভোটের অবস্থা দেখে প্রথম দফার ভোট থেকেই কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল৷’’

অডিও শুনুন 02:27

কলকাতায় গন্ডগোল হতেই কমিশন পদক্ষেপ নিল: মনোজ চক্রবর্তী

কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর অভিযোগ, কমিশন সংবিধানের ৩২৪ ধারা প্রয়োগ করেছে বিজেপির নির্দেশে৷ বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের অঙুলি হেলনে নির্বাচন কমিশন এই কাজ করেছে৷ এ ঘটনা রাজ্যের পক্ষে অপমানেরও৷ এ বিষয়ে তৃণমূল নেতা নির্বেদ রায় বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পর এই প্রথম দেশে এমন অভাবনীয় পদক্ষেপ৷ খুবই দুঃখের৷ এর আগেও অনেকে কমিশন সামলেছেন, তাঁরা এমনটা করেননি৷ কেশপুর বা রাজ্যের অন্যান্য বিক্ষিপ্ত ঘটনার সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই৷ অমিত শাহ বলার পরেই স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দেওয়া হলো৷ কলকাতার ঘটনায় কয়টা মৃত্যু হয়েছে যে প্রচারের সময় কমিয়ে দিতে হবে?’’

রাজনীতির বিশ্লেষকেরা রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন৷ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ও কমিশনের সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দেন৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘প্রচারের সময় কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত একেবারেই অগণতান্ত্রিক৷ এটা কোনোভাবেই সঠিক সিদ্ধান্ত নয়৷ কমিশনের এক্তিয়ার থাকলেও এটা করা উচিত হয়নি৷ তাছাড়া অমিত শাহ বলার পরেই এমন সিদ্ধান্তে অনেকে যোগ খুঁজছেন৷ এটা কমিশনের জন্য অস্বস্তিকর৷’’

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন