২০ দিনে ৩০ গুণ সংক্রমণ | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 20.01.2022

ডয়চে ভেলের নতুন ওয়েবসাইট ভিজিট করুন

dw.com এর বেটা সংস্করণ ভিজিট করুন৷ আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি! আপনার মতামত সাইটটিকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে৷

  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

২০ দিনে ৩০ গুণ সংক্রমণ

বাংলাদেশে করোনায় সংক্রণের হার এখন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে৷ সর্বশেষ ২৪ ঘন্টায় সংক্রমণের হার শতকরা ২৬ ভাগ ছাড়িয়ে গেছে৷ এটা এপর্যন্ত সর্বোচ্চ হার না হলেও সংক্রমণ বাড়ার হারের দিক থেকে প্রতিদিন নতুন রেকর্ড হচ্ছে৷

ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে যাওয়া এখন ঢাকার বাইরে এবং গ্রামাঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

ওমিক্রনের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে যাওয়া এখন ঢাকার বাইরে এবং গ্রামাঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

২৪ ঘন্টায় বাংলাদেশে করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৮৮৮ জন৷ মারা গেছেন চার জন৷ সংক্রমণের হার ২৬.৩৭ ভাগ৷

এর আগের দিন বুধবার ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছেন নয় হাজার ৫০০ জন৷ মারা গেছেন ১২ জন৷

গত ১০ দিনের চিত্র দেখলে ভয়াবহ পরিস্থিতি বোঝা যাবে৷ ১১ জানুয়ারি আক্রান্ত দুই হাজার ৪৫৮ জন, মারা গেছেন দুইজন৷ ১২ জানুয়ারি আক্রান্ত দুই হাজার ৯১৬, মৃত্যু চার৷ ১৩ জানুয়ারি আক্রান্ত তিন হাজার ৩৫৯, মৃত্যু ১২৷ ১৪ জানুয়ারি আক্রান্ত চার হাজার ৩৭৮, মৃত্যু ছয়৷ ১৫ জানুয়ারি আক্রান্ত তিন হাজার ৪৪৭, মৃত্যু সাত৷ ১৬ জানুয়ারি আক্রান্ত পাঁচ হাজার ২২২, মৃত্যু আট, ১৭ জানুয়ারি আক্রান্ত ছয় হাজার ৬৭৬, মৃত্যু ১০৷ ১৮ জানুয়ারি আক্রান্ত আট হাজার ৪০৭, মৃত্যু ১০৷ ১৯ জানুয়ারি আক্রান্ত ৯ হাজার ৫০০, মৃত্যু ১২৷ ২০ জানুয়ারি আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৮৮৮ হন, মারা গেছেন চার জন৷ এই বিবেচনায় ১০ দিনে সংক্রমণ বেড়েছে  সাড়ে চার গুণ৷ আর যদি ১ জানুয়ারির বিবেচনা করা হয় তাহলে সংক্রমণ বড়েছে ৩০ গুণ৷ ১ জানুয়ারি করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে ৩৭০ জন৷ মারা গেছেন চার জন৷

অডিও শুনুন 04:59

টিকা দেওয়ার গতি আরো বাড়াতে হবে: ডা. কামরুল ইসলাম

বাংলাদেশে এপর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ১৮২ জন৷ মারা গেছেন ২৮ হাজার ১৮০ জন৷ দেশের ১২টি এলাকাকে নতুন করে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে৷  ওই ১২টি এলাকা হলো: ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রাঙামাটি, বগুড়া, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, যশোর, লালমনিরহাট, গাজীপুর, পঞ্চগড় ও খাগড়াছড়ি৷ তবে এখন করোনায় আক্রান্ত রোগীদের ৮০ ভাগই ঢাকায়৷ ঢাকায় আক্রান্তদের ৬৯ ভাগ ওমিক্রনে আক্রান্ত বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন৷ এর বাইরে ৩১টি জেলা মধ্যম ঝুঁকিতে রয়েছে৷

আইইডিসিআর-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর জানান, এখন ঢাকা শহরে ৭০-৭৫ ভাগই ওমিক্রনের সংক্রমণ৷ আর ডেল্টার চেয়ে ওমিক্রনের সংক্রমণ ক্ষমতা তিন থেকে পাঁচ গুণ বেশি৷ ফলে দ্রুত ছাড়াচ্ছে৷ কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে যাওয়ায় এখন ঢাকার বাইরে এবং গ্রামাঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে৷

তিনি বলেন,"আগামী দুই-তিন সপ্তাহ এটা বাড়তে থাকবে৷ এই হারে বাড়লে দিনে সংক্রমণ ৩০-৩৫ হাজার পর্যন্ত হতে পারে৷ আর আগে দেখা যেত পিক-এ গিয়ে কমে যায় কিন্তু এবার সহসা পিক থেকে নামবে না৷ এবার ছাড়ানোর হার অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি৷ হাসপাতালেও আগের পিকের সমান রোগীই যাবে৷ যাদের টিকা দেয়া আছে তারা আক্রান্ত হলেও বেশি জটিলতা হবেনা৷ কিন্তু যারা এখনো টিকা দেননি এবং বয়ষ্ক ও নানা শারীরিক জটিলতা আছে তাদের জন্য বিপদ৷ তাই টিকা নিতে হবে এবং মাস্ক পরতে হবে৷ মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি৷”

অডিও শুনুন 03:11

এখন ঢাকা শহরে ৭০-৭৫ ভাগই ওমিক্রনের সংক্রমণ: ডা. এ এস এম আলমগীর

বিএসএমএমইউ-এর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম মনে করেন, হাসপাতালে নেয়া নয়, সংক্রমণ ঠেকানোই হলো মোকাবেলার উপায়৷ নয়তো কোনোভাবেই হাসপাতালে সবাইকে জায়গা দেয়া যাবে না৷ তাই তিনি মনে করেন,"টিকা দেওয়ার গতি আরো বাড়াতে হবে৷ মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করতে আইন প্রয়োগ করতে হবে৷ স্বাস্থ্যবিধি কড়াকড়ি করতে হবে৷ আর ঘরে বাইরে সবখানেই সভা-সমাবেশ বন্ধ করতে হবে৷ কারণ বদ্ধ জায়গায় করোনা বেশি ছড়ায়৷ সরকার নির্দেশনা দিয়ে বসে থাকতে পারে না৷ এটা কার্যকর করাও তার দায়িত্ব৷”

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের করোনা ঠেকাতে ১৫ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর হতে বলেছেন৷ তিনি বলেন, এটা বাস্তবায়নে তাদেরই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে৷ টিকা দেয়ার গতিও বেড়েছে বলে তিনি জানান৷

সরকারি হিসেবে এপর্যন্ত করোনা টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন ৯ কোটি ১৩ লাখ ২২ হাজার ৫৩৮ জন৷ দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন পাঁচ কোটি ৭৬ লাখ ৭৫ হাজার ২৭২ জন৷ বুস্টার ডোজ পেয়েছেন আট লাখ ৭৩ হাজার ৪৪১ জন৷ দেশে প্রথম বারের মত  বৃহস্পতিবার জনসন এন্ড জনসনের তিন লাখ ৩৬ হাজার ডোজ টিকা এসেছে৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়