হেফাজতের নেতৃত্ব ধরে রাখতে বিলুপ্তির পরপরই আহ্বায়ক কমিটি | বিশ্ব | DW | 26.04.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ

হেফাজতের নেতৃত্ব ধরে রাখতে বিলুপ্তির পরপরই আহ্বায়ক কমিটি

হেফাজতকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে সংগঠনটির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে৷ আবার নেতৃত্ব অন্য গ্রুপের কাছে চলে যাওয়া ঠেকাতে সাবেক শীর্ষ নেতাদের নিয়েই আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে৷

হেফাজতের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন  এমন একজন  ডয়চে ভেলেকে বলেন, "বর্তমানে হেফাজতে যারা নেতৃত্বে আছেন তাদের মধ্যে শীর্ষ দুই নেতা জুনায়েদ বাবুনগরী ও নুরুল ইসলাম জিহাদী ছাড়া অধিকাংশই বিভিন্ন ইসলামিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত৷ ফলে যারা রাজনীতি করেন তাদের কার্যক্রমও রাজনৈতিক হওয়ায় স্বাভাবিক৷ এতে করে অরাজনৈতিক যারা তারা পদত্যাগ করতে শুরু করেন৷ এই পদত্যাগকারীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছিল৷ পাশাপাশি আহমেদ শফির ছেলে আনাস মাদানীরা এতদিন হেফাজতে খুব একটা সংগঠিত হতে পারছিল না৷ এখন পদত্যাগকারীরা যদি তাদের গ্রুপে যোগ দেন তাহলে বর্তমান নেতাদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে৷ পাশাপাশি আনাস মাদানীদের পক্ষে তো সরকারের কিছুটা সহমর্মিতা আছেই৷ এর মধ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যাদের গ্রেফতার করেছে তারা সবাই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত৷ ফলে বর্তমান নেতাদের কমিটি ভেঙে দেওয়া ছাড়া কোন পথ ছিল না৷ পাশাপাশি কওমি মাদরাসা পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান "আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি'আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ” থেকেও হেফাজত নেতাদের উপর চাপ দেওয়া হচ্ছিল৷ সবকিছু মিলিয়েই কমিটি ভেঙে দিতে হয়েছে৷ এখন তারা রাজনীতিক মুক্ত হেফাজতের কমিটি গঠন করতে চায়৷”

অডিও শুনুন 03:04

‘এখন থেকে মাদ্রাসা পরিচালনায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না হেফাজতে ইসলাম’

গত রোববার রাতে "আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি'আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ” এর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ সেখানেও হেফাজতের কার্যক্রমের কারণে বোর্ডের অনেক সদস্য পদত্যাগ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন৷ এই পরিস্থিতিতে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কওমি মাদরাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সব সিদ্ধান্ত নেবে নির্ধারিত বোর্ড "আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি'আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ”৷ মাদরাসা পরিচালনায় কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না হেফাজতে ইসলাম৷ এই বিষয়টি জানাতে সোমবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন বোর্ডের একটি প্রতিনিধি দল৷

"আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি'আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ” এর দফতর সম্পাদক অসিউর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, "বোর্ডের চাপের কারণে কি-না সেটা বলতে পারব না৷ তবে বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে এখন থেকে মাদরাসা পরিচালনায় কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করতে পারবে না হেফাজতে ইসলাম৷ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বোর্ড৷ আসলে আহমেদ শফির মৃত্যুর পর যারা হেফাজতে ঢুকেছেন তাদের অধিকাংশই তো কোন না কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত৷ ফলে তাদের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম রাজনৈতিক হওয়া স্বাভাবিক৷ যেহেতু হেফাজত একটি অরাজনৈতিক সংগঠন সেখানে রাজনীতি করার সুযোগ নেই৷ কওমি মাদ্রাসার কোন ছাত্র শিক্ষক রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন না৷ আমরা এই বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করতে সোমবার রাতে তার সঙ্গে বৈঠক করার উদ্যোগ নিয়েছি৷ বোর্ডের মিটিংয়ে হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির মহাসচিব ও বর্তমান আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী উপস্থিত ছিলেন৷ তিনি বোর্ডের সবাইকে কথা দিয়েছেন রাজনীতিমুক্তভাবে হেফাজতের কমিটি করা হবে৷”

অবশ্য কেন হেফাজতের কমিটি বিলুপ্ত করতে হলো সেই বিষয়টি পরিস্কার করে বলতে রাজি নন নুরুল ইসলাম জিহাদী৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে বলেন, "বাবুনগরী তো বলেছেন৷ সেটাই আমাদের কথা৷ এর চেয়ে বেশি পরিস্কার করা যাবে না৷ বর্তমান পরিস্থিতি কী তা আপনিও জানেন, আমিও জানি৷ এটা তো জটিল কিছু না, কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে, আহবায়ক কমিটি বানানো হয়েছে৷” বোর্ডের মিটিংয়ে কী আপনি হেফাজতকে রাজনীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন? জবাবে তিনি বলেন, "যারা এই অভিযোগ করছেন, তারা বলবেন৷ আমি তো কোন অভিযোগ উত্থাপন করিনি৷ ফলে এ ব্যাপারে আমি কোন ব্যাখা দেব না৷”

অডিও শুনুন 01:12

‘বাবুনগরী যা বলেছেন সেটাই আমাদের কথা’

হেফাজতের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ডয়চে ভেলেকে বলেন, "রোববার কমিটি বিলুপ্ত করার পর আহবায়ক কমিটি দু'একদিন পরে করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল৷ কিন্তু এর মধ্যে আহমেদ শফির ছেলের গ্রুপের কয়েকজন নেতা মিডিয়াকে বলেছেন, শিগগিরই তারা আহবায়ক কমিটি করবেন৷ ফলে তাদের কমিটি করার আগেই রাতের মধ্যেই আহবায়ক কমিটি করা হয়েছে৷ প্রথমে তিনজনকে রাখা হলেও পরে সেটা পাঁচ জন করা হয়েছে৷ এর মধ্যে আহবায়ক জুনায়েদ বাবুনগরী, প্রধান উপদেষ্টা তার মামা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী, সদস্য সচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী এবং দুই জন সদস্য সালাহউদ্দিন নানুপুরী ও অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানকে যে রাখা হয়েছে তাদের কেউ রাজনৈতিক কোন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন৷ এবার যে কমিটি করা হবে সেখানেও রাজনৈতিক দলের কাউকেই রাখা হবে না৷ মামুনুল হকের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কারণেই হেফাজতের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে পড়েছে৷”

হেফাজতের কমিটি বিলুপ্ত করাকে আওয়ামী লীগ কীভাবে দেখছে? জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম হানিফ ডয়চে ভেলেকে বলেন, "তাদের কমিটি বিলুপ্ত হলো কী, হলো না সেটা আমাদের কাছে মূখ্য না৷ এটি একটি সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী সংগঠন হিসেবে ইতিমধ্যে পরিচিতি পেয়েছে৷ ফলে এই সংগঠনের যেসব নেতা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহ অব্যহত থাকবে৷ এসব করে তারা পার পাবে না৷”   

নির্বাচিত প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট বিষয়