৩১ অগাস্ট-ই ডেডলাইন: বাইডেন | বিশ্ব | DW | 25.08.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

আফগানিস্তান

৩১ অগাস্ট-ই ডেডলাইন: বাইডেন

অন্য দেশ চাইলেও, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন নাগরিকদের উদ্ধারের কাজ ৩১ অগাস্টের মধ্যেই সারতে চাইছেন বাইডেন।

জি-৭ এর বৈঠকে জার্মানি, যুক্তরাজ্য সহ একাধিক দেশ অনুরোধ করেছিল, কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিমত বদলালেন না। জানিয়ে দিলেন, ৩১ অগাস্টের মধ্যেই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন নাগরিকদের উদ্ধার করার চেষ্টা করা হবে। তবে তালেবানকে তার জন্য সহায়তা করতে হবে। এদিনের বৈঠকে বাইডেন বলেছেন, যে গতিতে উদ্ধারকাজ চলছে, তাতে ৩১ অগাস্টের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে মনে করছেন তিনি। এদিকে মঙ্গলবার ফের একবার হুমকি দিয়েছে তালেবান। জানিয়েছে, কোনো ভাবেই ৩১ অগাস্টের পর আফগানিস্তানে বিদেশি সেনা থাকতে দেবে না তারা।

বাইডেনের বক্তব্য

মঙ্গলবারের বৈঠকে বাইডেন জানিয়েছেন, এখনো পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার মার্কিন নাগরিককে উদ্ধার করে দেশে ফেরানো হয়েছে। যে গতিতে কাজ চলছে, তাতে দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করা যাবে বলে তিনি মনে করেন। সে ক্ষেত্রে ৩১ অগাস্টের ডেডলাইনের মধ্যেই মার্কিন সেনা আফগানিস্তান ছাড়তে পারবে। তবে একই সঙ্গে বাইডেনের বক্তব্য, এ কাজে তালেবানকেও সাহায্য করতে হবে। সহায়তা করতে হবে। তারা উদ্ধারকাজে বাধা দিলে সময় আরো বেশি লাগবে বলে তিনি জানিয়েছেন। বস্তুত, সময় বেশি লাগলে কীভাবে তা সামলানো হবে, সে বিষয়ে পেন্টাগনের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আফগানিস্তানে নতুন সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী

এদিনের বৈঠকে বাইডেন নতুন একটি বিষয় উত্থাপন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কাবুলে নতুন একটি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। যার নাম ইসলামিক স্টেট খোরাসান। আইএসআইএস-এর একটি ভাগ হলো নতুন এই গোষ্ঠী। কাবুল বিমানবন্দরের আশপাশে তারা সক্রিয় বলে জানিয়েছেন বাইডেন। তার বক্তব্য, পেন্টাগনের মতে এই গোষ্ঠী উদ্ধারকাজে বাধা দিয়ে ৩১ অগাস্টের ডেডলাইন বানচাল করার চেষ্টা করছে। মার্কিন সেনা ডেডলাইন মানতে না পারলে নতুন করে অশান্তি তৈরি হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। নতুন সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীটি সে কাজই করার চেষ্টা করছে বলে বাইডেনের আশঙ্কা। তবে একই সঙ্গে বাইডেন জানিয়েছেন, তালেবানের সঙ্গে এই গোষ্ঠীর সম্পর্ক আদায় কাঁচকলায়। ফলে নতুন করে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তালেবান নিয়ে অবস্থান

জি-৭ এর একাধিক দেশ, ন্যাটো এবং ইইউ তালেবান নিয়ে বিশ্ব রাজনীতির কী অবস্থান হওয়া উচিত, তা নিয়ে একাধিক বৈঠক করছে। অনেকেই তালেবানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির পক্ষে। বাইডেনের বক্তব্য, তালেবান আগামী কিছুদিন কী করে, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তাদের মুখে কথা মেনে নেওয়া হবে না। তারা যদি আগের মতোই আচরণ করে, তাহলে কোনোভাবেই তাদের মেনে নেওয়া হবে না। তবে আপাতত অপেক্ষার নীতিতেই চলা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জি-৭ এর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তালেবান এবং আফগানিস্তান নিয়ে সকলে একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেবে। একই নীতি নেবে অধিকাংশ দেশ।

চীনের প্রতিক্রিয়া

তালেবানের বিরুদ্ধে এখনই কোনো নিষেধাজ্ঞা জারির প্রশ্ন ওঠে না বলে জানিয়েছে চীন। তাদের বক্তব্য, অন্য কোনো দেশেরও তা করা উচিত নয়। তালেবানকে সুযোগ দেয়া উচিত। আগেই যদি তাদের বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাব নেওয়া হয়, তাহলে সন্ত্রাসবাদকেই আশ্রয় করবে তারা।

বিমানবন্দর খোলা রাখার প্রস্তাব

যুক্তরাজ্য এদিন জানিয়েছে, তারা চায় ৩১ অগাস্টের ডেডলাইনের পরেও কাবুল বিমানবন্দর খোলা থাকুক। এই মুহূর্তে মূলত মার্কিন সেনার তত্ত্বাবধানে চলছে কাবুল বিমানবন্দর। যুক্তরাজ্য সহ অন্য দেশের কিছু সেনাও সেখানে মোতায়েন আছে। মনে করা হচ্ছে, ৩১ অগাস্টের পর তালেবান বিমানবন্দর বন্ধ করে দিতে পারে। যুক্তরাজ্যের বক্তব্য, বিমানবন্দর খোলা রাখার ব্যবস্থা এখন থেকেই করা উচিত। তবে তার জন্য সেখানে সেনা মোতায়েন রাখা হবে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাজ্য।

এসজি/জিএইচ (রয়টার্স, এপি, এএফপি)