হেফাজতে সরকারপন্থিরা কোণঠাসা? | বিশ্ব | DW | 13.11.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

হেফাজতে সরকারপন্থিরা কোণঠাসা?

হেফাজতে ইসলামের সম্মেলন রবিবার৷ সেখানে নতুন আমির ও মহাসচিব নির্বাচন করা হবে৷ কিন্তু সেই সম্মেলনে ডাক পাননি আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানিসহ সরকারপন্থিরা৷

হেফাজতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে৷ সেই সময় থেকেই আমিরের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আল্লামা শাহ আহমেদ শফী৷ ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে অবস্থানের মধ্য দিয়ে তাদের শক্তির প্রকাশ ঘটায় হেফাজত৷ তখন তারা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও পরে তাদের সাথে সরকারের সুসম্পর্ক হয়৷ কিন্তু বরাবরই সরকারের সাথে এই সুসম্পর্কের বিরোধী ছিলেন হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী৷ ফলে তাকে হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিচালকের পদ থেকে বাদ দিয়েছিলেন আল্লামা শফী৷ তবে তার মৃত্যুর পর বাবুনগরী আবার মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস পদে বহাল হন৷

কিন্তু হাটহাজারী মাদ্রাসায় ছাত্রদের বিক্ষোভের ঘটনায় প্রথমে মাদ্রাসা থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর বহিষ্কার করা হয় মাওলানা শফীর ছেলে আনাস মাদানিকে৷ বের করে দেয়া হয় মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহীকে৷ তারা দুই জনই বাবুনগরীবিরোধী ছিলেন৷ ওই ঘটনায় মাওলানা আহমদ শফীও বাধ্য হয়ে মাদ্রাসার মুহতামিম পদ ছেড়ে দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন৷ পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান৷
 

কাউন্সিল যেভাবে হচ্ছে

রোববার সকালে হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা, যা হাটহাজারী মাদ্রাসা নামে পরিচিত, সেখানে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে৷ এতে সারাদেশের জেলা প্রতিনিধিসহ প্রায় পাঁচশ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে৷ কাউন্সিলে সভাপতিত্ব করবেন হেফাজতে ইসলামের সাবেক সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী৷ তিনি মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরীর মামা৷ মহিবুল্লাহ বাবুনগরী শুরুতে হেফাজতের সিনিয়র নায়েবে আমির থাকলেও পরে মতবিরোধের কারণে তিনি পদত্যাগ করেন৷

অডিও শুনুন 01:03

আমাকে কিছুই জানানো হয়নি, দাওয়াতও দেয়া হয়নি: মাওলানা ফয়জুল্লাহ

তার সভাপতিত্বে এই কাউন্সিল নিয়ে এরইমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন জুনাইদ বাবুনগরীবিরোধীরা৷ জানা গেছে, এই কাউন্সিলের মাধ্যমে জুনাইদ বাবুনগরীকে হেফাজতের আমির এবং সিনিয়র নায়েবে আমির নূর হোসাইন কাসেমীকে মহাসচিব করার প্রক্রিয়া চলছে৷ কাসেমী এখন একইসঙ্গে জমিয়তে উলামায়ে বাংলাদেশের মহাসচিব৷ এটি বিএনপি জোটের সাথে যুক্ত৷

হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ফয়জুল্লাহ এই কাউন্সিলের ব্যাপারে কিছু জানেন না৷ তিনি বলেন, ‘‘আমাকে কিছুই জানানো হয়নি৷ দাওয়াতও দেয়া হয়নি৷ কোনো কাউন্সিল হবে বলে আমার জানা নেই৷ যদি কেউ কাউন্সিল ডেকে থাকেন তার কোনো বৈধতা নেই৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘যিনি কাউন্সিল ডেকেছেন তারই বৈধতা নাই৷ মহিবুল্লাহ বাবুনগরী মাওলানা আহমদ শফী বেঁচে থাকতেই পদত্যাগ করেছেন৷ তিনি আবার কাউন্সিল ডাকেন কীভাবে?''

মঈনুদ্দীন রুহি হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব৷ তিনিও দাওয়াত পাননি৷ মাওলানা শফীর ছেলে আনাস মদানি প্রচার সম্পাদক৷ তাকেও কিছু জানানো হয়নি৷ এরকম আরো অনেকে যারা জুনাইদ বাবুনগরীবিরোধী, তারা অনেকেই দাওয়াত পাননি৷ কেন্দ্রীয় কমিটিতে ১৫১ জন থাকলেও দাওয়াত দেয়া হয়েছে ৫০০ জনকে৷
তবে হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা সালাউদ্দিন বলেন, ‘‘আমার জানা মতে সবাইকে দাওয়াত দেয়া হয়েছে৷ হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির কেউ দাওয়াত পাননি বলে আমরা জানা নেই৷'' তিনি জানান, রবিবার হেফাজতের নতুন আমির ও মহাসচিব নির্বাচন করা হবে৷ কাউন্সিলররা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই নতুন নেতৃত্ব ঠিক করবেন৷ তিনি দাবি করেন, ‘‘হেফাজতের মধ্যে কোনো ভাগ নেই৷ যারা এটা বলছেন তারা ঠিক বলছেন না৷ হয়ত কমিটিতে না থাকার পরও অনেকে দাওয়াতের আশা করছেন৷ সেকারণে বলছেন৷''

অডিও শুনুন 03:16

আমার জানা মতে সবাইকে দাওয়াত দেয়া হয়েছে: মাওলানা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন

তবে তিনি স্বীকার করেন সিনিয়র নায়বে আমির মহিবুল্লাহ বাবুনগরী আগেই পদত্যাগ করেছেন৷ তার কথা, ‘‘জুনাইদ বাবুনগরী বলেছেন তাই তিনি কাউন্সিল ডেকেছেন৷ কাউন্সিল ডাকার আগে আমাদের কোনো বৈঠক হয়নি৷''

এদিকে হেফাজতের জুনাইদ বাবুনগরীবিরোধীরা দাবি করছেন, মাওলানা শফী মৃত্যুর কিছু দিন আগে ১৩ আগস্ট হেফাজতের পূর্ণাঙ্গ একটি কমিটি দিয়ে গেছেন৷ তাই আমির ছাড়া আর কোনো পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দরকার নেই৷ জুনাইদ বাবুনগরী তার পক্ষে একটি কমিটি করার জন্য এই কাউন্সিলে নিজের লোকজনকে ডেকেছেন৷

দুই পক্ষের হেফাজত নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারপন্থি এবং মাওলানা শফীর ছেলে আনাস মাদানির সঙ্গে যারা ছিলেন তাদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠনের কথা ভাবছেন জুনাইদ বাবুনগরী৷ বিরোধিতা এড়াতে তাদের কাউন্সিলে ডাকা হয়নি৷

মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘‘শফী হজুর মৃত্যুর কয়েক মাস আগেই কমিটি করে দিয়ে গেছেন৷ সেই কমিটির বাইরে এখন কোনো কমিটির দরকার নেই৷''

এদিকে সরকারের দিক থেকেও এই কাউন্সিলকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে৷ আওয়ামী লীগের নেতারা আপাতত তাই এনিয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না৷

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন