হ্যানয় শহরে দূষণ কমানোর উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 28.11.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

হ্যানয় শহরে দূষণ কমানোর উদ্যোগ

বিশ্বের অনেক বড় শহরের মতো ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়-ও পরিবেশ ও বায়ুদষণের শিকার হচ্ছে৷ বেশ কিছু স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতির চেষ্টা চলছে৷ জার্মানিও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে৷

শহরের মধ্যে মরুদ্যান

সপ্তাহান্তে হ্যানয় শহর বেশ সুন্দর হয়ে ওঠে৷ অবশেষে প্রাণ খুলে নিঃশ্বাসও নেওয়া যায়৷ হান দাং সপরিবারে রবিবার শহরের মাঝে হোয়ান-কিয়েম লেকের ধারে বেড়াতে আসেন৷ এমনকি সুগার ক্যান্ডি বিক্রেতাও বেশ খোশমেজাজে রয়েছেন৷ কারণ শুধু সপ্তাহান্তেই লেকের চারিদিকের রাস্তাগুলিতে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকে৷ পথচারীরা নির্বিঘ্নে সেখানে ঘোরাফেরা করতে পারেন৷ হ্যানয় শহরের বাসিন্দা হান দাং বলেন, ‘‘অন্যদিনের মতো দূষণ-মাস্ক পরতে হয় না, বাতাস উপভোগ করতে পারি৷ প্রত্যেক সপ্তাহান্তেই এখানে আসি৷ গাড়ি, মোটরসাইকেল থাকে না৷ অনেক সহজ ও আরামদায়ক৷''

বায়ুদূষণের সমস্যা

অন্য দিনের সঙ্গে সত্যি কোনো তুলনা চলে না৷হ্যানয় শহরে ৭০ লক্ষেরও বেশি মানুষ বসবাস করেন৷ মোপেডই পরিবহণের প্রধান মাধ্যম৷ তবে গাড়ির সংখ্যাও বাড়ছে৷ এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য-পরিসংখ্যান নেই৷ তবে শহরে যানবাহন এবং বায়ুদূষণ বেড়েই চলেছে৷ হান দাং-ও মোপেড চালান৷ তাঁর মতে, বাসে করে কাজে যেতে অনেক সময় লাগে৷ হ্যানয় শহরে বায়ুদূষণ কমাতে এক আন্তর্জাতিক টিমের সঙ্গে কাজ করেন তিনি৷

কিন্তু বায়ুর মান আসলে কতটা খারাপ? এখনো পর্যন্ত পরিবেশ সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষ ১০টি পরিমাপ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে৷ নতুন একটি যোগ করা হচ্ছে৷ ভিয়েতনাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা সেটি তৈরি করেছেন৷

প্রযুক্তিগত সহায়তা

নতুন ও উন্নত সেন্সর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জার্মানি থেকে দুই সহকর্মীও এসেছেন৷ তাঁরা জার্মানির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড-এর কর্মী এবং ভিয়েতনামের সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন৷ বায়ুদূষণ সংক্রান্ত উপদেষ্টা পাট্রিক ব্যুকার বলেন, ‘‘এ ক্ষেত্রে এমন এক যন্ত্র কাজে লাগানো হচ্ছে, যার ব্যয় কম৷ সেটি আগেই পরীক্ষা করা হয়েছে এবং চটজলদি বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে বসানো চলে৷ ফলে শহর কর্তৃপক্ষ অপেক্ষাকৃত কম খরচে বিভিন্ন জায়গায় বাতাসের মান পরীক্ষা করতে পারে৷''

 

পৌর কর্তৃপক্ষ চাপের মুখে রয়েছে৷ গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে৷ পাতাল রেল তৈরির কাজ দীর্ঘ সময় ধরে চলছে৷ হাতেগোনা কয়েকটি আধুনিক ও দ্রুতগতির বাস রাজপথে নামলেও তার ফলে গাড়ির সংখ্যা কমছে না৷ কিছু ব়্যাডিকাল পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে৷ যেমন পৌর কর্তৃপক্ষ ২০৩০ সালের মধ্যে হ্যানয় শহরে সব মোপেড নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ কিন্তু এই মুহূর্তে সে বিষয়ে কারো আগ্রহ নেই৷

দূষণ পরিমাপেরঅবকাঠামো

হ্যানয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন মোবাইল ডিভাইস পরীক্ষা করা হচ্ছে, যা দিয়ে সরাসরি যে কোনো যানের দূষণ মাপা সম্ভব৷ অদূর ভবিষ্যতে এক ধরনের দূষণ পুলিশ বাহিনী এমন যন্ত্রের সাহায্যে অবৈধ যান শনাক্ত করে সেগুলি রাজপথ থেকে দূর করতে পারবে৷ সেটা সম্ভব হলে হ্যানয় শহরের মানুষের জন্য বড় পরিবর্তন আসবে৷ হান দাং বলেন, ‘‘জানি না, মোটরসাইকেল বন্ধ করতে হলে তাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে৷ সত্যি জানি না৷ আমাদের প্রচার অভিযান, যোগাযোগ প্রস্তুত করতে হবে৷''

সেই লক্ষ্যে জিআইজেড পরিবেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সর্বদা যোগাযোগ রেখে চলেছে৷ তবে জার্মান সংস্থা শুধু পরিকল্পনা করতে ও উপদেশ দিতে পারে৷ কর্তৃপক্ষকেই সেই সব পদক্ষেপ কার্যকর করতে হবে৷ পরিবেশ সুরক্ষা দপ্তরের চি লু থি থান বলেন, ‘‘প্রথমত, শহর কর্তৃপক্ষকে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে প্রচার অভিযানের আয়োজনকরতে হবে, যাতে নাগরিকরা গণপরিবহণ ব্যবস্থার সুফল বুঝতে পারেন৷ তবে অবকাঠামো ও গণপরিবহণ ব্যবস্থার আরও অনেক উন্নতি করতে হবে৷''

পুরানো যান বাতিল

পরিমাপের ব্যবস্থা নিয়ে আর কোনো সমস্যা নেই৷ কিন্তু এখনো কীসের অভাব রয়েছে? প্রকল্পের সমন্বয়ক টাংমার মারমন বলেন, ‘‘দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে বর্তমান পরিবহণ কাঠামোয় কিছু পরিবর্তন বা গাড়ির ইঞ্জিন ওভারহল বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে৷ ফলে মানুষকে কিছু ব্যয় করতে হবে৷ জার্মানির মতো ভিয়েতনামেও মানদণ্ড নির্ধারণকারী কর্তৃপক্ষ ও পেট্রল-ডিজেলের নির্দিষ্ট মান স্থির করা যেতে পারে৷''

হাতে আর বেশি সময় নেই৷ শহর বেড়েই চলেছে৷ জনসংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে মোপেডের সংখ্যাও৷ ভবিষ্যতের হ্যানয় শহর কেমন দেখতে হবে, তার আভাস প্রতি সপ্তাহান্তেই হোয়ান-কিয়েম লেকের ধারে দেখা যায়৷ সেখানে সবকিছু শান্ত, চারিদিকে সবুজের সমারোহ, বাতাসও নির্মল৷

মিশায়েল ভেৎসেল/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন