১৩৪ বছরের আইনি লড়াইয়ের শেষ কোথায়? | বিশ্ব | DW | 17.10.2019
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

সংবাদভাষ্য

১৩৪ বছরের আইনি লড়াইয়ের শেষ কোথায়?

অবশেষে শেষ হলো অযোধ্যা মামলার শুনানি৷ রাম মন্দির না বাবরি মসজিদ- কোন পক্ষে যাবে রায়, তা নিয়ে কী বলছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম?

হিন্দু মৌলবাদীরা ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙচুর করেন

হিন্দু মৌলবাদীরা ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙচুর করেন

৬ আগস্ট থেকে একটানা ৩৯ দিন ধরে প্রতিদিন চলছিল অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জমির অধিকারের মামলার শুনানি৷ এই বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়ার কাজ ১৮৮৫ সালে শুরু হলেও এখনও কোনো সুরাহা মেলেনি৷ এর মধ্যে আদালতে উঠেছে নানা পক্ষের নানা পিটিশন৷ ২০১১ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্টে এই মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ দিলে আবার ২০১৭ সালে নতুন করে মামলার শুনানি শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট, যা তখন সম্পূর্ণ হয়নি৷

নানা টালবাহানার পর চলতি বছরের ১৬ অক্টোবর শুনানি পর্যায়ের শেষ দিনে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী কমিটি জানায়, যে আগামী ১৭ নভেম্বর মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হবে৷ এই মামলায় মসজিদের পক্ষে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ও মন্দিরের পক্ষে হিন্দু মহাসভা, নির্বাণী আখড়া ও রাম জন্মস্থান পুনরুদ্ধার সমিতি লড়ছে৷

মসজিদ ও মন্দিরপক্ষের মধ্যে বিতর্কিত দুই দশমিক ৭৭ একর জমির অধিকার বিষয়ে কোনো সমাধান না পাওয়া গেলে আগস্ট মাসে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত নতুন করে মধ্যস্থতাকারী কমিটি গঠন করে৷ এই প্যানেলে রয়েছেন জজ কলিফুল্লা, সিনিয়র অ্যাডভোকেট শ্রীরাম পাঞ্চু ও গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর৷

১৯৯৩ সালে উত্তরপ্রদেশে জারি হয় রাষ্ট্রপতি শাসন৷ সেই সময় তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার বিতর্কিত দুই দশমিক ৭৭ একর জমিকে ঘিরে মোট ৬৭ দশমিক ৭০৩ একর জমি অধিগ্রহণ করে, যার মধ্যে ছিল রাম জন্মভূমি ন্যাস সংগঠনের ৪২ একর জমি৷ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে আন্দাজ করা যাচ্ছে, হয়তো গোটা জমিটিই সরকারের হাতে তুলে দেবে আদালত৷ কিন্তু বিতর্কিত জমির দখল কার হাতে যাবে, সেটাই হবে নভেম্বরের রায়ের মূল বক্তব্য৷

কী থাকবে নভেম্বরের চূড়ান্ত ঘোষণায়, এই নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে উঠে আসছে নানা মতামত৷

মন্দিরের জয় কি নিশ্চিত?

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, ‘‘সুপ্রিম কোর্টে মামলাতেও মোদী সরকার রামমন্দির তৈরির রাস্তা সহজ করার চেষ্টা করেছে৷’’ প্রেমাংশু চৌধুরী সেই  সম্পাদকীয় প্রবন্ধে নজরে আনছেন অযোধ্যায় রামমন্দিরকে ঘিরে প্রচলিত নানা ধারণাকে৷ শুধু তাই নয়, প্রবন্ধে জোর দেওয়া হয়েছে মন্দির/মসজিদের রাজনীতিকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের রুটিরুজির প্রশ্ন৷ তিনি বলছেন, ‘‘অযোধ্যাবাসীর আশা— রাম মন্দিরের হাত ধরে রুটিরুজি আসবে৷ রাম মন্দির হলে অবশ্য গোটা দেশেই হিন্দু-আবেগ উস্কে দেওয়া হবে৷ চাকরির অভাব, গাড়ি কারখানায় ছাঁটাই থেকে নজর সরে যাবে৷ আর যদি রাম মন্দিরের বিরুদ্ধে রায় আসে, তা হলে গোটা সঙ্ঘ পরিবার ফের রাম মন্দির আন্দোলনে মাঠে নামবে৷ সে ক্ষেত্রেও রুটিরুজির সমস্যা থেকে নজর সরে গিয়ে ফের দেশের প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে উঠবে আড়াই হাজার বছরের পুরনো এক মহাকাব্য৷’’

মন্দিরপক্ষের জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বর্তমান পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ৷ সেখানে বলা হচ্ছে, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের শুনানির পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী কমিটির রিপোর্টে চূড়ান্ত কিছু জানানো হয়নি৷ কিন্তু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, সরকার যদি বাবরি মসজিদের জমি অধিগ্রহণ করেও নেয়, তাহলে আপত্তি করবে না ওয়াকফ বোর্ড৷’’ অন্যদিকে, আনন্দবাজারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা সাক্ষী মহারাজের একটি উদ্ধৃতি৷ সেখানে তিনি বলেন, ‘‘প্রভু রামের পক্ষেই রায় আসবে৷ ৬ ডিসেম্বর বা তার আগেই রামমন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হবে৷ এ বছর দু'বার দীপাবলি হবে৷’’ প্রসঙ্গত, বাবরি মসজিদের কাঠামো ভাঙা হয় ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বর৷

ইংরেজি সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জোর দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যে, যার নির্বাচনি ইশতাহারে প্রতিবারই উঠে এসেছিল রাম মন্দির নির্মাণের কথা৷ মোদী বলেছেন, ‘‘সরকার হিসাবে আমাদের দায়িত্ব যাই হোক না কেন,  আমাদের ইশতেহার অনুযায়ী এই বিষয়ে আমরা সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাব৷’’

Shabnam Surita Dana

শবনম সুরিতা, ডয়চে ভেলে

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস একটি প্রতিবেদনে তুলে এনেছে ভারতীয় সংবিধানের অন্তর্গত প্রাসঙ্গিক বিধান৷ সেখানে উঠে এসেছে ১৯৯১ সালের ধর্মীয় উপাসনার স্থান বিষয়ক আইনি ধারা৷ সেই প্রতিবেদনে রয়েছে জামায়াত উলেমা-ই-হিন্দের প্রধান মৌলানা আরশাদ মাদানীর বক্তব্য৷ তিনি বলেছেন, ‘‘শরিয়া আইন অনুযায়ী, মুসলমানদের মসজিদের মর্যাদা পরিবর্তন করার কোন অধিকার নেই৷ কারণ এটি বিচারের দিন পর্যন্ত সর্বদা ইবাদতের জায়গা হিসাবে রয়েছে৷ সুতরাং মুসলমানরা এই মসজিদের জমির অধিকার অন্যত্র সমর্পণ করে তাকে অন্য কোনও জায়গায় নিয়ে যেতে পারে না৷’’

হিন্দি-ইংরেজি-বাংলা সব মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়েছে উত্তরপ্রদেশ তথা ভারতের একাধিক হিন্দু সংগঠনের অযোধ্যা মামলা বিষয়ে আগাম উচ্ছ্বাসের খবর৷ রয়েছে বিচ্ছিন্ন কিছু হিন্দু ও মুসলিম সংগঠনের আইনিপ্রক্রিয়ার প্রতি ক্ষোভের কথাও৷

রায় কোন পথে যাবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা এখনই না পাওয়া গেলেও, বিশেষজ্ঞরা আঁচ করছেন, মন্দির গড়ার জন্য হয়ত শেষ পর্যন্ত সরকার জমি দিতে বাধ্য হবেই৷ মধ্যস্থতাকারী কমিটি যে ‘সমঝোতা’র প্রস্তাব দিয়েছে, তাতে পুরোপুরি খুশি নয় মন্দির বা মসজিদ কোনো পক্ষই৷ ফলে, রায় ঘোষণার পর উত্তপ্ত হতে পারে পরিস্থিতিত৷ তাই সবার নজর আপাতত ১৭ নভেম্বরের দিকে৷ উত্তেজনার আশঙ্কায় এর মধ্যে অযোধ্যায় ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন