হার্ট অ্যাটাকের বিপদ থেকে নারীদের সুরক্ষার উদ্যোগ | অন্বেষণ | DW | 29.03.2021
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

হার্ট অ্যাটাকের বিপদ থেকে নারীদের সুরক্ষার উদ্যোগ

হার্ট অ্যাটাক বা হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত সমস্যা পুরুষদেরই বেশি হয় বলে একটা ধারণা চালু আছে৷ কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে এমন রোগ আরো মারাত্মক আকার ধারণ করে৷ এ ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে৷

Symbolbild Erkältung Arzneimittel

প্রতীকী ছবি

গত বছর মার্টা শ্রফের হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল৷ এখনো পর্যন্ত তিনি সেই ধাক্কা পুরোপুরি সামলে উঠতে পারেননি৷ চিরকাল খেলাধুলা করেছেন, কখনো অসুস্থ হননি৷ ভাবতে পারেননি যে, নারী হিসেবে তার হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা থাকতে পারে৷ মার্টা বলেন, ‘‘আমি সারা জীবন ধরে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করেছি, কখনো মদ্যপান ও ধুমপান করিনি৷ অর্থাৎ, সত্যি বলতে কি সুস্বাস্থ্যের সব পূর্বশর্তই পূরণ করেছি৷ হৃদযন্ত্রে কখনো কোনো ব্যথা অনুভব না করায় আগে থেকে কিছু বুঝতেও পারিনি৷''

হার্ট অ্যাটাক সাধারণত পুরুষদের সমস্যা হিসেবেই পরিচিত৷ কিন্তু বাস্তবে তা সত্য নয়৷ উচ্চ রক্তচাপ থাকলে নারীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় কার্যত অনেক বেড়ে যায়৷ হার্ট অ্যাটাক হলে নারীদের মৃত্যুর হারও পুরুষদের তুলনায় বেশি৷

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ কাটেরিন গেবহার্ড এমন অবস্থা বদলাতে চান৷ তিনি নারী ও পুরুষের হৃদযন্ত্র নিয়ে গবেষণা ও সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন৷ তিনি বলেন, ‘‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ ক্ষেত্রে বিশাল ফারাক রয়েছে৷ এক সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী ৮৫ শতাংশ পুরুষ ও মাত্র ১৫ শতাংশ নারী হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন৷ তবে যথেষ্ট তথ্য ও গবেষণা না থাকায় পুরুষদের তুলনায় নারীদের অনেক বেশি পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার চিত্র উঠে আসে না৷ কার্যক্ষেত্রে সেই হার দেড় থেকে দুই গুণ৷ হাসপাতালে যে নীতিমালা অনুসরণ করা হয় অথবা পুরুষদের ক্ষেত্রে যে স্বাভাবিক মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়, সেগুলি নারীদের কথা ভেবে তৈরি হয়নি৷''

ঠিক সময়ে উপসর্গ শনাক্ত করতে না পারায় মার্টা শ্রফের মতো অনেক নারীই দেরি করে ফেলেন৷ মার্টার ভাগ্য অবশ্য ভালো ছিল৷

চিকিৎসাবিদ্যায় নারী ও পুরুষের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে৷ হৃদযন্ত্রের ক্ষেত্রে তা স্পষ্ট চোখে পড়ে৷ যেমন বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীদের হৃদযন্ত্র সংকুচিত হয়ে পড়ে৷ অন্যদিকে পুরুষদের হৃদযন্ত্র বরং সামান্য বড় হয়ে যায়৷

স্ট্রেস বা মানসিক চাপের মুখে নারীদের হৃদযন্ত্র তুলনামূলকভাবে বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বলে কাটেরিন গেবহার্ডের ধারণা৷ ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সি ৩২ জন করে নারী ও পুরুষের উপর গবেষণা চালিয়ে তিনি হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে আরো জানার চেষ্টা করছেন৷

নতুন ধরনের এক হাইব্রিড স্ক্যানার সফট টিস্যু ও ক্রিয়া সমানভাবে দৃশ্যমান করে তুলতে পারে৷ ফলে হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে সম্পর্ক আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করা যাচ্ছে৷ পরীক্ষার সময় গেবহার্ড স্বেচ্ছাসেবীদের ধারাবাহিক মানসিক চাপের মুখে রেখেছিলেন৷ সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে কাটেরিন বলেন, ‘‘আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, যে মস্তিষ্কে ভয়ের অনুভূতির জায়গা হিসেবে পরিচিত অ্যামিগডালার দুটি অংশে অনেক পরিমাণ পদার্থ সরবরাহ করা হয়েছে৷ ভয়ের কেন্দ্র অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে৷ এখানে হৃদযন্ত্রও দেখা যাচ্ছে৷ পরীক্ষার সময়ে স্ক্যানারের মাধ্যমে সেটা রেকর্ড করা সম্ভব৷ স্ট্রেসের ফলে হৃদযন্ত্রের একটি অংশ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে৷ ফলে রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটেছে৷ হার্ট অ্যাটাক ঘটলে গোটা প্রক্রিয়াটি নারীদের জন্য অনেক বেশি মারাত্মক হতে পারে৷''

অর্থাৎ নারীদের ক্ষেত্রে স্ট্রেস হৃদরোগের উপর বিশাল প্রভাব রাখতে পারে৷ নিজের গবেষণার মাধ্যমে গেবহার্ড নারীদের চিকিৎসা পদ্ধতি আরও অনেক কার্যকর করে তুলতে চান৷ তার মতে, চিকিৎসার সময় এই স্ট্রেসের অবস্থা বিবেচনা করে নারীদের স্ট্রেস কমানোর জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে৷

হার্ট অ্যাটাকের পর মার্টা শ্রফ এখনো দুর্বল বোধ করছেন৷ তার হৃদযন্ত্র আদৌ পুরোপুরি সেরে উঠবে কিনা, সে বিষয়েও তিনি নিশ্চিত নন৷ হৃদযন্ত্রকে ঘিরে জেন্ডার-ভিত্তিক গবেষণা তার জন্য অনেক দেরিতে শুরু হয়েছে৷

মার্টিনা মিট/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক