হিমবাহের গতিপ্রকৃতির পূর্বাভাস দিতে অভিনব উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 07.09.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

হিমবাহের গতিপ্রকৃতির পূর্বাভাস দিতে অভিনব উদ্যোগ

জলবায়ু পরিবর্তনের অনেক প্রভাব মানুষ এখনই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে৷ কিন্তু লোকচক্ষুর অন্তরালে হিমবাহের গতিপ্রকৃতির উপরও সমুদ্রের পানির উচ্চতা নির্ভর করছে৷ তাই বিজ্ঞানীরা বরফের সেই জগত আরো ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করছেন৷

সুইজারল্যান্ডের আলপ্স পর্বতের উপর রোন হিমবাহের উপর গবেষকরা অসাধারণ ঘটনার অনুসন্ধান করছেন৷ হিমবাহ কীভাবে এগিয়ে চলে এবং ধীরে হলেও নীচের উপত্যকায় গড়িয়ে পড়ে, আরো ভালোভাবে তা জানতে চান তারা৷ গ্লেসিয়ারের এই চলনশীলতা গোটা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ৷ গবেষক দলের অন্যতম সদস্য ফাবিয়ান ভাল্টার বলেন, ‘‘রোন-সহ বিশ্বের সব হিমবাহই নীচের দিকে এগিয়ে চলেছে বলে গোটা বিশ্বের জন্য এটা প্রাসঙ্গিক৷ সবচেয়ে বড় বরফের চাদরের উপর একাধিক বিশাল হিমবাহ রয়েছে, যেখানে ‘স্লাইডিং' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া৷''

হিমবাহের ‘স্লাইডিং' প্রক্রিয়ার গতিপ্রকৃতি দেখে জানা যায়, যে সেটি সামনের দিকে এগোচ্ছে, পেছনে টান পড়ছে না স্থিতিশীল রয়েছে৷ গ্লেসিয়ার মুভমেন্ট না বুঝলে আমরা ভবিষ্যতের পূর্বাভাষ দিতে পারবো না৷ বলতে পারবো না, সেটির আচরণ কেমন হবে, সমুদ্রে পানির উচ্চতা বাড়ার ক্ষেত্রে সেটির ভূমিকা কী হবে৷''

মাধ্যাকর্ষণ শক্তি গ্লেসিয়ারের বেস বা বেদিকে উপত্যকার দিকে টানে৷ ব্যাপারটা অনেকটা মধুর স্রোতের মতো৷ বরফ উপত্যকার মাটির উপর দিয়ে যাবার সময়ে পাথরের মতো বাধার সম্মুখীন হতে পারে৷ স্ট্রেস বা চাপ খুব বেড়ে গেলে বরফের স্তর কখনো ভূমিকম্পের মতো আচমকা নড়ে ওঠে৷

ভিডিও দেখুন 04:21

হিমবাহের গতিপ্রকৃতি বুঝতে বিশেষ উদ্যোগ

এমন ‘আইসকোয়েক' বা ‘বরফকম্প' উপরিভাগে ঘটলে অতি সংবেদনশীল ফাইবার অপটিক কেবেল দিয়ে পরিমাপ করা সম্ভব৷ হিমবাহের গতিবিধি টের পেতে সেটি গুরুত্বপূর্ণ এক সূচক৷

হিমবাহ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ফাবিয়ান ভাল্টার বরফের মধ্যে এমনই এক কেবল পেতেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘এই কেবেলের মাধ্যমে আমরা কয়েকশো মিটার গভীরে উঁকি দিতে পারি৷ হিমবাহের গভীর অংশ থেকে কম্পন এলে আমরা সেটি পরিমাপ করতে পারি৷''

হিমবাহের গতিবিধি বুঝতে বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে আইসকোয়েক পরিমাপ করা অত্যন্ত জরুরি৷ কম্পিউটারের বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্লেসিায়ারের ভেতরে টানাপড়েন টের পাওয়া যায়৷ ফাবিয়ান ভাল্টার সেই প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘কেবলের মাধ্যমে আমরা যে কম্পন রেকর্ড করছি তার ভিত্তিতে এই ‘রিয়েল লাইফ ডেটা' পাওয়া যাচ্ছে৷ গ্লেসিয়ার বেড বা বেদির ব্যাপারে আমাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি৷ সেটাই হিমবাহের ডাইনামিক্সের কেন্দ্র৷ কোনো হিমবাহ বিশাল পরিমাণ বরফগলা পানি সৃষ্টি করলে সেই পানি জমে বেদি খুব দুর্বল হয়ে ওঠে এবং হিমবাহ পিছলোতে শুরু করে৷ বিশ্বের যে সব হিমবাহের বেদি জমাট নয়, সেখানে এমন ‘স্লাইডিং' প্রক্রিয়া দেখা যায়৷ সেটাই ‘গ্লেসিয়ার ডাইনামিক্স'-এর উৎস৷''

হিমবাহের গতিশীলতা ভেতরের পানির উপরেও নির্ভর করে৷ পোর্টেবল রাডার যন্ত্রের মাধ্যমে গবেষকরা সেই পানি শনাক্ত করেছেন৷ অর্থাৎ ডাইনামিক্সের উপর গলা পানিরও প্রভাব রয়েছে৷ হিমবাহের উপর চিড় বা গর্তের মাধ্যমে পানি ভিতরে প্রবেশ করে৷ তারপর গ্লেসিয়ার বেডে পৌঁছে একেবারে চূড়ান্ত প্রান্তে চলে যায়, যা ‘স্নাউট' নামে পরিচিত৷ পানি সেখানে লুব্রিকেন্ট হিসেবে ঘর্ষণ কমায় বলে হিমবাহ আরো দ্রুত গতিতে পিছলে যায়৷

রোন নদীর উৎসের মতো আল্পস পর্বতের গ্লেসিয়ারগুলি বছরে সর্বোচ্চ ২০০ মিটার পিছলে যায়৷ অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ডের বিশাল বরফের চাদর বছরে ৭,০০০ মিটার পর্যন্ত এগিয়ে যেতে পারে, যার গতি আল্পসের তুলনায় ৩৫ গুণ দ্রুত৷ কিন্তু সেগুলি বয়ে চলার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া সব ক্ষেত্রেই এক৷ ফলে আল্পস পর্বতে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেটি কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা গ্রিনল্যান্ডের হিমবাহের গতিপ্রকৃতিও আরো ভালোভাবে বুঝতে পারবেন৷

পেটার হ্যোলরিগেল/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

সংশ্লিষ্ট বিষয়