হিমালয়ে সমকামীদের মধুচন্দ্রিমা, নেপালে বদলে যাচ্ছে সংবিধান | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 16.03.2010
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages

সমাজ সংস্কৃতি

হিমালয়ে সমকামীদের মধুচন্দ্রিমা, নেপালে বদলে যাচ্ছে সংবিধান

মাত্র পাঁচ বছর আগের ঘটনা৷ নেপালের পুলিশের লাঠির আঘাতে আহত হয়েছিল এক সমকামী দম্পত্তি৷ এখন আর সেই অবস্থা নেই৷ আজ সেই হিমালয় কন্যা নেপাল সমকামীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে৷

default

এক সমকামী দম্পত্তি

হিমালয়ের বেস ক্যাম্পে আয়োজন করা হচ্ছে বিশ্বের সমকামীদের সবচেয়ে বড় মধুচন্দ্রিমা অনুষ্ঠানের৷ সংবিধান বদলে দিতে করা হচ্ছে নতুন আইন৷

সমকামীদের অধিকারের জোর দাবী জানিয়ে সভা সমাবেশ আর বক্তব্য বিবৃতি দিচ্ছেন নেপালের একমাত্র স্বঘোষিত সমকামী সংসদ সদস্য সুনিল পান্থ৷ তিনি বলছেন, নেপালে যাতে সমকামীরা পূর্ণ আনন্দ নিয়ে মধুচন্দ্রিমা পালন করতে পারে সে জন্য নতুন পর্যটক আইনটি দ্রুত করা উচিত৷ এমনকি যেসব সমকামী নিজ দেশে আইনি জটিলতার কারণে বিয়ে করতে পারছেনা, তাদের জন্যও একটি সুব্যাবস্থা করা উচিত৷ এতে নেপালের পর্যটক সংখ্যা আরও বাড়বে এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে৷

নেপালের সংসদ এ ধরণের একটি আইন করার বিষয়ে এখন চূড়ান্ত কাজ করছে বলেই বার্তা সংস্থাগুলোর খবর৷ অবশ্য এই আইন করার বিষয়টিকে এককাঠি এগিয়ে দিয়েছে নেপালের উচ্চ আদালত৷

Himalaya-Massiv mit Mount Everest

হিমালয় পর্বতমালা

উচ্চ আদালত সম্প্রতি সরকারকে সমকামীদের জন্য আইন তৈরির নির্দেশ দিয়েছে৷ তবে এর জন্য ২০১০ সালের মে মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে৷ সংসদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন স্থানীয় সমকামীরাও৷ এদের একজন বিঞ্চু অধিকারী৷ তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে৷ একই সঙ্গে এখন নেপালের মানুষ এই বিষয়কে আস্তে আস্তে মেনে নিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন৷

ইতিমধ্যে বেশ কয়েক সমকামী দম্পত্তি নেপালে এসে বিয়ে করার অপেক্ষায় রয়েছেন৷ তারা চাইছেন আইনটি হয়ে গেলেই নেপালে বিয়ে আর হিমালয়ে মধুচন্দ্রিমা৷

আর এই কাজের জন্য সমকামী পর্যটকদের গড়ে ওঠা ট্রাভেল এজেন্ট 'পিংক মাউন্টেন ট্রাভলস এন্ড টুরস' কাজ করে যাচ্ছে৷ তারা ইতিমধ্যেই এ জন্য একটি প্যাকেজ ছেড়েছে৷ এই প্যাকেজে বেশ সাড়াও নাকি পাওয়া যাচ্ছে৷ এই তো গত ফেব্রুয়ারী মাসে 'পিংক মাউন্টেন' কাটমান্ডুতে এশিয়ার প্রথম সমকামী সেমিনারের আয়োজন করেছিল৷ ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশের সমকামীরা এতে যোগও দিয়েছিলেন৷

হিমালয়ের বেস ক্যাম্পে পরিকল্পিত বিশ্বের সমকামীদের সবচেয়ে বড় মধুচন্দ্রিমা নেপালের দারিদ্র বিমোচনে বড় ধরণের সহায়তা করবে বলেই দাবি করছেন অনেকে৷

প্রতি বছর পর্যটন খাত থেকে নেপালের আয় হয় প্রায় সাড়ে তিনশ মিলিয়ন ডলার৷ সরকারের পর্যটন বিভাগের আশা আগামী বছর এই অঙ্ক দ্বিগুণ হয়ে যাবে৷ আর দ্বিগুণটা হবে কেবল সমকামীদের জন্য৷ নেপাল টুরিজম বোর্ডের মুখপাত্র আদিত্য বারেলের এমনটাই আশা৷ তিনি বললেন, সমকামী পর্যটকরা নিরাপত্তার সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে, খরচ করতে চায়, কিন্তু এমন জায়গার সংখ্যা খুব কম৷

প্রতিবেদক: সাগর সরওয়ার

সম্পাদনা: অরুণ শঙ্কর চৌধুরী