২৭ বিদেশি এনজিও বন্ধের নির্দেশ দিল পাকিস্তান | বিশ্ব | DW | 22.12.2017
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

পাকিস্তান

২৭ বিদেশি এনজিও বন্ধের নির্দেশ দিল পাকিস্তান

অনুমোদন নেই এমন কাজ করার অভিযোগ এনে ২৭টি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাকে ৯০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তান৷ তবে এনজিওগুলোর কাছে পাঠানো নোটিশে কারণ উল্লেখ করা হয়নি৷

দেশটির স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, এনজিওগুলো ‘তাদের আওতার বাইরে কাজ করছিল এবং সেসব কাজের অনুমতি তাদের নেই৷'' তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট উদাহরণ দিতে রাজি হননি৷ চৌধুরী বলেন, এনজিওগুলো ‘সব টাকা' প্রশাসনিক কাজে খরচ করে৷ যেসব কাজ তারা করে বলে জানিয়েছিল, তা না করে এমন কাজ করছিল যার জন্য তাদের অনুমোদন নেই, বলেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী৷ ‘‘জেনে, না জেনে তারা পাকিস্তানের জাতীয় স্বার্থবিরোধী কাজ করছিল,'' অভিযোগ তাঁর৷

তবে এনজিওগুলোকে দেয়া চিঠিতে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স৷ তালিকায় নাম থাকা এনজিওগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল সংবাদ সংস্থাটি৷ এর মধ্যে যারা উত্তর দিয়েছে তারা সরকারের কারণ না জানানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে৷ এছাড়া ৬৩টি আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থার সংগঠন ‘পাকিস্তান হিউম্যানিটেরিয়ান ফোরাম'-এর ১১টি সংস্থা সরকারের নির্দেশ পেয়েছে৷ তবে এতে কারণ উল্লেখ নেই৷ সব সংস্থাই আপিল করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে৷

১৯৯৭ সাল থেকে পাকিস্তানে কাজ করছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল৷ প্রায় ১৬ লক্ষ শিশুকে সহায়তা করছে বলে জানিয়েছে তারা৷ মন্ত্রণালয়ের চিঠির ব্যাপারে সংস্থাটি বলেছে, তারা আপিল করবে৷

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ছাড়াও চিঠি পাওয়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে অ্যাকশন এইড, ওয়ার্ল্ড ভিশন, পাথপাইন্ডার ইন্টারন্যাশনাল, ড্যানিশ রিফিউজি কাউন্সিল, অক্সফাম নোভিব, মেরি স্টোপস ইত্যাদি৷

এর আগে গত জানুয়ারিতে নারী ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা প্রায় এক ডজন দেশীয় সংস্থাকে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল পাকিস্তান৷ তবে আদালতের রায়ে সেই নির্দেশ টেকেনি৷

এদিকে, চলতি বছর পাকিস্তানে বেশ কয়েকজন অ্যাক্টিভিস্ট নিখোঁজ হয়েছেন৷ রয়টার্সের হিসেবে কমপক্ষে ১৪ জনকে ধরে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে৷ এর মধ্যে আছেন সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট৷

দেশটির হিউম্যান রাইটস কমিশনের তিন সদস্যও নিখোঁজ হয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন কমিশনের প্রধান মেহেদি হাসান৷

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এনজিওদের দেয়া এই নির্দেশ এবং সুশীল সমাজের অ্যাক্টিভিস্টদের নিখোঁজ হওয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান বাক-স্বাধীনতাকে দমন করতে চাইছে৷ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পাকিস্তান শাখার একজন প্রতিনিধি সরূপ ইজাজ রয়টার্সকে বলেন, ‘‘এই দুই পদক্ষেপ পাকিস্তানে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও অ্যাক্টিভিজমের জায়গাকে সংকুচিত করছে৷''

জেডএইচ/ডিজি (রয়টার্স)

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন