1. কন্টেন্টে যান
  2. মূল মেন্যুতে যান
  3. আরো ডয়চে ভেলে সাইটে যান
Bangladesch Hero Alom Interview Polizei Aktion
ছবি: Munir Uz Zaman/AFP

হিরো আলমের বিচার করে কে?

হারুন উর রশীদ স্বপন
৫ আগস্ট ২০২২

হিরো আলমের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় ২০১৬ সালের জুনে কোনো এক সন্ধ্যায়৷ আমিই তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম৷ তার গান শুনতে বা কোনো অভিনয় দেখতে নয়৷ শুধু তাকেই আমি সরাসরি দেখতে চেয়েছিলাম৷ তার সঙ্গে কথা বলার প্রবল ইচ্ছা ছিলো তাই৷

https://www.dw.com/bn/%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%8B-%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%87/a-62725488

তখন তার উত্থান পর্ব চলছে৷ সারাদেশে হিরো আলমকে নিয়ে আলোচনা৷ নানা সমালোচনা৷ কিন্তু আমার চোখে ধরা পড়েছে তার অদম্য ইচ্ছা এবং অমিত সাহস৷ কীভাবে গ্রামের এক তরুণ পোশাকি সমাজকে চ্যালেঞ্জ করে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নিজস্ব ভঙ্গিতে৷ কোনো সমালোচনা তাকে দমাতে পারছে না

তাকে নিয়ে আমি এরপর লাইভ শো করেছি৷ ওই সময়ে একটি কলামও লিখেছি৷ "একজন হিরো আলম” শিরোনামের ওই কলামের শেষ কথা ছিলো,"যারা আলমকে নিয়ে মজা করছেন, হাসছেন, নিজেদের হিরো ভাবছেন তাদের উদ্দেশে আরেকটি কথা বলতে চাই৷ ধরে নিলাম হিরো আলম কাক৷ মনে রাখবেন আপনি কিন্তু ময়ূর নন৷”

এরপর তার সাথে টেলিফোনে দুই-একবার কথা হয়েছে পেশাগত কারণে৷ আর তাকে নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে সব সময়ই নানা আলোচনা সমালোচনা দেখেছি৷ তবে সর্বশেষ তাকে ডিবি অফিসে নিয়ে মুচলেকা আদায়ের ঘটনাটি শুনে প্রথমে বিস্মিত এবং পরে ক্ষুব্ধ হয়েছি৷ একটি মাত্র বাক্যে আমি আমার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে৷ আর তা হলো,"সবাই বিচারক হলে তো সমস্যা, যার কাজ তার করা উচিত৷''

হিরো আলমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো পুলিশ তুলেছে তার মধ্যে প্রধান হলো "বিকৃত সুরে রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া''৷ এই অভিযোগ আরো অনেকেই তুলেছেন৷ অভিযোগ করার অধিকার তো সবার আছে৷ কিন্তু বিচার করার অধিকার কার, পুলিশের? পুলিশ কি বিচারক? পুলিশও অভিযোগ করতে পারত আদালতে অথবা অন্য কোনো বিচারালয়ে৷ তারাই বিষয়টি দেখতে পারতেন৷ কিন্তু পুলিশ নিজেই নিজেকে রবীন্দ্রসংগীত বোদ্ধা হিসেবে জাহির করে নিজেই বিচারক সেজে গেল৷ এখানেই শেষ নয় তার নামের আগে হিরো শব্দটিও মুছে ফেলতে বলেছে৷ নিজের চেহারা নিজেকে দেখতে বলেছে৷  আপাতত নিরীহ মনে হলেও শেষের কথাগুলো প্রকারন্তরে এক ধরনের বর্ণবাদ৷

আমাদের সাংবাদিক বন্ধুরা এখন সেটা কিছুটা উপলব্ধি করতে পারলেও মুচলেকার শুরুতে নানা ধরনের আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করে খবর পরিবেশন করেছেন৷ মুখরোচক হেডিং করেছেন৷  তবে এখন তারাও মনে করছেন হিরো আলমের প্রতি অন্যায় করা হয়েছে৷ তাই তারা সরব হয়েছেন৷

আমার বিবেচনায় হিরো আলমকে তার মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে৷ তার প্রতি পুলিশি রাষ্ট্রের আচরণ করা হয়েছে৷ এর দায় তো পুলিশকেই নিতে হবে৷

হিরো আলমের প্রতি যেসব অন্যায় করা হয়েছে তা আমার বিবেচনায়-

১. বিচারকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত নয় এমন প্রতিষ্ঠান তার বিচার করেছে৷ এটা আসলে অবিচার৷

