‘হেট স্পিচের বিরুদ্ধে যথেষ্ট আইন নেই’ | আলাপ | DW | 27.03.2018
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সাক্ষাৎকার

‘হেট স্পিচের বিরুদ্ধে যথেষ্ট আইন নেই’

বাংলাদেশে হেট স্পিচের বিরুদ্ধে যথেষ্ট আইন নেই৷ যেটুকু আছে  বেশিভাগ সময়ই তার অপপ্রয়োগ হয়৷ যাঁরা ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ, তাঁরা এই আইনের সুবিধা নিতে পারেন না৷ এমনটিই মনে করেন ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের৷

ডয়চে ভেলে: হেট স্পিচ বলতে আমরা কী বুঝবো, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের কোন বিষয়গুলোকে আমরা এর অন্তর্ভুক্ত করতে পারি?

ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ: হেট স্পিচের আসলে কোনো ইউনিভার্সাল ডেফিনেশন এখনো আমরা পাইনি৷ রাষ্ট্রভিত্তিক আইন রয়েছে৷ কেউ যদি ঘৃণা উদ্রেককারী কোনো বক্তব্য কোনো একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে, কোনো একটি মানসিকতার বিরুদ্ধে, কোনো একটি চিন্তাধারার বিরুদ্ধে উচ্চারণ করে, সেটাকে আমরা হেট স্পিচ বলে ধরে নিই৷ কিন্তু এটার সার্বজনীন সংজ্ঞা এখনো আসেনি৷ আইনের দিক থেকে বলতে গেলে আমাদের যে পেনাল কোড আছে, সেখানে খুব লিমিটেড একটা জায়গা রয়েছে এ বিষয়ে৷ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে ঘৃণা উদ্রেককারী কোনো কথা যদি কেউ বলে, সেটা হয়ত আমরা হেট স্পিচের অংশ হিসেবে ধরতে পারি৷ কিন্তু হেট স্পিচের যে ব্যাপকতা, সেটা অনেক বেশি৷

সেই ব্যাপকতা যদি একটু ব্যাখ্যা করতেন....বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যে ধরনের কমেন্ট বা পোস্ট ব্যবহার করা হয়, তার বিভিন্ন দিক যদি একটু উল্লেখ করেন...

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আমাদের বক্তব্যগুলো যে শুধু ঘৃণা উদ্রেককারী, তা কিন্তু নয়৷ আমরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অ্যাডভান্স হয়েছি, ডিজিটাল বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছি, কিন্তু আমাদের আইনগুলো এখনো সেকেলে রয়ে গেছে৷ এই আইনগুলোর কারণে আমাদের এভিডেন্স অ্যাক্টের কারণে যখন কোনো একটা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তখন আইনের যথেষ্ট প্রয়োগ হতে দেখছি না৷ এমনকি অনেকক্ষেত্রে আইনের অভাবও দেখতে পাচ্ছি৷

আর আরেকটি ব্যাপার হলো, শুধুমাত্র যে ঘৃণা উদ্রেককারী কথাই হচ্ছে তা নয়, নানারকম অশোভন ভাষায় কথা বলা, বাজে মন্তব্য করা, গালিগালাজ করা – অর্থাৎ, হেট স্পিচ বিষয়টা অনেক ব্যাপক৷ অন্যদিকে আমাদের বক্তব্যেও কোনো লাগাম নেই বলতে গেলে৷ এবং এই পুরো ব্যাপারটি কিন্তু আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না৷ কিছু জিনিস আনা যাচ্ছে৷ কিন্তু সেটার জন্য এত কাঠ-খড় পোড়াতে হচ্ছে যে যাঁরা ভুক্তভোগী তাঁরা সে পর্যন্ত যেতে পারছেন না৷ সুতরাং আমার মনে হয়, আইনের অনেক ব্যাপক পরিবর্তন দরকার এটাকে আপডেট করার জন্য৷

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুর পর আমরা দেখেছি যে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে কেউ কেউ বিকৃত মন্তব্য করেছেন, অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করেছেন৷ এগুলো আপনি কীভাবে দেখেছেন?

এগুলো শুধু হেট স্পিচ হবে কেন, এগুলো মানহানিকর বক্তব্য৷ আমি যদি কারুর সুনাম নষ্ট করি, সেটা কিন্তু সুনামহানি ও মানহানিকর৷ আমাদের সংবিধানে যে আর্টিকেল ৩৯ রয়েছে, সেখানে মত বা ভাব প্রকাশের স্বাধীনতাকে আমরা মৌলিক অধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছি৷ তবে সংবিধানে ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা যে একটা মৌলিক অধিকার, সেটি কিন্তু শর্ত সাপেক্ষে৷ সেই শর্তগুলোই মানা হচ্ছে না৷ সেখানে স্পষ্ট করে লেখাই আছে বিষয়গুলো৷ যেমন আদালত অবমাননা করা যাবে না, অন্যের সুনাম হানি করা যাবে না ইত্যাদি৷ সুতরাং আজকে এটা খুবই দুঃখজনক যে, আমাদের হাতে সোশ্যাল মিডিয়া আছে বলেই যে যা খুশি তাই করছি৷ আমি অনেক সময় বলি, যদি একটি ছোট বাচ্চার হাতে একটি ছুরি তুলে দেয়া হয়, সে কিন্তু জানে না সেটা কীভাবে ব্যবহার করতে হবে৷ সে হয়ত সেটাকে খেলনা ভাববে৷ আমারা সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রে এমনটাই তো দেখি৷ অথচ সোশ্যাল রেসপননিবিলিটির জায়গা থেকে কেউ কোনো চিন্তা করছি না৷ ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী সম্পর্কে বা অন্য কারুর সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য যখন করা হয়, তখন কেউ কিন্তু চিন্তা করে না তাঁর বন্ধু, তাঁর পরিবার, তাঁর সমাজ এতে কতখানি আহত হয়েছে, হচ্ছে৷

অডিও শুনুন 08:39
এখন লাইভ
08:39 মিনিট

‘আইনের অনেক ব্যাপক পরিবর্তন দরকার’

এখন আমি যদি ফান্ডামেন্টাল রাইট নিয়ে একটি রিট করি, তবে আমাকে প্রমাণ করতে হবে যে, আমি কীভাবে এই হেট স্পিচের ভুক্তভোগী৷ এখানে কিন্তু লিগ্যাল বেরিয়ার অনেক বেশি৷ সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনের অভ্যন্তরে এত বেশিভাবে ঢুকে গেছে যে, এবার এই আইনগুলো যুগোপযোগী করা দরকার৷

প্রচলিত আইনে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কতটুকু সুযোগ আছে? শাস্তির বিধানই বা কী আছে?

আমাদের দেশে ঠিকমতো হেট স্পিচের ডেফিনেশেনটাই ঠিক করা হয়নি৷ কোনটা হেট স্পিচ, কোনটা হেট স্পিচ নয়, এ সম্পর্কে আমদের স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই৷ পেনাল কোডের সেকশন ২৯৮-এ আছে ফিলিংকে (অনুভূতি) যদি কোনোভাবে আঘাত করা হয়, তবে তার জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে৷ ২০০৬ সালের আইসিটি অ্যাক্টে বা ৫৭ ধারায় আমরা একটা নিয়ম বের করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সেটার অপব্যবহার হয়েছে অনেক জায়গায়৷ সেজন্য আমরা চিন্তা করছি সেটা সরিয়ে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন ২০১৭ করা এবং তার নতুন সেকশন করা৷ ৫৭ ধারায় প্রথমে ছিল ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১কোটি টাকা জরিমানা৷ পরে সেটা সংশোধন করে ১৪ বছর করা হয়েছে৷ এখন যে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন হচ্ছে, সেটা নিয়ে নানা কথা, নানা সমালোচনা হচ্ছে৷ কিন্তু এর কোনো আইনই পার্ট-বাই-পার্ট হেট স্পিচকে প্রভাবিত বা কাভার করার চেষ্টা করেনি৷ অর্থাৎ, আমি যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অযথা কথা বলা শুরু করব, সুনাম ক্ষুণ্ণ করব, আঘাত করার চেষ্টা করব, তা যদি মানসিক আঘাতও হয়, সেগুলোকে আমরা পুরোপুরি আইনের আওতায় আনতে পারিনি৷ বাংলাদেশের এর প্রতিকারের আইন যথেষ্ট নয়৷

এই হেট স্পিচ আমাদের সমাজে কতটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে? কেউ কেউ তো আদর্শিকভাবেও হেট স্পিট তৈরি করে৷ আপনি কীভাবে বিষয়গুলো দেখছেন?

প্রথমত, যার বিরুদ্ধে, যাদের বিরুদ্ধে বা যে চিন্তাধারা বা মতাদর্শের বিরুদ্ধে লেখা হচ্ছে, তারা কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷ তারা ভুক্তভোগী হচ্ছেন মানসিকভাবেও৷ দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়ায় যেটা হয়, কারুর পারসেপশন সহজেই চেঞ্জ করা হয়৷ এর ফলে হেট স্পিচের বুস্টিং করা হচ্ছে৷ একটা গ্রুপ এ ধরনের তথ্য ডিজিটালি শেয়ার করছে, বুস্ট করছে৷ এর মাধ্যমে অযথাই একটা পারসেপশন তৈরি করে ফেলা হচ্ছে৷ আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই পারসেপশনকে কাউন্টার করতে পারে এমন তথ্য পাওয়া মুশকিল হয়ে যায়৷

সাংবাদিকতায় যাঁরা বড় বড় মিডিয়া হাউজে কাজ করছেন, তাঁদের কেউ কেউ একতরফা একটা বিষয়কে তাঁদের ইচ্ছা অনুযায়ী রিপোর্টিং আইটেম করে তুলছেন৷ কিন্তু তাঁরা ভাবছেন না যে, বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে এর সম্পর্ক কতটুকু? তাই এক ব্যক্তি, একটি সমাজ বা গোষ্ঠীই শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও কিন্তু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে৷

আমরা যেমন বলি দশ চক্রে ভগবানও ভুত হয়ে যায়, তেমনি যখন একটি মিথ্যা এভাবে চারপাশে চলতে থাকে, তখন অনেক মানুষ, যাদের বিষয়টি সম্পর্কে কোনো ধারণা নাই, তারাও এটা বিশ্বাস করতে শুরু করে৷ তারাও কথায় কথায়  বিষয়টা ছড়িয়ে দেয়৷ তাই শুরুতেই যদি আমরা এটাকে কার্টেল করতে না পারি তাহলে পরবর্তিতে কিন্তু এটা রোধ করার কোনো উপায় থাকবে না৷

আপনার কিছু বলার থাকলে লিখুন নীচে মন্তব্যের ঘরে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

এই বিষয়ে অডিও এবং ভিডিও

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বিজ্ঞাপন