হিন্দু-মুসলিম দম্পতিদের অসহায়ত্ব | সমাজ সংস্কৃতি | DW | 23.01.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

ভারত

হিন্দু-মুসলিম দম্পতিদের অসহায়ত্ব

লাভ জিহাদের ছায়া ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে ভারতে৷ সংস্কৃতিমনস্ক, প্রগতিশীলদের অঞ্চল হিসাবে পরিচিত বাংলাতেও তার নমুনা মিলছে৷ এমন নজির অবশ্য একরযুগ আগেও ছিল

উত্তরপ্রদেশ বা মধ্যপ্রদেশে ভিন্ন ধর্মে বিবাহিত যুগলদের মাঝেমধ্যেই লাভ জিহাদের দায়ে পুলিশি জুলুমের মুখে পড়তে হয়৷ একাধিক গ্রেপ্তারি ইতিমধ্যেই হয়েছে৷ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে এখানেও সেই আইন কার্যকর করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নরোত্তম মিশ্র৷ তবে তার আগেই পশ্চিমবঙ্গে দেখা যাচ্ছে তার ইঙ্গিত৷

দক্ষিণবঙ্গের হুগলি জেলার শহরতলির একটি লজে ঘরভাড়া নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন চিত্রশিল্পী তৌসিফ হক ও তার স্ত্রী জয়ন্তী বিশ্বাস৷ সোশ্যাল মিডিয়ার জন্যই বিষয়টি সকলের নজরে আসে৷ 

অডিও শুনুন 02:43

সুশিক্ষিত নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে: শুভজিৎ রায়

কী ঘটেছিল?

স্বামী-স্ত্রীর পদবী আলাদা৷ তার জেরেই হুগলির সদর শহর চুঁচুঁড়ায় একটি লজে অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে জায়গা পাননি বর্ধমানের বাসিন্দা তৌসিফ৷ তিনি ফেসবুকে দাবি করেছেন, ‘‘আমাদের কাছে ভোটার, আধার, প্যান কার্ড সবই ছিল৷ তা-ও ঘর দেওয়া হয়নি৷’’ সঠিক পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও কেন তৌসিফ ঘর পেলেন না? লজ পরিচালকদের দাবি, ওই দম্পতি নথি দেখাতে চাননি৷ তৌসিফ ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘‘পিকনিকে বিয়ের সার্টিফিকেট কে নিয়ে যায়? শুধু পিকনিকে কেন, যেখানেই যাই মানিব্যাগে এক কপি জেরক্স ও ফোনের হোয়াটসঅ্যাপে রেখে দিই৷ কারণ, এর আগেও অনেক জায়গায় সার্টিফিকেট দেখতে চেয়েছে৷ কারণটা শুধু ভিন্ন ধর্ম নয়, দুটি প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়েকে অনেক জায়গাতেই রুম দেওয়া হয় না৷’’

বিষয়টি নিয়ে তৌসিফ প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে চাননি৷ শিল্পীর বক্তব্য, তারা আইনত স্বামী-স্ত্রী৷ স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে তাদের বিয়ে হয়েছে৷ সেই সার্টিফিকেট দেখানোর পরেও ঘর দেওয়া হয়নি৷

কী বলছেন অন্যরা?

ঘর ভাড়া নেওয়ার জন্য নথি দেখানোর রেওয়াজ তৈরির বিষয়ে আইনজীবী অঙ্কন বিশ্বাস বলেন, ‘‘এটা অত্যাবশ্যকীয় নয় যে কোথাও বিবাহিতরা থাকলেই তাদের বিয়ের নথি দেখাতে হবে৷ আপনি প্রাপ্তবয়স্ক হলে কোথায় কাকে নিয়ে গেলেন, সেটা নিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ নাক গলাতে পারেন না৷ কিন্তু সাধারণভাবে তারা নাক গলান পুলিশি ভয়ে৷’’

অডিও শুনুন 02:21

প্রাপ্তবয়স্ক যুগলকে একসঙ্গে থাকতে কেউ বাধা দিতে পারে না: সুহৃতা সাহা

সমাজতত্ত্বের অধ্যাপিকা সুহৃতা সাহা এই প্রসঙ্গে ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘দেশে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট আছে৷ দেশে আইন যখন আছে, বাকি জিনিসগুলি অমূলক৷’’ ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আমাদেরও এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে৷ স্বামীর পদবি ব্যবহার না করার দরুণ আমার আলাদা পদবী ছিল৷ তাই ম্যারেজ সার্টিফিকেট ছাড়া ঢুকতে দেবে না বলা হয়েছিল৷ এসব খুবই নিন্দনীয়৷ প্রাপ্তবয়স্ক যুগলকে একসঙ্গে থাকতে কেউ বাধা দিতে পারে না৷’’ এটা শুধু ধর্মান্তরকরণ-বিরোধী লাভ জিহাদের বিষয় না-ও হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি৷

দুবরাজপুর মহকুমা হাসপাতালের ডাক্তার শুভজিৎ রায় ও তাঁর স্ত্রী নাজমা খাতুনের ১০ বছর আগেই হয়েছিল তিক্ত অভিজ্ঞতা৷ কলকাতার নিকটবর্তী শহরতলিতে ২০০৮ সালেও এই দম্পতি বসবাসের জন্য কোনো ঘরভাড়া পাননি৷ বাড়ির মালিকরা হিন্দু স্বামীর মুসলিম স্ত্রী পরিচয় দেখেই বাড়িভাড়া দিতে আপত্তি করেন৷  ডয়চে ভেলেকে সে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে নাজমা বলেন, ‘‘ডাক্তার রায় একা গিয়ে বাড়ি ভাড়া ঠিক করে আসতেন৷ কিন্তু পরে আমি গেলেই আমার নাম শুনে, শাঁখাসিঁদুর না দেখতে পেয়ে বাড়িভাড়া দেওয়া হতো না৷ প্রকাশ্যে তারা বাড়িভাড়া না দেওয়ার কারণ দেখাতেন না৷ বেশ কয়েকবার এই অভিজ্ঞতার মুখে আমরা পড়েছি৷’’ তৌসিফ ও জয়ন্তীর ঘটনা শুনে এই দম্পতি সেই অতীতকেই রোমন্থন করছেন যেন৷ শুভজিৎ বলেন, ‘‘ব্যাপারটা খুবই ভয়ের৷ সুশিক্ষিত নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে সমাজের এই বিষময় প্রভাব কাটাতে৷ সঙ্গী নির্বাচনের স্বাধীনতাটুকু প্রাপ্তবয়স্কদের মৌলিক অধিকার নয় কি?’’ এই ঘটনার প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা যেমন বিরক্তি দেখিয়েছে, তেমনি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন চুঁচুড়ার ওই লজের সামনে বিক্ষোভও জানিয়েছে৷

নির্বাচিত প্রতিবেদন

বিজ্ঞাপন