২৩ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন | বিশ্ব | DW | 08.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

বাংলাদেশ

২৩ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন

বিএনপির প্রাধান্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি উপেক্ষা করেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন৷ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে আগামী ২৩ ডিসেম্বর৷

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে নির্বাচনের এই তফসিল ঘোষণা করেন৷

তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ১৯ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২২ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ২৯ নভেম্বর এবং ভোটগ্রহণ ২৩ ডিসেম্বর৷

সিইসি তাঁর ভাষণে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে সব রাজনৈতিক দলকে নির্বাচেনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন৷ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো বিরোধ থাকলে তা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করতে বলেছেন৷

তিনি ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার ব্যবস্থা  নিশ্চিত করার কথা বলেছেন৷ আর শহরাঞ্চলে সীমিত আকারে ইভিএম ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন৷ কোনো হয়রানিমূলক মামলা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি৷

প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাঁর ভাষণে বলেন, ‘‘২৮ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে৷ ইতোমধ্যে নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে গেছে৷ কমিশনারগণ সংবিধানের আলোকে সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করার শপথ নিয়েছেন এবং তাতে তাঁরা নিবিষ্ট রয়েছেন৷ আমাদের প্রস্ততি সম্পর্কে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছি৷’’

জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় জনগণের মালিকানার অধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়, নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্র তৈরি হয়৷ এমন নির্বাচনে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে অংশগ্রহণ করার জন্য আবারো আহ্বান জানাই৷ তাদের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে মতানৈক্য বা মতবিরোধ থেকে থাকলে রাজনৈতিকভাবে তা মীমাংসার অনুরোধ জানাই৷ প্রত্যেক দলকে একে অপরের প্রতি সহনশীল সম্মানজনক এবং রাজনীতিসুলভ আচরণ করার অনুরোধ জানাই৷

অডিও শুনুন 01:40
এখন লাইভ
01:40 মিনিট

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে: সিইসি

সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করি৷ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে প্রার্থীর সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে অনিয়ম প্রতিহত হয় বলে আমি বিশ্বাস করি৷ প্রতিযোগিতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন কখনো প্রতিহিংসা বা সহিংসতায় পরিণত না হয়, রাজনৈতিক দলগুলোকে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাই৷’’

তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনি প্রচারণায় সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে৷ সকলের জন্য অভিন্ন আচরণ ও সমান সুযোগ সৃষ্টির অনুকূলে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা হবে৷’’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘‘ভোটার, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, প্রার্থী, প্রার্থীর সমর্থক এবং এজেন্ট যেন বিনা কারণে হয়রানির শিকার না হন বা মামলা মোকদ্দমার সম্মুখীন না হন, তার নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কঠোর নির্দেশ থাকবে৷ দলমত নির্বিশেষে সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ধর্ম, জাত, বর্ণ ও নারী-পুরুষ সকলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন৷

সিইসি বলেন, ‘‘‘ইভিএম ব্যবহারে উৎসাহব্যাঞ্জক আগ্রহ দেখা গেছে৷ আমরা বিশ্বাস করি, ইভিএম ব্যবহার করা গেলে নির্বাচনের গুণগতমান উন্নত হবে এবং সময়, অর্থ ও শ্রমের সাশ্রয় হবে৷ সে কারণে শহরগুলোর সংসদীয় নির্বাচনি এলাকা থেকে দ্বৈবচয়ন প্রক্রিয়ায় বেছে নেয়া অল্প কয়েকটিতে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে৷’’

অডিও শুনুন 02:20
এখন লাইভ
02:20 মিনিট

দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হলে নির্বাচন পেছানোর সুযোগ আছে: শান্তনু মজুমদার

সমঝোতার সুযোগ আছে?
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের তফসিল পেছানোর দাবি করেছিল৷ কিন্তু তা না করে একমাস আগেই তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে৷ ২৮ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা আছে৷ প্রায় এক মাস সময় হাতে রেখে এই তফসিল ঘোষণা কেন? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রকিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শান্তনূ মজুমদার ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এই সময়টি একটি সমঝোতার সুযোগ করে দিয়েছে৷ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হলে নির্বাচন পেছানোর সুযোগ আছে৷নির্বাচন কমিশন তার কাজ করেছে৷ আবার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সুযোগও রেখে দিয়েছে৷’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘যাঁদের ভোট আছে, তাঁরা দ্রুত নির্বাচন চাইবেন৷ কারণ, একদম শেষ সীমায় পৌছে গেলে যে-কোনো ধরনের সংকট হতে পারে৷ তার দায়িত্ব কে নেবে?’’

আর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজউদ্দিন খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশন চাইলে আরো পরে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারত৷ তারা সরকার এবং তাদের কাছের দলগুলোর চাপে এই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে বলে আমার মনে হয়৷ সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা এখনো চলছে৷ শেষ হলে তারপর তফসিল ঘোষণা করা যেতে পারতো৷ তবে আমি মনে করি, এখনো সময় আছে৷ সমঝোতা হলে তফসিল পেছানোর মতো সময় হাতে আছে৷’’

অডিও শুনুন 01:00
এখন লাইভ
01:00 মিনিট

কমিশন চাইলে আরো পরে তফসিল ঘোষণা করতে পারত: হাফিজউদ্দিন খান

এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব আলোচনার মাধ্যমে নিরসনের কথা বলেছেন৷
তবে তফসিল ঘোষনার পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল এবং বিএনপি’র প্রাধান্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট রাত পৌনে ৮টা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি৷ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে৷

বাংলাদেশে নির্বাচন:
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এখন ৩০০ আসন৷ এই তিনশ’ আসনে সরাসরি নির্বাচন হয়৷ বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ৷ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়৷ দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৭৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি৷ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)  জয়ী হয়৷ ১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি জয়ী হয়৷ ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি জয়ী হয়৷

পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি৷ সেই নির্বাচনে জয়ী হয় বিএনপি৷ ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো বর্জন করে৷ নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে সবগুলো আসনেই জয় পায়৷ তবে ওই বছরেরই (১৯৯৬) ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে৷

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন৷ সেই নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে৷ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসম্বের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট৷ ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি, জামায়াত ও সমমনা দলগুলো বর্জন করে৷ এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন  করে৷

আর আগামী ২৩ ডিসেম্বরের নির্বাচন হবে বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন