হারিয়ে যাচ্ছে মরক্কোর মরুদ্যান ও কৃষিজমি | অন্বেষণ | DW | 07.10.2020
  1. Inhalt
  2. Navigation
  3. Weitere Inhalte
  4. Metanavigation
  5. Suche
  6. Choose from 30 Languages
বিজ্ঞাপন

অন্বেষণ

হারিয়ে যাচ্ছে মরক্কোর মরুদ্যান ও কৃষিজমি

জলবায়ু পরিবর্তন এখনো অনেকের জন্য তাত্ত্বিক বিতর্কের বিষয় হলেও কিছু মানুষের অস্তিত্ব বিষয়টির উপর নির্ভর করছে৷ মরক্কোর একটি অঞ্চলের মানুষ দ্রুত এই সংকটের কুপ্রভাব টের পাচ্ছেন৷

হালিম সাবাই মরক্কোর দক্ষিণেই বড় হয়েছেন৷ তিনি মরুভূমির উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দেখাতে চান৷ তাঁর কাছে যাবার পথে মরুদ্যান পড়ে বটে, তবে তার বিশেষ কিছু অবশিষ্ট নেই৷

এক পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে তিনি এক মৃত খেজুর গাছ কেটে আসবাব তৈরির জন্য কাঠ সংগ্রহ করতে চান৷ কারণ, গাছে বহুদিন ধরে খেজুর হচ্ছে না৷ এগিয়ে আসা বালুর থাবায় গাছপালা আর টিকে থাকতে পারছে না৷ হালিম বলেন, ‘‘আমরা যেন এই খেজুর গাছকে শেষবারের মতো সম্মান জানাচ্ছি৷ এটা আসলে এক গোরস্তান৷ গাছের অবশিষ্টই শুধু রয়ে গেছে৷’’

জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব

এই মরুদ্যান মরুভূমির বালুতে ডুবে যাচ্ছে৷ কয়েক বছর ধরে উত্তাপ বেড়ে যাচ্ছে, বৃষ্টিপাত কমে চলেছে৷ বালুর ঝড়ও আরও ঘনঘন দেখা যাচ্ছে৷ হালিমের বাবা সেখানে গাছ পুঁতে খেজুর বেচে ভালই রোজগার করতেন৷ হালিম বলেন, ‘‘এখানে কেন এই গোরস্তান রয়েছে? উত্তরটা খুব সহজ৷ পানির অভাব৷ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই অভাব দেখা যাচ্ছে এবং মরুভূমি বেড়ে চলেছে৷’’

ভিডিও দেখুন 05:24

মরক্কোয় চাষিদের জন্য জলবায়ু বিমা! (০৬.০৮.২০১৮)

সাহারা মরুভূমির প্রান্তে মহামিদ এল গিজলান গ্রামে মরুদ্যানের সামান্য অংশ এখনো অবশিষ্ট রয়েছে৷ সামান্য কিছু টুকরো জমিতে এখনো চাষবাস করা সম্ভব৷ চাষি হিসেবে লাহবিব বাহাদির ছোট সবজির খেত রয়েছে৷ ৬১ বছর বয়সি লাহবিবের ১১ জন সন্তান রয়েছে৷ তাদের মধ্যে বেশিরভাগই অঞ্চল ছেড়ে চলে গেছে৷ তিনি জানেন না, খেতে আর কতকাল ফলন হবে৷ নিজস্ব কুয়ো থাকলেও পানির জন্য তাঁকে আরও গভীরে মাটি খুঁড়তে হচ্ছে৷ লাহবিব মনে করেন, তরুণ প্রজন্মকে অন্য কোথাও কাজ খুঁজতে হবে৷ শুধু বয়স্কদের প্রজন্মই এখানে টিকে রয়েছে৷

বালুর পাহাড় সবজির খেতের কাছেই এগিয়ে এসেছে৷ হাতে গোনা কয়েকটি খেজুর গাছ এখনো মরুদ্যানের কথা মনে করিয়ে দেয়৷ গ্রামে বর্তমানে মাত্র প্রায় সাত হাজার মানুষ বসবাস করছেন৷ বেশিরভাগ মানুষই গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন৷

আফ্রিকার উত্তরের ভয়াবহ পরিস্থিতি

হালিম সাবাই-এর একটা ছোট ক্যাফে রয়েছে৷ তিনি পর্যটকদের গাইড হিসেবেও কাজ করেন৷ নিজের জন্মস্থানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তাঁকে উদ্বেলিত করে৷ রসায়নবিদ মেরইয়েম তানার্তে কাসাব্লাংকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছেন৷ পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে যে বাকি বিশ্বের তুলনায় আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা দ্বিগুণ বেড়ে যাবে৷ মেরইয়েম মনে করেন, ‘‘বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে মরুভূমির জলবায়ু আরও উত্তপ্ত হয়ে পড়বে৷ সবকিছু ভালো থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা দুই থেকে তিন ডিগ্রি বাড়বে৷’’

বিগত একশো বছরে মরোক্কোর মরুদ্যানের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ লোপ পেয়েছে৷ হালিম ও অন্য চাষিরা মরুভূমির সম্প্রসারণ মোকাবিলা করতে ঝোপঝাড় ও গাছপালা লাগাচ্ছেন৷ নেদারল্যান্ডসে তৈরি ‘ওয়াটারবক্স’ নামের এক জৈব প্লাস্টিকের টব সেই কাজে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে৷ তার মধ্যে চারা বসিয়ে মাটিতে পুঁতে দেওয়া হয়৷ তারপর ওয়াটারবক্সে অনেক পানি ঢালতে হয়৷

মরুভূমির মোকাবিলায় মরিয়া প্রচেষ্টা

কয়েক মাসের জন্য নিজস্ব প্রাকৃতিক পানির ট্যাংকের কল্যাণে গাছের টিকে থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যায়৷ গাছপালা ও ঝোপঝাড়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সাহারার শেষ উর্বর খেতগুলি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে৷ হালিম সাবাইয়ের মতে, ‘‘এটা বিশ্বের জন্য অশনিসংকেত৷ কিছুকাল পর এখানে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না৷ মরুভূমি দ্রুত আমাদের মরুদ্যান গ্রাস করে নেবে৷’’

গ্রামের কাছেই মরোক্কোর সবচেয়ে বড় মরুভূমি এর্গ চেগেগা অবস্থিত৷ পর্যটকদের কাছে জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়৷ বিশাল বালিয়াড়িগুলি সতর্কবাণী বয়ে আনছে৷ কারণ সেগুলি বলগাহীনভাবে বেড়ে চলেছে৷ মরুভূমি হালিম ও অন্যান্যদের ভিটেমাটি গ্রাস করে নিচ্ছে৷

স্টেফান শাফ/এসবি

নির্বাচিত প্রতিবেদন

ইন্টারনেট লিংক

বিজ্ঞাপন