২০১৯ সালে ধর্ষণ বেড়েছে দ্বিগুণ | বিশ্ব | DW | 04.01.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

২০১৯ সালে ধর্ষণ বেড়েছে দ্বিগুণ

বাংলাদেশে ধর্ষণ বাড়ছে৷ বেড়েছে নারীর প্রতি সহিংসতাও৷ কঠোর আইন, প্রচার প্রচারণা ও উচ্চ আদালতের নানা ধরনের নির্দেশনার পরও নারীর প্রতি সহিংসতা কমানো যাচ্ছে না৷

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সলিশ কেন্দ্র (আসক) এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে এক হাজার ৪১৩জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন৷ ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিলো ৭৩২জন৷ অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে দ্বিগুণ যা ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি৷

২০১৭ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮১৮ জন নারী৷ এদিকে ২০১৯ সালে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭৬জনকে৷ আর আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন ১০জন নারী৷

নারীর প্রতি সহিংসতার অন্য চিত্রগুলোও ভয়াবহ৷ ২০১৯ সালে যৌন হয়ানারীর শিকার হয়েছেন ২৫৮ জন নারী৷ ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিলো ১৭০ জন৷

২০১৯ যৌন হয়রানীর শিকার ১৮ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন৷ প্রতিবাদ করতে গিয়ে চারজন নারীসহ ১৭ জন হত্যার শিকার হয়েছেন৷ যৌন হয়রানীর প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৪৪ পুরুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন৷

গত বছর যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৬৭ জন নারী৷ তাদের মধ্যে নির্যাতনে নিহত হন ৯৬ জন এবং আত্মহত্যা করেন তিনজন৷ আর পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ৪২৩ জন নারী৷

অডিও শুনুন 03:07

‘যারা ধর্ষক তারা ধর্ষণের শিকার নারীর চেয়ে শক্তিশালী’

গত বছর ২০০ জন নারী তাদের স্বামীর হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন৷ ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিলো ১৭৩ জন৷

এর বাইরে অ্যাসিড নিক্ষেপ, ফতোয়া এবং সালিশি ব্যবস্থার শিকার হয়েছেন অনেক নারী৷ গত বছর তিনজন নারী ফতোয়ার কারণে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন৷ তাদের মধ্যে একজন পরে আত্মহত্যা করেন৷

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামাল নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিচারহীনতাকেই দায়ী করেন৷ তবে রাষ্ট্র ও সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতার আরো অনেক উপাদান আছে বলে মনে করেন তিনি৷

তিনি বলেন, ‘‘ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার যেসব ঘটনা ঘটে তার একটি অংশ জানা যায় না৷ এ বিষয়ে কোনো মামলা হয় না৷ আর যেগুলোর মামলা হয় বিশেষ করে ধর্ষণের ক্ষেত্রে সেখানে শতকরা মাত্র তিন ভাগ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত অপরাধী শাস্তি পায়৷ আর ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় শাস্তি হয় মাত্র শূন্য দশমিক তিন ভাগ৷ তাহলে বোঝা যাচ্ছে এ ধরনের কোনো ঘটনায় বিচার হয় না৷’’ তবে এর বাইরেও আরো অনেক বিষয় আছে বলে মনে করেন তিনি৷

এ মানবাধিকার নেত্রী বলেন, ‘‘যারা ধর্ষক তারা ধর্ষণের শিকার নারীর চেয়ে শক্তিশালী৷ অন্যদিক বাদ দিলেও লৈঙ্গিকভাবে পুরুষ শক্তিশালী৷ তারা সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবেও শক্তিশালী৷ নারীদের সামাজিকভাবে সুরক্ষা দেয়ার রাষ্ট্রের যে দায়িত্ব রয়েছে রাষ্ট্র তা পালন করছে না৷ আর নারীদের বাইরে বের হওয়া কিংবা কাজে যাওয়ার বিষয়গুলোকে সমাজে এখনো ভালো চোখে দেখা হয় না৷ নারীর বাইরে বের হওয়াকে পুরুষের ক্ষমতা খর্ব হওয়া হিসেবে দেখা হয়৷ আর প্রতিদিন নানা জায়গায় নারীর বিরুদ্ধে কথা বলা হয় কিন্তু সরকার ব্যবস্থা নেয় না৷ ফলে নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে৷’’

অডিও শুনুন 06:13

‘অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত কঠিন হয়ে পড়ে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনের মতে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে শক্ত আইন আছে৷ ‘‘কিন্তু শাস্তি দিয়ে খুব বেশি অপরাধ কমানো যায় না৷ আর এটা ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য৷ আমাদের এখানে সমাজের ভিতরে অসংখ্য উপাদান আছে যা ধর্ষণ বা নারীর প্রতি সহিংসতাকে উসকে দেয়৷ আমাদের সমাজে এখানো নারীকে ভোগের সামগ্রী মনে করা হয়৷ তাকে সেভাবে উপস্থাপনও করা হয় বিভিন্ন মাধ্যমে,’’ বলেন তিনি৷

ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থা এবং সাক্ষ্য আইনে নানা সমস্যা রয়েছে৷ আছে ধর্ষণের শিকার একজন নারীর চরিত্র হননের সুযোগ৷ কিন্তু একজন যৌনকর্মীর সঙ্গেওতো তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করা যাবে না৷ করা হলে সেটা ধর্ষণ হবে৷ এখানে অভিযোগ থানায় জানাতে গিয়েও ধর্ষণের শিকার হয়, বললেন শেখ হাফিজুর রহমান৷

তিনি বলেন, ‘‘একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডাক্তারি পরীক্ষা না করলে ধর্ষণের আলামত নষ্ট হয়ে যায়৷ আদালতে তাকে অনেক বিব্রতকর প্রশ্ন করা হয়৷ ফলে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে৷’’

 

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন