হেফাজতে রাজনৈতিক নেতারা আছেন, রাজনীতি নেই | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 02.04.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

হেফাজতে রাজনৈতিক নেতারা আছেন, রাজনীতি নেই

বাংলাদেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল মোট ৪৪ টি৷ তার মধ্যে ১৩টি ইসলামিক দল। হেফাজতে ইসলামের দাবি, তারা একটি ‘অরাজনৈতিক' সামাজিক ইসলামি সংগঠন। অথচ দুই-একজন বাদে সংগঠনটির সব নেতাই কোনো না কোনো ইসালামি দলের সঙ্গে যুক্ত।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামি আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন হারিয়েছে। বাংলাদেশে নিবন্ধিত ১৩টির বাইরেও কমপক্ষে ৩০টি ইসলামি রাজনৈতিক দল আছে।

হেফাজতের নেতারা যেসব ইসলামি দল করেন সেগুলো আবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই দুই ঘরানায় বিভক্ত। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা দুই দল বা জোট থেকেই মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মাওলানা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যুর পর সরকার ঘেঁষা হেফাজত নেতারা কোণঠাসা হয়ে আছেন। নতুন কমিটিতে তাদের জায়গা হয়নি। বরাবরের আওয়ামী লীগ সরকার-বিরোধী বলে পরিচিত মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী পন্থিরাই এখন হেফাজতে শক্তিশালী। আর বাবুনগরীই এখন হেফাজতের আমির।

হেফাজতের মুখপাত্র এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী জানান, হেফাজতের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের অধিকাংশই আবার প্রধানত পাঁচটি ইসলামি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। সেই পাঁচটি ইসলামি দল হলো: খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলামি এবং ইসলামি ঐক্যজোট।

জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামি এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ছাড়া আর সব ইসলামি রাজনৈতিক দলেই হেফাজতের লোকেরা আছেন। এ প্রসঙ্গে মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘‘যদি হেফাজতের নীতি ও আদর্শে বিশ্বাসী হয়, ঈমান ও আকিদার যে দাবি-দাওয়া তার সাথে যদি একমত হয় এবং নাস্তিকদের যদি সমর্থন না করে, তাহলে আওয়ামী লীগ , বিএনপি বা যেকোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হলেও হেফাজতের সদস্য হতে বাধা নেই। শর্ত শুধু একটিই, হেফাজতে  কোনো দলীয় রাজনীতি করা যাবে না।”

অডিও শুনুন 03:48

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেকে হেফাজতের সঙ্গে যুক্ত: আহমেদ আবদুল কাদের

এই সময়ে সবচেয়ে আলোচিত হেফাজত নেতা, হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ নামে একটি ইসলামি রাজনৈতিক দলের মহাসচিব। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির। খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের হেফাজতে ইসালামের আরেকজন নায়েবে আমির।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের বিরুদ্ধে সমমনা যে  ইসলামি দলগুলো কর্মসূচি দিয়েছে, তাদের শীর্ষ নেতাদের প্রায় সবাই হেফাজতেরও কেন্দ্রীয় নেতা। আর তাদের সমন্বয়ক মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী হেফাজতেরও শীর্ষ নেতা। তবে হেফাজতের আমির মাওলানা জুনায়েদ বাবুরগরী সরাসরি কোনো ইসলামি দলের সঙ্গে যুক্ত নন। মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, ‘‘আমরা ধর্মীয় সিদ্ধান্ত হেফাজতে ইসলামের মাধ্যমে নিই আর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দলের মাধ্যমে নিই। দুইটি আলাদা। প্রত্যেক মানুষের রাজনৈতিক স্বাধীনতা আছে। হেফাজত করলেও যে-কোনো রাজনৈতিক দল করতে বাধা নেই।”

খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের হেফাজতে ইসামের নায়েবে আমির। খেলাফত মজলিশ একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। ড. আহমেদ আবদুল কাদের বলেন, ‘‘একই সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম এবং খেলাফত মজলিশ করতে আমার কোনো সমস্যা হয় না। কারণ, খেলাফত মজলিশ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। ধর্মীয় সামাজিক দল। আমার জানা মতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেকে হেফাজতের সঙ্গেও যুক্ত। আবার অনেক আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতা নানা ধরনের সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত। তাহলে অন্য ইসলামি দল করলে হেফাজতের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে না কেন? হেফাজত তো কোনো রাজনৈতিক দল নয়।” ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের বিরোধিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এটা রাজনৈতিক ইস্যু, তবে ধর্মীয় ইস্যুও বটে।”

হেফাজতে ইসলামে যে ইসলামি রাজনৈতিক দলটির প্রভাব সবচেয়ে বেশি, সেটা হলো, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে এই দলের ৩৪ জন সদস্য রয়েছেন। হেফাজতের বাবুনগরী কমিটির সদ্য প্রয়াত মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী জমিয়তেরও মহাসচিব ছিলেন। এই জমিয়ত আবার বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরীক। হেফাজতের চার জন যুগ্ম মহাসচিবের দুইজন মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব এবং মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতা।

অন্যদিকে খেলাফত মজলিশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মসলিশের ২২ জন নেতা আছেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে। তার মধ্যে বিএনপি জামায়াত জোটের শরিক খেলাফত মসলিসের ছয় জন নেতা আছেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে।

অডিও শুনুন 03:23

আমরাই প্রকৃত হেফাজতে ইসলাম: মাঈনুদ্দিন রুহী

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার পর আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে হেফাজতের সম্পর্ক ক্রমশ ভালো হতে থাকে। শাপলা চত্বরের ঘটনায় জুনায়েদ বাবুনগরীকে গ্রেপ্তার করা হলেও তখনকার হেফাজত আমির মাওলানা শাহ আহমদ শফীকে সরকারি উদ্যোগে নিরাপদে হাটহাজারীতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বাবুনগরী পরে জামিনে ছাড়া পেলেও আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী অবস্থান থেকে সে সরে যায়নি। গত বছর আহমদ শফীর মৃত্যুর পর বাবুনগরীই হন হেফাজতের আমির। আহমদ শফী পন্থিরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। অনেককে হেফাজত থেকে বের করে দেয়া হয়। হেফাজতের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ তাদেরই একজন। তিনি আবার ইসলামী ঐক্য জোটের মহসচিব। এই জোট থেকে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে মনোনয়ন পাওয়ারও চেষ্টা করা হয়।

আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানিকেও হেফাজত থেকে বের করে দেয়া হয়। তবে আহমদ শফী পন্থি মাওলানা মাঈনুদ্দিন রুহী বলেন,‘‘ আমরাই প্রকৃত হেফাজতে ইসলাম। আমরাই আল্লামা আহমদ শফীর অনুসারী। ওরা নতুন কমিটি করেছে৷ তারা হেফাজতের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। ওরা হেফাজতকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।” তিনি এখনো নিজেকে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব দাবি করে বলেন,’’ আমাদের কমিটি আহমদ শফী অনুমোদন দিয়ে গেছেন।”

তিনি মনে করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের বিরোধিতায় হেফাজত যে কর্মসূচি দিয়েছে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণেই প্রাণহানি ও জ্বালাও পোড়াওয়ের ঘটনা ঘটেছে। তার মতে, সরকারের সঙ্গে থাকায় কোনো দোষ নেই, যদি সরকার ইসলামের জন্য কাজ করে।

কওমী মাদ্রাসা নির্ভর হেফাজতে ইসলাম ২০১০ সালের ১৯ এপ্রিল চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে নারী নীতির বিরোধিতা করে এই সংগঠন এবং এর সাবেক আমীর মাওলানা শাহ আহমদ শফী আলোচনায় আসেন। আর  ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের ঘটনা দিয়ে সংগঠনটি তার শক্তি প্রকাশের চেষ্টা করে। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা আর মোদীর ঢাকা সফরের বিরোধিতার মাধ্যমে তারা আবারও খবরের শিরোনামে।

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়