২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক খাতে ব্যয় বেড়েছে: সিপ্রি | বিশ্ব | DW | 02.05.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক খাতে ব্যয় বেড়েছে: সিপ্রি

গতবছর সারা বিশ্বে সামরিক খাতে ব্যয় বেড়ে ১.৭৩ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, বলে জানিয়েছে স্টকহোমের আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপ্রি৷ ফলে শীতল যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর গতবছরই সামরিক খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে দেশগুলো৷

সিপ্রির নতুন এই প্রতিবেদন সম্পর্কে সংস্থাটির গবেষক পিয়েটার ভেজেমানের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ডিডাব্লিউর ক্যার্স্টেন ক্নিপ৷

ডয়চে ভেলে: ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক খাতে ব্যয় কিছুটা বেড়েছে, বলে সিপ্রির রিপোর্ট থেকে জানা গেছে – পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৭৩ ট্রিলিয়ন ডলার, যা কিনা ২০১৬ সালের তুলনায় ১.১ শতাংশ বেশি৷ সেটা কি খুব বেশি না কম?

পিয়েটার ভেজেমান: পরিসংখ্যানের ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং পরিসংখ্যান যে কখনোই পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়, সে কথা ভাবলে আমরা বলতে পারি যে, এই বাড়াটা খুব বেশি নয়৷ অপরদিকে এও স্পষ্ট যে, বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় খুব উচ্চ হলেও, মোটামুটি একই পর্যায়ে রয়েছে৷ কিন্তু আঞ্চলিক পর্যায়ে আমরা বেশ কিছু লক্ষণীয় ফারাক দেখি৷ 

চীনে যেমন সামরিক ব্যয় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে মোট ২২ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে৷

হ্যাঁ – কিন্তু তা গত ২০ বছর ধরে দেশটির সামরিক খাতে ব্যয়বৃদ্ধির অনুরূপ৷ চীনে সামরিক ব্যয় প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল রেখে চলে – কাজেই ব্যাপারটা খুব নাটকীয় নয়৷ তবুও চীন সামরিক ব্যয়ের বিচারে বিশ্বে দ্বিতীয়, যদিও প্রথম স্থানাধিকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক পিছিয়ে৷ অপরদিকে তালিকায় তার পরের দেশগুলির চেয়ে চীন সামরিক খাতে অনেক বেশি ব্যয় করে থাকে৷

এ থেকে আমরা দেশটির রাজনৈতিক উচ্চাশা সম্পর্কে কি ধারণা করতে পারি?

চীন একটি বিশাল দেশ, তার অর্থনীতিও অনেক বড়৷ চীন শুধু আঞ্চলিক শক্তি না হয়ে, বিশ্বশক্তি হতে চায়৷ চীনের অনেক উচ্চ পরিকল্পনা আছে, তার সামরিক ব্যয়ে যার প্রতিফলন ঘটেছে৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও সামরিক ব্যয় বাড়িয়েছে৷ একা অ্যামেরিকা সামরিক খাতে যা বিনিয়োগ করতে চলেছে, তালিকায় তার পরবর্তী সাতটি দেশের সামগ্রিক সামরিক ব্যয়ের চেয়ে, তা বেশি৷ এর তাৎপর্য কি?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই একটি বর্ধিত সামরিক বাজেটের ব্যবস্থা করেছেন – যদিও তাঁকে কড়া বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়েছে, কেননা যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রভাবশালী কণ্ঠ সামরিক ব্যয় কমানোর ডাক দিয়েছেন৷ তবুও ট্রাম্প তাঁর প্রভাব খাটাতে পেরেছেন৷ কাজেই আগামীতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় বেড়ে চলবে, বলে ধরে নেওয়া যায়৷

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক খাতে ব্যয় লক্ষণীয়ভাবে বেশি৷ জিডিপির তুলনায় সামরিক ব্যয়ের অনুপাতে বিশ্বের প্রথম ১০টি দেশের মধ্যে সাতটিই এই অঞ্চল থেকে, যার মধ্যে ওমান, সৌদি আরব, কুয়েত, জর্ডান, ইসরায়েল ও লেবানন পড়ে৷ এই অঞ্চলের সামরিক বিকাশ সম্পর্কে আপনার কী ধারণা?

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার তাদের জিডিপির একটা বড় অংশ সামরিক খাতে ব্যয় করতে প্রস্তুত – সৌদি আরবের ক্ষেত্রে যেমন তা জিডিপির ১০ শতাংশ৷ এই দেশগুলি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে তাদের নিজেদের ভূমিকা কীভাবে দেখে, তারই প্রতিফলন ঘটেছে তাদের সামরিক ব্যয়ে৷

সৌদি আরবের ক্ষেত্রে দেশটি যে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের উপরেও নজর রাখছে, (সৌদি সামরিক ব্যয় থেকে) তা স্পষ্ট বোঝা যায়৷ সিরিয়া আর ইয়েমেনের যুদ্ধ থেকে প্রমাণ হয় যে, এই সব দেশ শুধু সামরিক খাতে ব্যয় করতেই নয়, নিজেদের লক্ষ্য হাসিল করার জন্য সেই অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করতেও রাজি৷

অপরদিকে ইরান সামরিক খাতে খুব বেশি বিনিয়োগ করে না – যদিও তা বদলাতে পারে, কেননা ইরান তার সামরিক ব্যয় বাড়াতে পুরোমাত্রায় প্রস্তুত; শুধু তার অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দরুণ এই মুহূর্তে তা করা সম্ভব নয়৷

আফ্রিকা মহাদেশে সামরিক ব্যয় কমেছে আধ শতাংশ৷ এর অর্থ কি?

এর নানা কারণ আছে৷ অ্যাঙ্গোলা তার সামরিক ব্যয় কমিয়েছে, কেননা অ্যাঙ্গোলা তেল উৎপাদন করে এবং তেলের দাম পড়ে গেছে৷ তেল বিক্রির আয়ের উপর নির্ভরশীল একাধিক আফ্রিকান দেশের ক্ষেত্রে সে কথা প্রযোজ্য৷ তবে কিছু কিছু দেশে সামরিক খাতে ব্যয় বেড়েছে – যেমন সুদানে, কেননা সেখানে সরকারি সৈন্য আর বিদ্রোহীদের মধ্যে যুদ্ধের তীব্রতা বেড়েছে৷ এ ধরণের সংঘাত অ্যাঙ্গোলা ও অপরাপর দেশের সামরিক ব্যয়ের উপরেও লক্ষণীয় ছাপ ফেলে থাকে৷ সব মিলিয়ে, বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতির মধ্যে ব্যাপক ফারাক রয়েছে৷

মধ্য ইউরোপে সামরিক ব্যয়বেড়েছে ১২ শতাংশ, অপরদিকে পশ্চিম ইউরোপে মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ৷ এর কারণ কি এই যে, মধ্য ইউরোপের দেশগুলি রাশিয়ার তরফ থেকে ঝুঁকির আশঙ্কা করে? 

ইউরোপের দেশগুলি বিভিন্ন পরিস্থিতির প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করছে, যেগুলিকে তারা ঝুঁকি বলে মনে করে – বিশেষ করে ইউক্রেনের পরিস্থিতি৷ বস্তুত রাশিয়া গত ১০ বছর ধরে তার সামরিক ব্যয় লক্ষণীয়ভাবে বাড়িয়ে এসেছে, যার ফলে ইউরোপীয় দেশগুলি নিজেদের সামরিক খাতে আরো বেশি ব্যয় করতে বাধ্য বলে মনে করেছে – যেমন পোল্যান্ড৷ ন্যাটোও ঐ অঞ্চলে তার সৈন্যসংখ্যা বাড়িয়েছে৷

অপরদিকে এটা খেয়াল করা দরকার যে, রাশিয়া এবার তার সামরিক খাতে ব্যয় না বাড়িয়ে, বরং ২০১৬/১৭ সালের তুলনায় তা বেশ কিছুটা কমিয়েছে৷ ইউরোপে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানো নিয়ে যখন কথা হয়, তখন সেটা মনে রাখা প্রয়োজন৷ এমনকি আমাদের নিজেদের সামরিক খাতে ব্যয় সীমিত করার সময় এসেছে কিনা, আমরা সে প্রশ্নও তুলতে পারি – যার আরেক অর্থ হবে, আমরা অন্য পন্থায় বিরোধের সমাধান ঘটাতে প্রস্তুত৷

পিয়েটার ভেজেমান স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট সিপ্রির অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক ব্যয় কর্মসূচির সিনিয়র রিসার্চার৷ তাঁর সাক্ষাৎকার নেন ক্যার্স্টেন ক্নিপ৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়