২. আদালতে অপরাধ প্রমাণের আগেই তাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে৷ এটা আইনবিরুদ্ধ কাজ৷

৩. তার প্রতি সবলের অত্যাচার হয়েছে৷

৪. তার প্রতি বর্ণবাদী আচরণ করা হয়েছে৷

৫. তার ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে৷

হারুন উর রশদি স্বপন, ডয়চে ভেলে
হারুন উর রশদি স্বপন, ডয়চে ভেলেছবি: Harun Ur Rashid/DW

রবীন্দ্রসংগীত কীভাবে গাইতে হবে তা নিয়ে কথা তো হতেই পারে৷ সেটা নিয়ে সংগীত বিশেষজ্ঞরা মতামত দেরেন৷ কী করণীয় তাও তারা বলতে পারেন৷ আর সেটা বাস্তবায়নের পদ্ধতি কী হবে তারা তাও বলে দিতে পারেন৷ আমরা সেটা অনুসরণ করব নিশ্চয়ই৷ কিন্তু ডিবি পুলিশ হঠাৎ করে হিরো আলমের গানকে তো "গণ-উৎপাত” বলে দিলে হবে না৷ দেখা গেলো পুলিশ নিজেই এখন আইন লঙ্ঘন করেছে৷ এটাও তো একটা উৎপাত৷ এর বিচার করবে কে?

কারো  নামের আগে হিরো লাগাতেও কি পুলিশের অনুমতি লাগবে? তাই যদি লাগে তাহলে ভবিষ্যতে দেখা যাবে শিশু সন্তানের নাম রাখার আগেও পুলিশের অনুমতি লাগবে৷ নিজের চেহারা দেখার প্রশ্ন যদি ওঠে তাহলে ডিবির যে কর্মকর্তা এই কাজ করেছেন তার চেহারা নিয়েও তো প্রশ্ন উঠতে পারে৷ আর এই চেহারার তো নানা দিক আছে৷ আর যাই হোক হিরো আলমের বিরুদ্ধে তো ঘুস, দুর্নীতি বা অর্থ পাচারের অভিযোগ নেই৷ যাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আছে তাদের চেহারা কি তারা দেখতে পান?

রাষ্ট্রে তো অনেক বিকৃতি আছে৷ গণতন্ত্রে বিকৃতি আছে৷ নির্বাচনে বিকৃতি আছে৷ বিকৃতি আছে নানা সামাজিক ব্যবস্থায়৷  যদি বলি গানে বিকৃতি, তা তো আরো অনেক মহারথীও করছেন৷ তাহলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা হাত-পা গুটিয়ে বসে আছেন কেন? বিচারে নেমে পড়ুন৷ নামছেন না কেন? ওই মহারথীদের ধরুন৷

আমি জানি ওই সব জায়গায় হাত দেয়ার ক্ষমতা বা দৌড় কোনোটাই তার নেই৷ উল্টো তিনি তাদের তোষণ করবেন৷ হিরো আলমের কিরুদ্ধে তার এই অনধিকার নাক গলানো  ক্ষমতাবানদের তোষণেরই একটি অংশ৷ আর দেশের অনেককে নিয়েই তো বিতর্ক-সমালোচনা আছে৷ তাহলে তাদের কাছ থেকেও মুচলেকা আদায় করা হোক৷ তাদের গণ-উৎপাতও বন্ধ করা হোক৷ পারবেন কি আপনি, জনাব পুলিশ কর্মকর্তা?

হিরো আলম দুর্বল, তার আর্থিক ক্ষমতা নেই৷ সে তেমন লেখাপড়া করে নাই৷ ছোট এক ডিশ ব্যবসায়ী থেকে দেশের মানুষ বেভাবেই হোক তাকে চেনে৷ তার যেমন অনেক সমালোচক আছেন, ভক্তও  আছে৷  এটাই তার আসল অপরাধ৷ এখানেই আমাদের শ্রেণি মানসিকতার বর্ণবাদ৷ পুলিশ কর্মকর্তা আসলে তার সেই চরিত্রেরই প্রকাশ ঘটিয়েছেন হিরো আলমকে আটক করে মুচলেকা নিয়ে৷

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

ডয়চে ভেলের শীর্ষ সংবাদ

07.2016 Breaking News English

থাইল্যান্ডে ডে কেয়ার সেন্টারে গুলি, নিহত অন্তত ৩০

স্কিপ নেক্সট সেকশন ডয়চে ভেলে থেকে আরো সংবাদ
প্রথম পাতায় যান